July 16, 2019, 8:35 pm

শিরোনাম :
রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ নওগাঁর মান্দায় দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত পাইকগাছায় মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত রেকজিল এগ্রো ডাচ কোম্পানির সাথে কৃষি মন্ত্রীর বৈঠক ৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭৬ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত তাহিরপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ত্রাণসামগ্রী ও জরুরী ওষুধপত্র বিতরণ সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতিতে একজনের মৃত্যু: পানি সম্পদ সচিবের পরিদর্শন তাহিরপুরে “স্বপ্নচূড়ার” বন্যা কবলিত ২ শতাধিক পরিবাকে শুখনো খাবার ও ঔষুধ প্রদান ৩১ মাসের মধ্যে সূচক সর্বনিম্ন অবস্থানে বাজারে হোন্ডার নতুন দুই মোটরসাইকেল

রাজশাহীতে ফের বেপরয়া কথিত সাংবাদিক রাজ্জাক সিন্ডিকেট

Spread the love

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :

বৃহত্তর রাজশাহী জুড়ে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এদের অপতৎপরতায় অসহায় হয়ে পড়েছেন প্রকৃত সংবাদ কর্মীরা। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল বুধবার সন্ধায় রাজশাহী নগরীর উপকন্ঠ বায়া ভুগরোইল এলাকায় নিউ রিলেশন কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারি ঠিকাদার এএফ আজাদুল ইসলামের কাছে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা নিতে গিয়ে ঠিকাদারদের উত্তম মাধ্যম খেয়ে পালিয়ে গেছে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনালী খবর পত্রিকায় কর্মরত পরিচয়দানকারী মো: আব্দুর রাজ্জাক (সুজন) ও মো: আনোয়ার হোসেন নামে এমন কথিত দুই সাংবাদিক বলে সংবাদ কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন নিউ রিলেশন কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারি ঠিকাদার এএফ আজাদুল ইসলাম নতুন ।ঠিকাদার এএফ আজাদুল ইসলাম (নতুন) বলেন, গতকাল বুধবার সন্ধার দিকে জনৈক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার নামের দুই ব্যক্তি আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এসে আমাকে খোঁজেন। আমি তাদের দুজনের নিকট খোঁজ করার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, আপনার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম করছে। তাই আমাদের কিছু আর্থিক সুবিধা (চাঁদা) না দিলে পত্রিকায় লিখালিখি করবো। আপনার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কাজের কোন বিলও তুলতে পারবেন না। এতে আপনার বড় ক্ষতি হবে বললে তাদের বক্তব্য শুনে ঠিকাদের সন্দেহ্ হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, কিসের অনিয়ম ? এ সময় কথিত দুই সাংবাদিক তার প্রশ্নের কোন সদউত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এ সময় ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী জনৈক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ারকে উত্তমমাধ্যম দিলে পরিস্থিতি খারাপ দেখে কৌশলে ওই দু’জন কথিত সাংবাদিক পালিয়ে যায়।নিউ রিলেশন কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারি ঠিকাদার এএফ আজাদুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবী,প্রতারনা ও হয়রানীর চেষ্টায় কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মো: আব্দুর রাজ্জাক (সুজন) ও মো: আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কর্মকরে খায়। এদের মত নোংরা লোকজনের হুমকি ধামকিকে পরওয়া করিনা । তার পরেও যেহেতু তারা আমার অফিসে এসে চাঁদা দাবী, প্রতারনা ও হয়রানীর চেষ্টা করেছে সেজন্য আমার সুভাকাঙ্খীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিবো সেবিষয়ে বলতে পারবো।এর আগেও পবা উপজেলার সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিন মিলির কাছে ১ লাখ ২০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন কথিত এই সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক সুজন। এখানেই শেষ নয় বায়া এলাকার “মায়নুল বেকারী”বিষ্কুট ফ্যক্টরিতে চাঁদা নিতে গিয়ে কর্মচারিদের হাতে উত্তম মাধ্যম খেয়ে পালিয়ে যায়।অনুসন্ধানে ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এই সিন্ডিকেটের অন্তত ১০-১২জন সদস্য রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও টার্গেটকৃত ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু বাস্তবে রাজশাহীতে অবস্তিত প্রেসক্লাব গুলিতে খোজ নিলে জানাযায় তারা কোনো গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। তাদের র্টাগেট- বিএসটিআই অননুমোদিত/অনুমোদিত বিস্কুট ফ্যাক্টরি, বেকারী, ইট ভাটা ও পুকুর খননসহ অনিয়ম হচ্ছে এই রকম স্থানে গিয়ে নিউজ করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন।এই সিন্ডিকেটের মুল হোতা একটি অপ্রচলিত অনলাইন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এম.এ.হাবীব জুয়েল। তিনি গত মাসে কাঁটাখালি থানাধীন টাংগন এলাকার দুই মাদক ব্যবসায়ীর মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে কাঁটাখালি থানার ওসির নাম করে ৭০ হাজার ও তাদের কথিত সাংবাদিক সিন্ডিকেট সদস্যদের ফেন্সিডিল খাওয়ার জন্য ১৪হাজার টাকা সর্বমোট ৮৪হাজার টাকা প্রতারনা করে হাতিয়ে নিয়েছিলো । এ ঘটনায় পলাতক মাদক মামলার আসামীর স্ত্রী বাদি হয়ে কাঁটাখালি থানায় কথিত সাংবাদিক এম.এ.হাবীব জুয়েল ও মো: মোমিন এর নামে প্রতারনার মামলা করেন । এর আগে এই কথিত সাংবাদিক এম.এ.হাবীব জুয়েলকে ভুয়া সংবাদিক, চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীরা নগরীর ফায়ার সাভিসের মোড়ে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন।এ সকল কথিতো সাংবাদিকদের খোজ নিতে গেলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। উপশহর এলাকায় এই কথিত সাংবাদিক এম.এ.হাবীব জুয়েলের বিষয়ে খোজ খবর নিলে এলাকা বাসিরা জানান, জুয়েলের বাবা ফুড অফিসে কর্মরত ছিলেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য জুয়েলকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তার বাবা। এ ছাড়াও মটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেট, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারীদের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে সে কয়েক বছর আগে তার নিজ বাসাতে ডাকাতিও করিয়েছিলেন। যা অত্র এলাকার সবাই অবগত আছেন।সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আব্দুর রাজ্জাক। তার বাড়ি সপুরা ম্যাচফ্যাক্টারী মোড় এলাকায়। সেখানে খোজ খবর নিলে সেখানকার স্থানীয়রা বলেন, আব্দুর রাজ্জাক অষ্টমশ্রেনীও পাশ করেননি। তার মূল ব্যবসা বিভিন্ন মেলায় যাত্রা ও ভ্যারাইটিস শো-এর নামে নগ্ন নৃত্য এবং র‌্যাফেল ড্র চালানোর কন্টাক করা। সেই সাথে মাইক ভাড়াও দেন তিনি। এ রাজ্জাক নগরীর ষস্টিতলা এলাকার এক মাইক্র ড্রাইভারের কাছ থেকে সব খরচ করে মাসে প্রায় ৬০হাজার টাকা কন্ট্রাকে একটি সিলভার রংএর নোহা গাড়ী ভারা নেন। এই গাড়ী নিয়ে তার কথিত সাংবাদিক সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন অফিস,আদালত,পুকুরসহ বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ান ।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার এক পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন ,গত কয়েক মাস আগে পুলিশ সপ্তাহতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন আমন্ত্রীত অতিথিদের পুলিশের লোগো লাগানো গেঞ্জী,ক্যাপ উপহার দেয়া হয়েছিলো। সেই পুলিশের লোগো লাগানো গেঞ্জী পরে গোবিন্দপুর মোড়ে হাতে টর্চ লাইট,পুলিশের লোগো লাগানো গেঞ্জী ও মাথায় ক্যাপ পরে পুলিশ পরিচয়ে আমাদের অটোর গতিরোধ করেন এই কথিত সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন । চোখে টর্চ লাইট মারতেই বুঝেঁনেয় আমরা গোয়েন্দা পুলিশ। এই কথিত সাংবাদিক সিন্ডিকেটটি পূর্ব পরিচিত হওয়াতে তাদেরকে ও তাদের গাড়ি তল্লাশি করি গাড়িতে কোন পুলিশ বা ডিবির পোশাক,নকল পিস্তল,হ্যান্ডকাপ ও ওয়াকিটকি আছে কি না । পুলিশ বা ডিবির পোশাক না পেয়ে তারা আর কোনদিন এমনটি করবেনা এই মর্মে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৭জুলাই ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ