April 3, 2020, 9:52 pm

শিরোনাম :
নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করোনিয় বার্তা জনসাধারনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন আই, এইচ, সেবা প্রতিষ্ঠান যশোর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করার জন্য মেশিন দিলেন শাহীন চাকলাদার আলফাডাঙ্গায় ৪ শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কর্মহীন মানুষের মাঝে আলফাডাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ত্রাণ বিতরণ সুন্দরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত তাহিরপুরে জানখালি নদী থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলণ: হুমকির মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কুয়াকাটায় বাকিতে না দেওয়ায় কৃষককে মারধর করে তরমুজ লুট করেছে সন্ত্রাসীরা উপকুলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠে নেই এনজিও সংস্থা গুলো কলাপাড়ায় করোনা সন্দেহে দুই জনের নমুনা সংগ্রহ,লক ডাউনে দু’টি বাড়ি রাজারহাটের ইউএনও যোবায়ের হোসেন যেন মানবতার ফেরিওয়ালা

সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: প্রসঙ্গ হিন্দু-মুসলিম বিয়ে

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  ফের যুগান্তকারী রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট৷ কেরালের ২৪ বছরের যুবতী হাদিয়ার বিয়ে সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, কোনো সাবালক মহিলার বৈবাহিক বিষয়ে কারও মত প্রকাশের অধিকার নেই৷ বিষয়টি একান্তই তাঁর এবং স্বামীর ব্যক্তিগত বিষয়৷

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরে৷ কেরলের একটি হোমিওপ্যাথি কলেজের ছাত্রী ছিলেন হিন্দু পরিবারের সন্তান অখিলা অশোকান৷ সেখানেই তাঁর প্রণয় হয় এক মুসলিম ছাত্র শাফিন জাহানের সঙ্গে৷ এর কিছুদিন পর অখিলা-শাফিন বিয়ে করেন৷ ধর্মান্তরিত হওয়ায় বিয়ের পর অখিলা অশোকানের নাম হয়ে যায় হাদিয়া জাহান৷ বিয়ের পর শাফিন-হাদিয়া একসঙ্গে থাকতেও শুরু করেন৷ হাদিয়ার পরিবার বিয়েটি মেনে নেয়নি৷ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়৷ অভিযোগে বলা হয়, এটি একটি ‘লাভ জিহাদ’এর ঘটনা৷তাঁদের দাবি, অখিলা, অর্থাৎ হাদিয়াকে ভুল বুঝিয়ে ধর্মান্তরিত করেছেন শাফিন৷ এখন তাঁদের মেয়েকে সিরিয়া অথবা ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও অভিযোগপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়৷

সেখানে আরো বলা হয়, সিরিয়া বা ইরাকে নিয়ে হাদিয়াকে আইএস জঙ্গিদের ক্যাম্পে রাখা হবে৷ মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত৷ কেরালা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি৷ সুতরাং, হাদিয়া এবং শাফিনের বিয়ে এখনই মান্যতা পাচ্ছে না৷ হাদিয়াকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাপের বাড়িতে৷

এরপরেই কেরালা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন শাফিন এবং হাদিয়া৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চে ওঠে মামলা৷ প্রথম শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, হাদিয়ার মামলাটি স্পর্শকাতর এবং তাঁর সঙ্গে যে ব্যবহার হয়েছে, তা সংবিধানসম্মত নয়৷ হাদিয়াকে ফের কলেজে গিয়ে ক্লাস শুরু করতে বলা হয়৷ বস্তুত, হাদিয়ার যাতে ক্লাস করতে কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে হোমিওপ্যাথি কলেজটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল৷

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, দুই সাবালকের বিয়ের বিষয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মত প্রকাশের অধিকার নেই৷ হাদিয়া এবং শাফিন দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক৷ তাঁদের নিজেদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই৷ ফলে তাঁরা একসঙ্গে থাকতেই পারেন৷ এখানে ‘লাভ জিহাদ’এর প্রসঙ্গ টেনে আনার কোনো অর্থ নেই৷ যদি তাঁদের কারও সঙ্গে আইএস’এর মতো জঙ্গি সংগঠনের সম্পর্ক থাকে, তাহলে তা নিয়ে আলাদা মামলা হতে পারে৷ এনআইএ তদন্তও করতে পারে৷ কিন্তু তাই বলে দু’জনকে আলাদা থাকার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে না৷

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘লাভ জিহাদ’ শব্দ দু’টি ঘুরে বেড়াচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশের বাতাসে৷ কোনো কোনো সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিম সংগঠনগুলি ভালোবাসার মাধ্যমে হিন্দু মহিলাদের ধর্মান্তরিত করছে৷ উত্তরপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একদা ‘লাভ জিহাদ’এর বিরুদ্ধে একটি দলও তৈরি করে ফেলেছিলেন৷ অভিযোগ, ‘লাভ জিহাদ’ বন্ধ করার নামে সংখ্যালঘু অঞ্চলে তারা হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালাতো৷ হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের মতো অঞ্চলে ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে বহু জলঘোলা হয়েছে৷ বহু মিশ্র ধর্মের বিয়ের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে৷ দম্পতিকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করা, মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে৷

সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো সাবালক ব্যক্তির নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার অধিকার আছে৷ পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷বিশেষজ্ঞেরা মনে করেছিলেন, ‘লাভ জিহাদ’,

‘অনারকিলিং’ ইত্যাদি বিষয়গুলি মাথায় রেখেই সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় দিয়েছিল৷ হাদিয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আরও একবার সেই কথাই স্পষ্ট হলো৷যদিও এনআইএ’এর দাবি এ বিষয়ে তাদের তদন্ত অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে৷ কীভাবে ধর্মান্তরিত করে ভারতীয় মহিলাদের জঙ্গি কার্যকলাপে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের তদন্ত চলছে৷ কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য, দু’টি তদন্তের বিষয় এক নয়৷ জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তদন্ত চলতেই পারে৷ কিন্তু তার সঙ্গে দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে জড়ানো কখনোই সংবিধান সম্মত নয়৷

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ