May 31, 2020, 12:51 am

শিরোনাম :
মোবাইল কিনে না দেওয়ায় অভিমানে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা মৌলভীবাজার হলিমপুর (বার বাউয়া) গ্রামে একজন গৃহবধূর আত্মহত্যা বক‌শিগ‌ঞ্জে রাতে আড্ডার জের : দুই যুব‌কের মিথ‌্যাচার যশোর-২ আসনের সাবেক জামায়াতের এমপি আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইন ইন্তেকাল করেছেন কুয়াকাটায় জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালিত চিওড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ভাঙা অংশ মেরামত রামপালে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ সংস্কার কাজের উদ্বোধন কলাপাড়ায় দুই জনের করোনা সনাক্ত চৌদ্দগ্রামে করোনায় মোট আক্রান্ত ২৮, সুস্থ ২ ইউপি সচিবসহ নতুন আক্রান্ত ১৫ বোয়ালমারীতে বাকিয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ

রাজশাহী পুঠিয়া থানার সদ্য প্রত্যাহার কৃত ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিচারিক তদন্তের নির্দেশ

Spread the love

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার বদলে দেওয়ার অভিযোগে পুঠিয়া থানার সদ্য প্রত্যাহার কৃত ওসি সাকিল উদ্দিন আহম্মেদের বিষয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে সঠিক প্রতিবেদন দিতে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। নুরুল ইসলামের মেয়ে নিগার সুলতানার করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯ইং রুলসহ এ আদেশ দেন।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে “এজাহার বদলে দিলেন ওসি” শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলাটি পুলিশ ভিন্নখাতে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত নুরুলের মেয়ে নিগার সুলতানার অভিযোগ, পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দিন আহম্মেদ মামলার এজাহার বদলে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ওসির বিরুদ্ধে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে মামলাটি বাতিলের জন্য তিনি আদালতে আবেদন করেছেন। গত ১৮ জুলাই তিনি এসপির কাছে অভিযোগ করেন। একই দিন রাজশাহীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলি আদালত-২ এ মামলা বাতিলের আবেদন করেন নিগার সুলতানা।উল্ল্যখ্য গত ১১ জুন পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার একটি ইটভাটা থেকে পুঠিয়া উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৮ জুন জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নুরুল ইসলামের সমকামিতার বদঅভ্যাস ছিল। এলাকার এক কিশোরকে তিনি এ কাজে বাধ্য করতেন। ১০ জুন রাতেও নুরুল ইসলাম ওই কিশোরের সঙ্গে সমকামিতায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে পড়ে গেলে ওই কিশোর তাকে ইটের আঘাতে হত্যা করে। তাই ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে নিহতের পরিবার বিষয়টিকে বলছে একেবারেই ভিত্তিহীন।লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নুরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে পুঠিয়া থানার ওসি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নুরুলকে পরাজিত করান। ফলে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রহমান পটল, এ ফলাফলের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলামসহ পরাজিত তিনজন প্রার্থী আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এর ফলে আদালত শ্রমিক ইউনিয়নের সব কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নুরুল ইসলাম যে রাতে খুন হন সেদিনই আদালতের জারিকৃত উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে গিয়ে আদালতের এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তার সঙ্গে নুরুল ইসলামও ছিলেন। তখন আসামিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টা থেকে নুরুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।পরদিন সকালে ইটভাটায় নুরুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা নির্বাচনী মামলাটির তিনজন আসামিসহ মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পুঠিয়া থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দেন। তখন ওসি সেটি সংশোধন করতে বলেন। নিগার সুলতানা ওসির কথামতো সংশোধন করে ওই পাঁচজনকে সরাসরি আসামি না করে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে তাদের নাম উল্লেখ করেন। এরপর সেটি ওসিকে দিলে তিনি ‘দেখছি’ বলে নিগারকে বাসায় চলে যেতে বলেন। কিন্তু নিগার সুলতানার একটি এজাহারও মামলা হিসেবে রেকর্ড করেননি ওসি। নিহতের শ্যালক মাসুদ রানা দাবি করেন, ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদ নিগার সুলতানার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন। সেই কাগজেই পরবর্তীতে মামলার এজাহার করা হয়। এতে কারও নাম নেই। সেই মামলাটিই এখন তদন্ত করছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ মামলাটিতেই এক কিশোরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।এজাহার বদলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাদা কাগজে সই নিয়ে এজাহার করা সম্ভব নয়। যে এজাহার হয়েছে সেটা নিহতের পরিবারের সদস্যরাই দিয়ে গেছেন, এজাহার আমরা দেইনি। নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ওই মামলার এখনও অগ্রগতি নেই “তদন্ত চলছে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ