September 20, 2019, 1:39 am

শিরোনাম :
ভোলা লালমোহনে নাতনীর সাথে অসামাজিক কাজের চেষ্টা,এবং দাদা আটক কেশবপুরে অধ্যক্ষের দূর্ণীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা প্রভাষককে মারপিট নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই সুন্দরগঞ্জে পোনা মাছ অবমুক্ত করণ ২০ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে নোঙর করেছে জাহাজ এমভি ঝিং হাই টং-৮ আলফাডাঙ্গায় আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা লালপুরে ডাকাতির নাটক সাজাতে গিয়ে বিকাশ কর্মীসহ আটক ২ লতিফিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সংবর্ধনা সম্পন্ন সহকারী শিক্ষকদের ১১ তম ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ তম গ্রেডের দাবিতে আলফাডাঙ্গায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মানব বন্ধন শৈলকুপা পৌর ভবন থেকে বিপুল পরিমান ভিজিএফ’র চাউল জব্দ শৈলকুপায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের দাবিতে মানববন্ধন

শংকিত সচেতন মহল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা

Spread the love

গফুর মিয়া চৌধুরী,উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গারা যে যার মতো করে সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সড়ক, উপ-সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশাল এই জনগোষ্টিকে এক স্থানে নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো ব্যবস্থা না থাকায় তারা সহজে ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তারা সহজে বড় বড় শহর থেকে শুরু বিভিন্ন গ্রামে বসতি শুরু করছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় শংকিত হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল।এদিকে পালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকও হচ্ছে রোহিঙ্গারা। গত ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট পরবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সে দেশের সামরিক জান্তার বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে উখিয়া-টেকনাফ দুই উপজেলায় ৩০টি ক্যাম্পে অরক্ষিত ভাবে বসবাস করছে প্রায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ৫ হাজারের একর বেশি বনভুমি।সরেজমিনে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো চর্তুদিকে অরক্ষিত। কোনো ধরনের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় প্রতিদিন রোহিঙ্গারা যে যার মতো করে চলাফেরার সুযোগ পেয়ে ক্যাম্প থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে কুতুপালং, মধুরছড়া, মাছকারিয়া, শিলেরছড়া, পাতাবাড়ী, লম্বাঘোনা, দরগাহবিল, হাঙ্গরঘোনা, আজুখাইয়া, তুলাতলী, ডেইলপাড়া, করইবনিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও উপসড়ক দিয়ে রোহিঙ্গারা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিন এসব গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে সিএনজি-টমটম যোগে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে তারা।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা যেভাবে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে, তা উদ্বেগজনক। মহাসড়কের পাশেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প হওয়ায় তারা সুযোগ পেয়ে অরক্ষিত ক্যাম্প থেকে সরাসরি বের হয়ে যাত্রীবাহী যানবাহনে করে পালিয়ে যাচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতির পর রোহিঙ্গারা সেই গণনা অনুযায়ী ক্যাম্পে আছে কিনা, তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মনে করেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী।
তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, রোহিঙ্গারা দিন দিন বেপরোয়া উঠছে। তাদের অবস্থান মহাসড়কের পাশে থাকায় রাত-দিন যানবাহনে করে ক্যাম্প থেকে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা এখন প্রশাসনের কাছে কঠিন হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গার উখিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাই এসব রোহিঙ্গাকে উখিয়া ও টেকনাফ থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা না হলে কক্সবাজারবাসী হুমকির মুখে পড়বে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে ১১টি পুলিশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশী অব্যাহত রয়েছে। অনেক সময় গ্রামীণ উপ-সড়ক দিয়ে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। তবে দেশের যে কোনো স্থানে রোহিঙ্গা আটক হলে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ৮ এপ্রিল ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ