November 12, 2019, 8:05 am

শিরোনাম :
বুলবুল তাণ্ডব: শুধু ভোলায় ৫৭ হাজার জমির ফসল বিনষ্ট ভোলার উঃদিঘলদী ইউনিয়নে একশত পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক দূষিত রক্ত আর চাই না দলে -সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রামেই মিলবে শহরের সুবিধা -স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাঘাটায় স্কুল ছাত্রী অপহরণ করে ৭ দিন যাবৎ ধর্ষণ : ধর্ষক প্রিন্স মিয়া আটক পলাশবাড়ী পৌর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নত করার দাবী ব্যাপক ভোগান্তিতে পৌরবাসী বোয়ালমারীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চেয়ারম্যানসহ আহত ১০ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে মোরেলগঞ্জে ব্যাপক ক্ষতি বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আওয়ামীলীগ-যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগীও মারা যেত না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Spread the love

সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগীও মারা যেত না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বাড়তে থাকায় ‘মহামারি’ ঘোষণার যে দাবি উঠেছে তার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ইট ইজ নট আ ন্যাশনাল ক্রাইসিস। এটা এপেডেমিক ফর্মে (মহামারি আকারে) কিছু হয় নাই। এখানে আমরা কন্ট্রোল করতে পারছি এটা। আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এটা ইনশাল্লাহ কন্ট্রোল হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে করেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগীও মারা যেত না। আমাদের কাছে যত রোগী এসেছে, তারা সবাই ডিলে (দেরি) করে এসেছে। গাড়ি নিয়ে আসতে আসতে রোগীর অবস্থা খারাপ। বাড়িতে সাত আট দিন কাটাইছে, অন্য একটা জায়গায় কাটাইছে, যেখানে সঠিক ট্রিটমেন্ট দেয় নাই। একটা রোগীও মরতে পারে না, যদি সময়মতো সঠিক ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে দৈনিক যুগান্তর কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতায় করণীয়’ শিরোনামে এক গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে চললেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলার মতো কিছু নেই’। রাজধানীতে ডেঙ্গু ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার সময় দেশের অবস্থান করে সমালোচনার মুখে পড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতার আশা করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বছরের শুরু থেকে ৮ অগাস্ট বিকাল অবধি সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৬৬ জন। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ হাজার ৭৬৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার সকার ৮টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৩২৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এই পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২৯ জন বলা হলেও গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে সংখ্যাটি ৯০ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, রোগীর সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা হাইড করার কিছু নাই। তবে সংখ্যা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলার মতো কিছু নাই। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এমন কোনো ফিগার বলবেন না যেন আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর লম্বা লাইন লেগে যায়। এটা থেকে বিরত থাকুন। ব্যঙ্গ করলে চলবে না। দেখতে হবে কতটুকু সেবা দিলাম, কতগুলো হাসপাতালে ভিজিটে গেলাম। গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীলতা আশা করে তিনি বলেন, আপনাকে রেসপনসিবল হতে হবে। প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে রেসপনসিবিলিটি শো করতে হবে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা যখন বাড়ছে, তখন সপরিবারে মালয়েশিয়া চলে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সমালোচনার মুখে সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরে গিয়ে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন’ বলে অভিযোগ আসে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির পক্ষ থেকে। বিএনপি নেতারা তার পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সমন্বয়হীনতার কথা বলেছিলেন। সমালোচনার জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেছে। ক’জনে পাশে দাঁড়িয়েছে, কজনে হাসপাতালে ভিজিট করছে? এ বিষয়গুলো আমাদের বোঝার বিষয় আছে। তবে ডেঙ্গু মোকাবেলায় পরিকল্পনার অভাবের কথা স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমাদের প্ল্যানিংয়ের অভাব ছিল। তবে নাউ থিংস উইল বি অলরাইট। আমাদের সঠিক জায়গায় অ্যাকশনে যেতে হবে। প্রবলেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষায় সরকারি হাসপাতালগুলোকে কিট সংকটের কথা গণমাধ্যমে এলেও জাহিদ মালেক তা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই এক লক্ষ, দুই লক্ষ করে কিট আমরা পাচ্ছি। কিটের কোনো অভাব নাই। আইভি ফ্লুইডের প্রডাকশন দ্বিগুণ, তিনগুণ করে আমরা প্রতিটি হাসপাতালকে কেনার জন্য পারমিশন দিয়েছি। কেউ কমপ্লেইন করতে পারবে না যে হাসপাতালে আইভি ফ্লুইড পাওয়া যায় নাই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবেলায় কাজ করছে দাবি করে মন্ত্রী সরকারি হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেন। জাহিদ মালেক বলেন, রাজধানীর হাসপাতালগুলো ২০০ পারসেন্ট ক্যাপাসিটি নিয়ে চলে। আরও ২০০ অ্যাড হলে বোঝেন কতখানি বেগ পেতে হচ্ছে।। চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, নিটোর হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির জন্য আলাদাভাবে তৈরি করা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবগুলো মন্ত্রণালয়ের ‘সমান দায়িত্ব’ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যাশনাল ক্রাইসিসে আমরা সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ব। কিন্তু দায়িত্ব যার যার কর্মক্ষেত্র ভাগ করা আছে। সে দায়িত্ব যেন আমরা আমরা সঠিকভাবে পালন করি। সমস্ত সমাজের দায়িত্ব রয়েছে, এটা আমাদের একার দায়িত্ব না।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ