June 13, 2019, 6:52 pm

প্রতিকি ছবি

হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে-ওসি কোতয়ালী এক থাপ্পরেই হাসপাতালে হত দরিদ্র আম বিক্রেতা মানিক, সেখান থেকে না ফেরার দেশে!

Spread the love

মো: রোস্তম আলী সরকার,রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

প্রতিকি ছবি

রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র, রাজা রামমোহন ক্লাব মার্কেট বিপণি বিতান-এর সামনের ফাঁকা স্থানে আম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো ক্ষুদে ব্যবসায়ী হতদরিদ্র মানিক। প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবারেও বাই সাইকেলে করে আম বিক্রয় করা কালীন রামমোহন বিপণি বিতান মার্কেটের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিসিলি থাই চাইনীজ রেস্টুরেন্টের মালিকগণের মধ্যে একজন আলতাফ হোসেন তৃতীয় তলায় হোটেল ব্যবসা করলেও প্রায়ই নিচে এসে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন, সেই আলতাফ হোসেন অন্যান্য দিনের মত মার্কেটের সামনে এসে আম ব্যবসায়ী মানিক মিয়া (৪০) কে প্রথমে ওই স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন কিন্তু আম বিক্রেতা মানিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলায় সেখান থেকে সরে যেতে সামান্য বিলম্ব হয়। বিলম্ব হওয়ার কারণে আলতাফ হোসেন মানিকের কানে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে থাপ্পর মারে, এক থাপ্পরেই মানিকের কানের পর্দা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিককে তার পূর্বপরিচিত লোক দ্বারা বাসায় পাঠিয়ে দেয়। আহত মানিক বাসায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইদিন পার না করতেই আম বিক্রেতা মানিক মৃত্যুবরণ করেন। আম ব্যবসায়ী মানিক এর মৃত্যুর খবর ওই মার্কেট এলাকায় পৌঁছলে মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা আলতাবের তৃতীয় তলায় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হামলার উদ্দেশ্যে জোট বেঁধে রামমোহন মার্কেটে প্রবেশ করতে যায়, সোমবার সকালে এ হামলার সময় মার্কেটের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় উত্তেজিত জনগণ সামনে রক্ষিত চেয়ারসহ আনুষাঙ্গিক দ্রব্যাদি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাৎক্ষণাৎ মার্কেটে স্থলে এসে উপস্থিত লোকজনকে সরিয়ে দেন আলতাবের থাপ্পড়ে মানিকের মৃত্যুর খবরটি নগরজুড়ে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়। অপরদিকে মৃত মতিউর রহমানের ছেলে আম ব্যবসায়ী মানিক এর বাড়ি নগরীর ভেলু গ্রামে, সেখানে মানিককে দাফন করার উদ্দেশ্যে অতিদ্রুত জানাজা সম্পন্ন করা হলে পুলিশ খবর পেয়ে মািিনকের বাড়িতে গিয়ে লাশ দাফন না করে পোস্ট মডেম-এর উদ্যোগ নেন। সে সময় থাপ্পর দানকারী আলতাফের পক্ষের কয়েকজন তদবিরকারক মৃতের স্ত্রী দুই সন্তানের জননীকে সন্তানদের ভবিষ্যত গঠনের নগদ অর্থ প্রদানের আশ্বাস প্রদান করলে স্ত্রী পুলিশকে ও উপস্থিত লোকজনের সম্মুখে বলেন, আমি মামলা করব না কারণ মামলা করলেও আমার স্বামী তো আর ফিরে আসবেনা। মানিকের স্ত্রীর মামলা না করার অঙ্গীকারে পুলিশ লাশ দাফনের অনুমতি দিলে পরিজনসহ গ্রামবাসী তার লাশ দাফন করে। এদিকে সময় যতই বাড়তে থাকে বিষয়টি ততই ছড়াতে থাকে। খবর পেয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকরা সেখানে গেলে হোটেল ব্যবসায়ী আলতাফ গা ঢাকা দেয়। প্রাইভেট ডিটেকটিভ প্রতিনিধি এ ব্যাপারে কোতয়াালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনে বাধা দিয়েছিলাম কিন্তু উপস্থিত গ্রামবাসীর সামনে মৃতের স্ত্রীর মামলা না করার অঙ্গীকারে লাশ দাফনের অনুমতি দিই। এ সময় প্রতিনিধি কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন বিষয়টি কি এখানেই শেষ, উত্তরে ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে ওই হোটেল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এমন অসদাচরণের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি যেহেতু আমার থানা এলাকায় ঘটেছে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য আমরা জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাব। আপাতত আমরা অভিযুক্ত আলতাফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি নাই, কিন্তু যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত আছে। একজন গরীব অসহায় আম ব্যবসায়ীর এই অকাল মৃত্যু স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিধি কথা বলেন, রামমোহন মার্কেটের একজন কম্পিউটার ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওই ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভাই আলতাফ মিয়ার ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ এই মার্কেটসহ এই এলাকার কোন ব্যক্তি নাই যার সাথে ওনার সম্পর্কের অবনতি ঘটে নাই, ওই কম্পিউটার ব্যবসায়ীর কথার সূত্র ধরে প্রতিনিধি কথা বলেন, রামমোহন বিপণি বিতান মার্কেট-এর সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সঙ্গে ব্যবসায়ীী নেতা ফারুক হোসেন প্রতিনিধিকে বলেন ভাই আমরা একটা ব্যাপার বুঝিনা আলতাফ মিয়াার দোকান তৃতীয় তলায় তিনি কেন প্রায় সময় এসে মার্কেটের বাহিরে রাস্তার লোকজনের সঙ্গে গন্ডগোল পাকান? কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মতো তিনিও একই কথা বললেন। এই মার্কেটের এমন কোন ব্যবসায়ী নেই যার সঙ্গে ওনার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সব কিছু মিলে আমরা মার্কেট-এর সকল ব্যবসায়ী ব্যবসা করে আসছি কোন বিভেদ নেই অথচ একজন ব্যবসায়ী আলতাফ মিয়া সকলের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করেন। মার্কেটের সামনে ফাঁকা করার জন্য ট্রাফিক আছে, পুলিশ আছে সর্বোপরি আমাদের মার্কেটে দারোয়ান আছে, তথাপিও তিনি কেন প্রতিদিন নিচে নেমে এসে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করেন? মৃত্যুর কারণ যাই হোক আমি আলতাফের আইনানুগ শাস্তি কামনা করছি।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ৪ জুন ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ