August 20, 2019, 10:10 pm

হোয়াইট হাউজে প্রিয়া সাহার বক্তব্য তার নিজস্ব: রানা দাশগুপ্ত

Spread the love

হোয়াইট হাউজে প্রিয়া সাহার বক্তব্য তার নিজস্ব: রানা দাশগুপ্ত

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নিপীড়নের’ যে অভিযোগ করেছেন তা একান্তই তার নিজস্ব বক্তব্য, সংগঠনের নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা। তার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। তার ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে আলোচনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম ওই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ওই নারী কেন এটা করেছেন তা তিনি খতিয়ে দেখবেন।  আর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, আট মাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশে যে ধর্মীয় স্বাধীনতা তিনি দেখেছেন তা বিশ্বের জন্য ‘দৃষ্টান্ত’ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক তিন দিনের ওই সম্মেলনের সমাপনীতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও বক্তব্য দেন। তার আগে বুধবার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হোয়াইট হাউজে যান। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়াজিদি নারী নাদিয়া মুরাদসহ ওই প্রতিনিধি দলের অনেকেই নিজের দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন।  এর মধ্যে প্রিয়া সাহা বলেন, “প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন- কারা তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, জমি কেড়ে নিয়েছে। উত্তরে প্রিয়া বলেন, তারা মুসলিম মৌলবাদী, তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

ফেইসবুকে ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও আসার পর প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় নানামুখী আলোচনা। অনেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন। কেউ কেউ তীব্র অশোভন ভাষা ব্যবহার করেন। এই আলোচনার মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ফেইসবুক পোস্টে প্রিয়ার বক্তব্যের নিন্দা জানান।

বাংলাদেশকে ‘ধর্মীয় সম্প্রতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী সেখানে লেখেন, অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে বা না বুঝে এটার ক্ষতি করে ফেলেন। সবার উচিত এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা। প্রিয়ার অভিযোগুলো সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে জানিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমালোচনা করছেন। এটাও ঠিক নয়। যেমনটি নয় প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ। সমাজের সকল স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে যার যোগাযোগ তার একইরকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা যেসব কথা বলেছেন, তা বাংলাদেশের হাজার বছরের চেতনা বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করার সামিল।  প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রিয়া সাহার এই মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করছে। রাতে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  তিনি বলেন, তার সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল।

পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী ছিলন ওই প্রতিনিধি দলে। এর বাইরে আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না। রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা তিনি জেনেছেন গত শুক্রবার গণমাধ্যম থেকে। এর মধ্যে প্রিয়া সাহার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি বলেন, তিনি যা বলেছেন, এটা তার একান্ত নিজস্ব বক্তব্য, সাংগঠনিক বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নয়। ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রিয়া আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার গত শুক্রবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধ বিহারে এক অনুষ্ঠানে গেলে সাংবাদিকরা তাকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি এবং দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠিয়েছিল। সেখানে প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

তবে মিলার বলেন, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে আসার পর গত আট মাসে সবগুলো বিভাগ ঘুরে এবং প্রধান চার ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে তার ধারণা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দেখিয়েছে। আপনি কীভাবে উপাসনা করেন, কীভাবে প্রার্থনা করেন, স্রষ্টাকে আপনি কেমন করে অনুভব করেন-এই সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে অন্য ধর্মের মানুষকে শ্রদ্ধা করতে পারাটা বিশ্বের জন্যই একটা দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মসজিদ, মন্দির, গির্জা আর প্যাগোডা ঘুরে ইমাম, পুরোহিত আর পাদ্রিদের কাছ থেকে একটি বার্তাই তিনি পেয়েছেন,ঐক্যবদ্ধ না থাকলে কোনো দেশের পক্ষেই উন্নতি করা সম্ভব না। এটা আমার দেশের জন্য একটা শিক্ষানীয় বিষয়, পুরো বিশ্বের এখান থেকে শেখার আছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ