October 21, 2019, 5:13 am

১১ হাজার ৮০৬ ভরি সোনা সাদা করলেন চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ীরা

Spread the love

১১ হাজার ৮০৬ ভরি সোনা সাদা করলেন চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ীরা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনের স্বর্ণমেলায় ১১ হাজার ৮০৬ ভরি সোনা কর দিয়ে বৈধ বা সাদা করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। বৈধ করতে ব্যবসায়ীরা মোট কর দিয়েছেন ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া ৫ হাজার ১২ ভরি রুপা এবং ১ হাজার ৭১৭ ক্যারেট হীরা বৈধ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

কর অঞ্চল খুলনায় গত ২৪ ও ২৫ জুন দুই দিন স্বর্ণমেলার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চুয়াডাঙ্গার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নেন। মেলায় নিবন্ধিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের অঘোষিত ও মজুত সোনা, স্বর্ণালংকার, হীরা ও রুপার ঘোষণার বিপরীতে কর পরিশোধ করে তা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ব্যবসায়ী স্থানীয় সমবায় ভবনে অবস্থিত সার্কেল-৯, চুয়াডাঙ্গা, কর অঞ্চল-খুলনার উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে কর পরিশোধ করেছেন। তাঁরা ২৪ থেকে ৩০ জুন পে-অর্ডারের মাধ্যমে তাঁদের রিটার্ন দাখিল করেন।

উপকর কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা জেলায় নিবন্ধিত জুয়েলার্স সমিতির ১২০ জন সদস্য সোনা, রুপা ও হীরা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন। মেলায় তাঁরা ১১ হাজার ৮০৬ ভরি সোনা, ৫ হাজার ১২ ভরি রুপা এবং ১ হাজার ৭১৭ ক্যারেট হীরার মজুত দেখিয়ে কর পরিশোধ করেছেন। একক হিসাবে একজন ব্যবসায়ী ৫ হাজার ৯০৬ ভরি সোনা ও ১ হাজার ১৩২ ক্যারেট হীরা সাদা করতে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা কর পরিশোধ বৈধ করেছেন। আবার সর্বনিম্ন ১ ভরি সোনা ও ১০ ভরি রুপার বিপরীতে ১ হাজার ৫০০ টাকা কর দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আয়কর) স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী শর্তপূরণ সাপেক্ষে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারীদের কাছে অঘোষিত বা অবৈধভাবে থাকা সোনা ও স্বর্ণালংকার, কাট ও পালিশ করা হীরা এবং রুপার উপর প্রদেয় আয়কর হ্রাসের ঘোষণা দেয়। গত ২৮ মে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনা ও স্বর্ণালংকারের জন্য এক হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পালিশ করা হীরার জন্য ছয় হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রুপার জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল হাসান জোয়ার্দার  বলেন, স্বর্ণ নীতিমালা তৈরি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এই নীতিমালার আলোকে অপ্রদর্শিত সোনা ও স্বর্ণালংকার কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

সহকারী কর কমিশনার তোফায়েল আহমেদ জানান, সরকারের উদ্যোগ সফল করতে গত ১৯ জুন জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। এ জেলায় আশানুরূপ সাড়া মিলেছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা স্বর্ণমেলা উপলক্ষে আয়োজিত সুযোগ নেননি, তাঁদের বিষয়ে এনবিআর থেকে এখনো নির্দেশনা আসেনি। তবে শুনেছি, অবৈধ মজুত অনুসন্ধানে অভিযান শুরু হবে।’

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ