August 21, 2019, 4:20 am

সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম করে দেখানো হয়: মান্না

Spread the love

সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম করে দেখানো হয়: মান্না

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্ধৃতি দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অত্যন্ত কম করে দেখানো হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সব রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে নেই। চিকিৎসা নিতে আসা মাত্র ২ শতাংশ রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে পড়ে। ৯৮ শতাংশের কোনও তথ্য থাকে না। আবার, আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই চিকিৎসা নেন না। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ আয়োজিত ‘দেশের সার্বিক বিরাজমান পরিস্থিতিÑ উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব বলেন। মন্ত্রী ও মেয়র অনর্থক বিরোধী দলীয় রাজনীতিকে দোষারোপ করছেন মন্তব্য করে মান্না বলেন, ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের কারণে দেশ আজ এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। সারাবিশ্বের মিডিয়ায় বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছেÑ এটা এরমধ্যেই মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। দেশের সবকটি জেলা এখন ডেঙ্গু কবলিত। পত্রিকান্তরে প্রকাশ এপর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগে আমরা দেখেছি, এই ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র কী বাগাড়ম্বর করেছেন। তারা অনর্থক বিরোধী দলীয় রাজনীতিকে দোষারোপ করেছেন। মান্না আরও বলেন, আমরা পত্রিকায় দেখেছি, ডেঙ্গুর ব্যাপারে আগাম সতর্কতা জানিয়ে হাইকোর্ট থেকে সিটি করপোরেশনকে নোটিশ দিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসেই। মার্চ মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতর দুই সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। কিন্তু কোনও কিছুই সরকারকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াতে পারেনি। তাই আজ আমরা এই ডেঙ্গু মহামারির সম্মুখীন হয়েছি। সরকারি হিসাবেই এখন প্রতিদিন ২০০০ এর বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এদের (সরকার) হাতে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। এরা এখন পর্যন্ত মশা মারার কার্যকর ওষুধ আমদানি করতে পারেনি। কিন্তু মশা মারার নাটক করছে। বর্তমান ওষুধটি কার্যকর নয়, এমন রিপোর্ট গত দুই/তিন বছর ধরে পত্রিকায় দেখা গেলেও শুধুমাত্র পছন্দের কোম্পানিকে অন্যায়ভাবে কাজ পাইয়ে দেবার জন্য একই ওষুধ কেনা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনও ব্যবস্থা তো নেওয়াই হয়নি, বরং দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদেশে যান পারিবারিক সফরে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করে মান্না বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, ডেঙ্গুর সিজনের এখনও তিন মাস বাকি আছে। আগামি সেপ্টেম্বরে এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার কথা। এখনই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে সেই সময় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে সেটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতেও এখন পর্যন্ত একটা কার্যকর মশার ওষুধ আমদানি করে মশা মারার ব্যবস্থা করা যায়নি। এই ভয়াবহ ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রের এক্ষুনি পদত্যাগ করতে হবে। আলোচনা সভায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ