October 13, 2019, 11:41 pm

সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত

Spread the love

সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে সবজি ভেদে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। একইভাবে সবজির মতোই বাড়তি শাকের দাম। তবে বাজারে স্বস্তি মিলেছে মাছের দরে। ইলিশের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে অন্য সব মাছেরও। বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এদিকে ডিমের দাম ডজন প্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, মহিষ, খাসি ও মুরগির মাংসের দাম। গতকাল শুক্রাবর রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, খিলগাঁও রেল গেট বাজার, শান্তিনগর ও সেগুন বাগিচা কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। এ সব বাজারে খুচরা প্রতিকেজি টমেটো ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। একইভাবে প্রতিকেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে পটল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ও উস্তা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৪০ টাকা, শসা (দেশি) ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর ছড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে, প্রতিকেজি ২০ টাকা কমেছে সিমের দাম। এদিন বাজারে প্রতিকেজি সিম বিক্রি করতে দেখা গেছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আকার ভেদে প্রতিপিস বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, জালি কুমড়া ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজির মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আঁটি শাকে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি আঁটি (মোড়া) লাল শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলা শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, পালং শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, কুমড়া শাক ২৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ শাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং পুঁই শাক ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার কারণে বাজারে সবজির সংকট রয়েছে। এ কারণে সবজির বাজার চড়া। আর ক্রেতারা বলছেন বন্যার প্রভাব বাজারে না পড়লেও অতি লাভের আশায় বিক্রেতারা বাড়তি দাম রাখছেন। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে সবজি আসছে না। এ কারণে বাজারে কিছুটা সবজি সরবরাহ কমায় বেড়েছে দামও। এ বিষয়ে শান্তিনগর বাজারের ক্রেতা আম্বিয়া বলেন, বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই, শীতকালীন আগাম সবজিতে বাজার ভরা। দেশের কোথাও কোথাও বন্যা হলেও এর কোনো প্রভাব নেই বাজারে। এরপরও বেশি লাভের আশায় বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজারে ইলিশ মাছের দাম কমার সঙ্গে অন্য সব ধরনের মাছের দাম কমেছে। এসব বাজারে এককেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া আকার ভেদে জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এছাড়া কিছুটা দাম কমে প্রতিকেজি রুই মাছ (আকার ভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চিংড়ি হরিণা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বাগদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা ৪৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬৫০ থেকে ৮৫০, বাইম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, বাইলা ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম অপরিবর্তিত আছে মাংসের বাজারে। প্রতিকেজি গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, ছাগল ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা, বয়লার ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, লেয়ার (সাদা) ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, লেয়ার (লাল) ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি দরে। প্রতি ডজন ডিমে ৭ থেকে ১০ টাকা বেড়ে লাল (বয়লার) বিক্রি হতে দেখা গেছে ১১৫ টাকায়। যা এর আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায়। একইভাবে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে অন্য সব ডিম। বাজারে হাঁসের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগির ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া অপরিবর্তিত আছে চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম।

কমেনি পেঁয়াজের দর: কয়েকদিন হলো দেশের বাজারে এসেছে মিয়ানমার ও মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ। এর প্রভাব পাইকারি বাজারে ঠিকই পড়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে চিহ্ন মাত্র নেই। ক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন- প্রায় আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। ঘাটতির কথা বলে এখনও কেজিতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। একইসঙ্গে আদা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি বাজারের মধ্যে বড় ব্যবধানে। গতকাল শুক্রাবর রাজধানীর পাইকারি শ্যামবাজারে দেখা যায়, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আর মিসর থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে, দেশি পেঁয়াজ, যেটা ফরিদপুরের বলে সবাই জানেন, এটা বিক্রি হচ্ছে (আকারভেদে) ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া এ বাজারে পাইকারি দেশি রসুন (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে। আর চায়না রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা। একইসঙ্গে আদা বিক্রি হচ্ছে ১১৩ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে। যে প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। গতকাল শুক্রাবর রামপুরা, খিলগাঁও, খিলগাঁও রেলেগেট বাজার, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা অন্য সব পেঁয়াজও। যেখানে পাইকারি ও খুচরার মধ্যে বড় ব্যবধান। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের বিক্রি করা পেঁয়াজ আমদানির নয়। সবগুলো দেশি। যদিও তারা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। যেখানে ৬০ টাকা পাইকারি কেজি দর। পাশাপাশি পাইকারি বাজার উপেক্ষা করে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পার্থক্য রেখে বিক্রি আদা ও রসুন। এসব খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। যা পাইকারিতে ৮০ থেকে ১২৫ টাকা। চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা পাইকারি বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। যা পাইকারি বাজারে ১১৩ থেকে ১১৫ টাকা। সবকিছু মিলে দামের বড় পার্থক্যের কথা একরকম স্বীকার করলেও নানা যুক্তি তুলে ধরছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি- খুচরা ও পাইকারির মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। মালামাল আনতে অনেক খরচ হয়। ঘর ভাড়া আছে। এসব বাদ দিয়েই তাদের লাভ রাখতে হয়। এ বিষয়ে খিলগাঁও বাজারের বিক্রেতা হাসি বলেন, আমরা পাইকারি বাজার থেকে মাল আনতে গেলে পদে পদে টাকা দেওয়া লাগে বিভিন্ন স্থানে। বাজার থেকে বের হতে গেলে একটা টাকা দিতে হয়, মাল পাহারায় টাকা দিতে হয়, গাড়ি ভাড়া বেশি। আবার মাল আনতে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যান আটকে দিলে, সেখানেও লাগে টাকা। এ ছাড়া কর্মচারী, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল বাদ দিয়ে খুব সামান্য পরিমাণ থাকে, যেটা দিয়ে পরিবার চালাতে হয়। বিভিন্ন জায়গাতে টাকা দিতে না হলে ব্যবসায়ীরা কম দামেই মাল সরবরাহ করতে পারবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ