January 14, 2020, 3:47 pm

শিরোনাম :
শার্শার নাভারণে রুগ্ন গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়নের নামে মেয়র লিটনের ভাগ্যের উন্নয়ন বকশিগঞ্জে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত পাঁচ মিনিটের ভিডিও ক্লিপ ধারণের জন্য অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতি আহবান বেনাপোলে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রংপুরের পীরগঞ্জে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে যুবক মিলন মিয়া প্রহ্রত হয়েছে সাত বছরেও ফেরেননি তারা যশোরে পাচারকারীকে ধরিয়ে দিল পুলিশে চিলমারীতে ইউপি সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু সুন্দরগঞ্জে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ভোলায় অপহৃত দুই জেলে উদ্ধার,দস্যু আটক

সাত বছরেও ফেরেননি তারা যশোরে পাচারকারীকে ধরিয়ে দিল পুলিশে

Spread the love

ইয়ানূর রহমান,শার্শা (যশোর) প্রতিনিধিঃ

যশোরের চৌগাছায় দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে একই পরিবারের চারজনসহ সাত জন ৷মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা আর ফেরেননি পরিবারে।ঘটনার প্রায় সাত বছর পর রবিবার রাতে এক দালালকে চৌগাছা শহর থেকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় রবিবার রাতেই নিখোঁজ অমিত হাসান মুকুলের পিতা আতিয়ার রহমান চৌগাছা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৭ ধারায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ এ মামলায় পরিবারের লোকদের হাতে আটক দালাল ফজলুর রহমান রাজুকে (৪৮) গ্রেফতার করে।চৌগাছা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুক্তদহ গ্রামের একই পরিবারের অমিত হাসান মুকুল (৩০), আজিজুর রহমান (৪০), ফুলজার হোসেন (৪৬), শরিফুল ইসলাম খোকন (৪০) ও একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম (২৭), রোস্তমপুর গ্রামের রমজান আলী (৪৫) ও দুর্গাবরকাটি গ্রামের লিটন হোসেন (২৭), ২০১৩ সালের ১ জুন মালায়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা না ফেরায় নিখোঁজদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। উৎসব-পার্বন এলেই কান্নার রোল পড়ে যায় বাড়ি গুলোতে। দীর্ঘদিন বাড়ির অভিভাবকরা নিখোঁজ থাকায় চরম দারিদ্র্য গ্রাস করেছে পরিবার গুলোতে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এক পর্যায়ে নিখোঁজ ফুলজার হোসেনের স্ত্রী রূপভান ২মেয়ে এবং শরিফুলের স্ত্রী রেশমা বেগম ৩ মেয়ের ভরণপোষণের জন্য স্থানীয় ডিভাইন গার্মেন্টসে কাজ নিতে বাধ্য হয়েছে। অল্প টাকায় (সে সময়ে জন প্রতি ৩ লাখ টাকায়) মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রলোভনে দরিদ্র পরিবারের এসব ব্যক্তিরা আদম ব্যাপারীর খপ্পড়ে পড়েন।মুক্তদহ গ্রামে বিয়ে সূত্রে বসবাসকারী সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপোতা গ্রামের ফজলুর রহমান রাজু তাদেরকে ফুসলিয়ে পানিপথে মালায়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানোর পর থেকে আজও তারা নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১৩ সালের ১ জুন বাড়ি থেকে একযোগে বের হন তারা। ১২ জুন অমিত হাসান মুকুল বাড়িতে ফোন করে বলেন, ‘আমরা সবাই পানিপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছি। ট্রলারে উঠেছি, এখনই রওনা দেব।’ ওই কথাই ছিল তাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের শেষ কথা।মুকুলের স্ত্রী চামেলী খাতুন বলেন, ‘যে নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছিল সেই নাম্বার বন্ধ পেয়েছি। বারবার চেষ্টা করেও ফোনে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর ছয়টি বছর কেটে গেলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অতিকষ্টে দিন কাটছে আমাদের।’
নিখোঁজ শরিফুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী রেশমা বেগম তার ৩ মেয়ে এবং ফুলজার রহমানের স্ত্রী রূপভান বেগম ২ মেয়ের লালন পালনের জন্য স্থানীয় ডিভাইন গার্মেন্টসে কাজ নিতে বাধ্য হয়েছেন।তারা দুজন এবং আজিজুর রহমানের মা মনোয়ারা বেগম (৬০) হতাশ কণ্ঠে বলেন, অনেক চেষ্টা করেও তাদের খোঁজ পায়নি। এদের মধ্যে নিখোঁজ আজিজুর রহমানের স্ত্রী দুটি সন্তান ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন। দাদীর কাছে থেকেই তারা অতি কষ্টে জীবন পার করছে। তাদের পিতা আদৌ বেঁচে আছে না-কি মারা গেছে তাও জানেন না অবুঝ এই শিশুরা।নিখোঁজের তিন মাস পর তারা মুক্তদহ গ্রামের ঘরজামাই আদম ব্যাপারী রাজুর কাছে যান। স্বজনদের ফেরত পেতে চাপ দিতে থাকেন। এ সময় রাজু তার সহযোগী চট্টগ্রামের টেকনাফের অপর আদম ব্যাপারী রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেন। টেকনাফের দালাল রাশিদুল তাদেরকে বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই, তারা দুই-এক দিনের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় পৌঁছে যাবেন। কিছুদিন পরই মুক্তদহ গ্রামের ঘরজামাই দালাল রাজু তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে রাতের আঁধারে আত্মগোপনে চলে যান। পরে টেকনাফ ও মুক্তদহ গ্রামের দালালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রাজু একই উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে রনি বেগমকে বিয়ে করে। সেখানে যাতায়াত করলেও নিখোঁজদের পরিবারগুলো তা জানতো না।দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর রোববার রাতে রাজুকে চৌগাছা বাজারে দেখতে পেয়ে ওই পরিবারের সদস্যরা ধরে মুক্তদহ গ্রামে নিয়ে যায়। পরে তাকে চৌগাছা থানায় সোপর্দ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।এ ঘটনায় অমিত হাসান মুকুলের পিতা আতিয়ার রহমান চৌগাছা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৭ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলায় টেকনাফের দালাল রাশেদুল ইসলাম এবং অজ্ঞাত দালাল আলমকে আসামী করা হয়।পুলিশ মামলায় ফজলুর রহমান রাজুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে।নিখোঁজ মুকুলের পিতা আতিয়ার বলেন, ঘটনার প্রথম দিকে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজ করেছি। কিন্তু আদম ব্যাপারীদের কোনো সন্ধান পাইনি। আমার ছেলেসহ চৌগাছার ৭জন ছাড়াও ঝিকরগাছা উপজেলার আরো আটজন এই দালালদের খপ্পরে পড়ে পানিপথে মালায়েশিয়ায় রওনা দেন। প্রায় সাত বছর পার হতে চললেও কারো কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে রোববার সন্ধ্যায় দালাল রাজুকে চৌগাছা বাজারে দেখতে পেয়ে কৌশলে আমাদের গ্রামে নিয়ে যায়। অনকে জিজ্ঞাসাবাদেও সে কোন জবাব দেয়নি। অবশেষে আমরা তাকে পুলিশে দিয়েছি এবং মামলা করেছি।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৪ জানুয়ারি ২০২০/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ