August 19, 2019, 10:45 am

শিরোনাম :
জামালপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যুর দাবি করেছে পরিবার গুইমারায় প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করন তাহিরপুরে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ব্যবসায়ী আটক কোম্পানিগঞ্জ যুব জমিয়তের ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত চিলমারীতে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবিতে মানববন্ধন সুন্দরগঞ্জে বাড়িতেই চিকিৎসাহীনতায় ভুগছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ ওয়াহেদ একশ পিচস ইয়াবাসহ এক মাদক বিক্রেতা আটক অবৈধ মাটিবাহী ট্রাক্টরের ধাক্কায় আহত সাংবাদিক আলফাডাঙ্গায় লাইন্সবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কাটারাই থেকে দেওয়াননগর ৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা পীরগঞ্জে হানিফ পরিবহন ও পুলিশের গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১০
প্রতিকি ছবি

রাজারহাটে যত্ন প্রকল্পে নাম অন্তর্ভূক্তি করনে কোটি টাকার বাণিজ্য

Spread the love

মোঃ রেজাউল হক,রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

প্রতিকি ছবি

রাজারহাটে ইনকাম সাপোর্ট পর দ্যা পুওরেষ্ট (যত্ন) প্রকল্পের সুবিধাভোগী মনোনয়নে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। প্রাথমিক তালিকাভূক্তি হতেই উৎকোচ নেয়া হচ্ছে ৬ থেকে ১০হাজার টাকা ।এভাবে নাম অন্তর্ভূক্তি করনকে বাণিজ্যে রুপান্তর করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান ,ইউপি সদস্য ও প্রকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় কর্তৃক দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মা ও শুণ্য থেকে ৫ বছরের নীচে শিশুদের দৈহিক সুস্থ্যতা ও শারীরিক বিকাশের লক্ষ্যে আইএসপিপি (যত্ন) প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করলেও ব্যাপক অনিয়মের কারনে প্রকল্পের মূল্য উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,রাজারহাট সহ ৪৩টি উপজেলায় ২৩শ ৭৭কোটি টাকার যত্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে রাজারহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১০হাজার পরিবারকে যত্ন প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত করনের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের উপকারভোগী একজন নারী গর্ভবর্তী হলে ৪বার চেকআপের জন্য ৪হাজার টাকা,শিশু জন্ম নেয়ার পর ২ বছর পর্যন্ত মা ও শিশু মাসিক ১হাজার ৪শ টাকা পাবেন। একাধারে তিন মাস সেশনে উপস্থিত থাকলে মা একটি বোনাস ভাতা পাবেন এবং শিশুর বয়স পাঁচ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৩মাস পর পর ৭শ টাকা হারে ভাতা পাবেন। এমন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য অসহায় নারীরা যেমন নিজেদের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তেমনি জনপ্রতিনিধিরাও অর্থের বিনিময়ে সুবিধাভোগী মনোনয়নের প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন। যত্ন প্রকল্পের নাম অন্তর্ভূক্তি করনে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের দাবীতে আইএসপিপি যত্ন   প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ঘড়িয়ালডাঁঙ্গার কয়েকজন ইউপি সদস্য সহ একাধিক অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত তার কোন তদন্ত হয়নি।সরেজমিন উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে দেখা গেছে,ওই গ্রামের ঝরু যোগীর স্ত্রী সেবানীর তিন সন্তান,জাহিদের স্ত্রী জয়নবী বেগমের চার সন্তান,হায়দার আলীর স্ত্রী রোকসানার তিন সন্তান,মোজাফ্ফর আলীর স্ত্রী জান্নাতি বেগমের তিন সন্তান,জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শাহনাজের তিন সন্তান এবং মোস্তাক আহমেদের স্ত্রী মোনা বেগমের তিন সন্তান থাকলেও অর্থের বিনিময়ে বিধিমালা উপেক্ষা করে তাদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।এদিকে ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মহুবর,এন্তাল,হারুন ও মঞ্জু মিয়া ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকারের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ উল্লেখ করা হয়,বিধি অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগনের সমন্বয়ে প্রকৃত যোগ্য ও দুস্থ্য মহিলাদের যাছাই-বাচাই করে তাদেরকে পুষ্টি ভাতার অন্তর্ভূক্ত করার বিধান থাকলেও চেয়ারম্যান নিজের খেয়াল খুশি মতো নিজে এবং তার এজেন্টদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে একক তালিকা প্রনয়ন করেছেন। এই অভিযোগ হওয়ার কারনে ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে থানায় সাজানো মামলা করে দূর্নীতি ধামাচাপা চেষ্টার অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যরা।রাজারহাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনামুল হক কর্তৃক ঘুষের দর কষাকষির একটি অডিও ফাঁস এবং ফেসবুকে রেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর ওই ইউনিয়নে যত্ন প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অডিও তে শোনা যায় রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুুল হক কে এক নারী মোবাইল ফোনে বলেন,এনামুল ভাই না? উত্তরে এনামুল চেয়ারম্যান বলেন হ্যা। কালকে যে আমাকে বললেন,হুম। ওই যে একটা গর্ভবর্তী আছে,আচ্ছা। ওইটা যে টাকা কম দিবার চায়, কত? তিন-চার দিবার চায়,না-দিলে হবে না। বাচ্চা কয়টা ? এইটা প্রথম। প্রথম ওই একই কথা ওখানে ৫নিবে। অফিসে পাঁচ হাজার নিবে। এরবেশি যেটা পাইবেন সেইটা,যদি ৬ দেয় আপনি এক নিবেন। কম হবে না । একই ভাবে বিভিন্ন স্থানে ইউপি সদস্যদের ঘুষ গ্রহন, ঘুষের টাকা লেনদেন ও দর কষাকষির অডিও-ভিডিও বেড়িয়েছে। এছাড়া  যত্ন প্রকল্পের কতিপয় কর্মীর মাধ্যমেও টাকার হরিলুট হচ্ছে বলে জানা গেছে।দুর্নীতি ঠেকাতে ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পর্যায়ে নাম অন্তর্ভূক্ত করন বঞ্চিতদের সরাসরি ফরম বিতরন করা করলেও যত্ন প্রকল্পের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগসাজসের মাধ্যমে এর অধিকাংশ ফরম বাতিল করে মনগড়া ভাবে তাদের মনোনীতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তের অভিযোগ উঠেছে। তাদের দেয়া তালিকা থেকে নাম উধাও হয়েছে উপজেলার নাজিমখানের শিরিনা বেগম,ঘড়িয়ালডাঁঙ্গার ফাতেমা বেগম,আরিফা,চাকিরপশার আনোয়ারা বেগম সহ ২শতাধিক মহিলার নাম।ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সমন্বয়ে সুবিধা ভোগীর তালিকা প্রনয়নের নিয়ম থাকলেও অনেক স্থানেই তা হচ্ছে না । উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের দেয়া তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে যত্ন প্রকল্পের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোগাজসের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে প্রায় ১’শ অযোগ্য নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন বলে জানান বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম।ছিনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান হক বুল জানান, মেম্বার-চেয়ারম্যানদের প্রেরিত তালিকার অনেক নাম বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে যত্ন প্রকল্পের কর্মচারী- কর্মকর্তারা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন।যত্ন প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সিসিএ আবুল হায়াৎ জানান,কিভাবে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে নতুন নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এটা বুঝতে পারিনি।ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ইউপি সদস্যদের দোষারোপ করেন।
রাজারহাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান,শুধু আমি না সব চেয়ারম্যানরাই টাকা নেয়। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র অনেক সুপারীশ থাকায় সব ফরমে টাকা নেয়া হয়নি বলেও জানান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ,রাশেদুল হক প্রধান বলেন,আমি ৪৭০টি ফরম দিয়েছি,কতটি বাতিল করা হয়েছে বা কি কারনে তা এখনো জানা হয়নি।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ১৮ মে ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ