May 27, 2020, 3:50 am

শিরোনাম :
তেঁতুলিয়া মেম্বার ও চৌকিদার মিলে মধ্যযুগীয় নির্যাতন করেছে এক যুবককে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনোয়েতপুরের স্থল ইউনিয়নে যমুনা নদীতে নৌকাডুবিতে এ পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে,এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩০ জন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প কাজের ধীরগতিতে ভাঙ্গন এলাকাবাসীর মানববন্ধন করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে,আক্রান্ত ১১৬৬ কেশবপুরে মানুষের মাক্স ব্যবহারের হার হ্রাস সলঙ্গায় গ্যাসের চুলা থেকে শরীরে আগুন লেগে পুড়ে নারীর মৃত্যু তড়িঘড়ি করে দাফন রংপুর গঙ্গাচড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প বাস্তবায়নে ঐক্যের আহ্বান হাফিজ আখতারকে অভিনন্দন জানাতে তার বাড়িতে ভাইস চেয়ারম্যান কয়েছ ঈদের দিন ও করোনার ক্লান্তিলগ্নে কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেদের সেবা কার্যক্রম অব‍্যাহত আখাউড়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক এসআই তাজুল ইসলাম আখাউড়া বাসীসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় দাদন নামক ট্যাবলেটের ভয়াল থাবায় দিনকে দিন মানুষ হচ্ছে নিঃস্ব!

Spread the love

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহুত হচ্ছে দাদন অর্থাৎ সুদের ব্যবসা। সামাজিক সম্প্রীতি নস্ট, পারিবারিক কলহ-বিবাদ সৃষ্টিসহ শান্তি প্রিয় মানুষের সকল অশান্তির মূল কারণ হয়ে উঠেছে এই দাদন ব্যবসা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে চলছে রমরমা এই দাদন ট্যাবলেট নামক সুদের ব্যবসা। মানুষকে নিঃস্ব করে পথে বসানোর অন্যতম উপায় সুদের ব্যবসা। আর এখন সুদ মানুষকে নিঃস্ব করার ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।বর্তমানে এ ব্যবসা জমজমাট ভাবে স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়ে জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত পল্লী এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ফলে সুদখোর ব্যবসায়ীদের রসানলে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো। সুদি কারবারিরা অভিনব কায়দা অবলম্বন করে ব্যাবসা গুলোকে চালিয়ে গেলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে সুদখোররা।বিভিন্ন অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরী থেকে শুরু করে অন্যান্য উপজেলা সদরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের কমবেশি প্রায় সকল গ্রামগঞ্জে একচেটিয়া ব্যবসা করছে কিছু সুদখোর ব্যবসায়ী নামক রক্তচোষা মানুষ। এদের বাহির থেকে যতই সুন্দর দেখা যাক না কেন, ভেতরটা এতটাই কুৎসিত যা বলে শেষ করা যাবে না। এই সুদের ব্যবসা ইসলাম ধর্মে হারাম (নিষিদ্ধ) অথচ সুদের ব্যবসা এমন এক পর্যায়ে গিয়েছে যে, পবিত্র হজ্জ্ব ব্রত পালন করে এসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েও সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এমনও কিছু মানুষ রয়েছে যারা সচেতন মহল ও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অভাবের তাড়নায় বাধ্যহয়ে সুদের জালে জড়িয়ে পড়ছেন অহরহ।কিছু কিছু বহুরুপী সুদখোর লোকজনকে পবিত্র মসজিদের নামাজের প্রথম কাতারে বসে নামাজ পড়তে দেখা যায়। আর এই সুদ শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অবৈধ সঞ্চয় সমিতির নামেও চলছে একচেটিয়া সুদের ব্যবসা। এখানে লাভবান হচ্ছে কিছু অসাধু লোকজন, যারা এই সঞ্চয় সমিতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। শারীরিক অসুস্থতা, মেয়ের বিয়ে ইত্যাদি আর্থিক প্রয়োজনে বেকায়দায় পড়ে ওইসব সুদ ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ছে মধ্যবিত্ত পরিবার, কৃষক, বর্গা চাষী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।তারা আর্থিক প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে বিপদে পড়ে বাধ্য হয়ে এসব সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে কখনো ৩০০ টাকা ননজুডিশিয়াল ফাঁকা ষ্ট্যাম্প আবার ককোনো ব্যাংকের ফাঁকা চেক স্বাক্ষর বা টিপ দিয়ে তাদের কাছে জমা দিচ্ছে। আর এই ফাঁকা চেক-ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষী নেওয়া হয় সুদ ব্যবসায়ীদের পছন্দের ব্যক্তিদের। এদিকে সুদের টাকা দিতে একটু এদিক-সেদিক হলেই সুদ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো ফাঁকা চেক-ষ্ট্যাম্প পূরণ করে আদালতে গিয়ে মামলা ঠুকে দিচ্ছেন। সুদখোর ব্যবসায়ীরা দৈনিক, সাপ্তাহিক এমনকি মাসিক ভিত্তিতে নগদ ঋণ দিয়ে দেড় থেকে দুই গুণ মুনাফা আদায় করে। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার ও লাঞ্চনার নজিরও রয়েছে অনেক।এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগরীর খোড়ামারা এলাকার জৈনক শাহাদাত হোসেনের ভাষ্যমতে তিনি, ব্যাবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হবার কারনে একপ্রকার বাধ্যহোয়েই নিজ নামিও ব্যাংকের ১টি ফাঁকা চেক বন্ধকী স্বরূপ দিয়ে এলাকার এক সুদখোরের কাছে থেকে ১ লক্ষ টাকা নেন শর্তহলো তাকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা সুদ দিতে হবে। এইভাবে কিছুদিন চলার পরে আমি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ি ১বা ২টি সুদের কিস্তি না দিতে পারলে তাকে চক্রবৃদ্ধিহারে ওই সুদের টাকারও সুদ দিতে হয়েছে। এভাবে ১ লক্ষ টাকার জন্য ৩০ মাসে ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে পরবর্তীতে আর টাকা দিতে না পারায় পালিয়ে থাকি। এহেন পরিস্থিতিতে সে আমার নামিও ফাঁকা চেকে ১০ লক্ষ টাকা বসিয়ে ব্যাংকে ডিজঅর্ডার করে, আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আমি পালিয়ে থাকায় আদালতে হাজির না হতে পারায় আমার নামে ওয়ারেন্ট জারী হয়। পরে আমার পরিবারের লোকজন স্থানীয় ভাবে অনেক দেনদরবার করে আবারও ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ সর্তে জামিন নিয়ে, আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করি।অপরদিকে, এবিষয়ে সম্প্রতি জেলার তানোর পৌরসভার চাপড়া এলাকায় ঋণের বেড়াজালে সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার-লাঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে জনৈক বিজয় নামের এক স্কুল শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। উপজেলার তালন্দ ইউপির এক খুদে ব্যাবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ঢাকার গার্মেন্টসে গার্মেন্টসে কাজকরে পালিয়ে থাকছেন। তানোর মুন্ডুমালা পৌর এলাকার জনৈক রফিকুল ইসলাম সুদের বেড়াজালে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন। এরকম হাজারো উদাহারণ রয়েছে রাজশাহী জেলার আনাচে-কানাচে। অথচ এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমে একদিকে যেমন সুদখোর ব্যবসায়ীরা সম্পদের পাহাড় গড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত আসহায় মানুষ দিনদিন গরীব ও ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে। এককথায় মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের চেয়ে কোন অংশেই কম নয় এই সমাজের সুদখোরের যাতনা।বিভিন্ন উপজেলার সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সুদখোর ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও নেই কোন পদক্ষেপ, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা না থাকার কারণে ঋণের নামে এসব শোষণ দিনকে দিন বেড়েই চলছে।সার্বিক বিবেচনায় সুদখোর ব্যবসায়ীদের এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে জরুরী হস্তক্ষেপ বড়ই প্রয়োজন। অন্যথায় এক সময় করোনার চেয়েও মারামারী আকার ধারণ করে সমাজে হানাহানি, দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ, আত্মহত্যাসহ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই দাদন নামক ট্যাবলেটের ভয়াল থাবা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে, বিশেষ করে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা গুলোকে অনুসন্ধান পূর্বক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়ার জোরাল দাবি জানান বিভিন্ন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৯ মে ২০২০/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ