October 25, 2020, 7:21 pm

শিরোনাম :
রংপুরে ডিপ্লোমা ঐক্য পরিষদ এর মানববন্ধন ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে পুজামন্ডপে নিসচার মাস্ক ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ মহিপুরে নৈশ প্রহরী নিয়োগের নামে উৎকোচ গ্রহণ কলাপাড়ায় ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে শারদীয়োৎসবে দুঃস্থ মহিলাদেরকে বস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে তিন দশক পর ‘ঢলন’ প্রথা আজ বিলুপ্ত বৃষ্টিতে অচল জগন্নাথপুর-সিলেট সড়ক রংপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধর্ষণের চেষ্টা’ থানায় অভিযোগ আদমদীঘিতে ৬০কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার- ৩ মোরেলগঞ্জে সাড়ে ৮ লাখ টাকার অবৈধ জাল আটক ও ভস্মিীভূত করেছে নৌবাহিনী চিলমারীতে কাঁচকোল সামাজিক সংগঠনের উদ্দেগে গরীব ও অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে সরিষাবাড়ীতে পিডিবি‘র একটি খুটির মূল্য ৪ হাজার টাকা ঝড়ো আবহাওয়ায় কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের ভীড় যাত্রাবাড়ী ও চকবাজার থানা এলাকা থেকে ইয়াবা ও ফেসিডিলসহ আটক ০২ মধ্যনগরে মসজিদ নির্মাণের টাকা আত্নসাদের অভিযোগ র‌্যাব-৫ এর পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার’ দুই মাদক ব্যাবসায়ী অটক ভারতে পাচার ৩ যুবক-যুবতীকে বেনাপোলে হস্তান্তর র‌্যাব-১০ পৃথক পৃথক অভিযানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ইয়াবা ও বিয়ারসহ আটক ০৩ আদমদীঘিতে ১২০বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রংপুরে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় চুরি ও এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খোয়া

রাজশাহীতে টিউমারের অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর কিডনি কেটে ফেলার অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

Spread the love
রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান ::
রাজশাহীতে টিউমারের অস্ত্রোপচারের সময় একজন (ডা.) চিকিৎসক ০১ বছর বয়সী এক শিশুর কিডনি কেটে ফেলেছেন। শিশুটির বাবা উজ্জ্বল (৩০), রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় লিখিতভাবে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল রোববার (২১শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি থানায় গিয়ে এই অভিযোগটি দেন।
অভিযোগকারী উজ্জ্বলের বাড়ি নওগাঁ’র আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা গ্রামে। তার বাবার নাম নরেস। আর অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। চলতি বছরের গত (১৩ এপ্রিল) রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় বেসরকারি রয়্যাল হাসপাতালে তিনি উজ্জ্বলের মেয়ে অনুর পেটে অস্ত্রোপচার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অস্ত্রোপচারের সময় কিডনি ফেলে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, টিউমার ছিল কিডনিতে। সেটা ক্যান্সার, সে কারণেই ফেলে দেয়া হয়েছে। আর অস্ত্রোপচারের সময় শিশুটির অভিভাবক যারা ছিলেন তাদের জানিয়ে অনুমতি নেয়া হয়েছে। তবে ওই সময় শিশুর বাবা উজ্জ্বল হাসপাতালে ছিলেন না।
অপরদিকে উজ্জ্বল বলছেন, তার মেয়ের কিডনিতে টিউমার বা সে ক্যান্সারে আক্রান্ত এমন কোন বিষয় তাদের জানানো হয়নি। তাদের না জানিয়েই শিশু অনুর কিডনি কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। পরে শুধু ক্যান্সারের বিষয়টি জানানো হয়েছে দ্বিতীয়দফায় চিকিৎসকের কাছে গেলে। এ কারণে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, সঠিক বিচার পাবেন।
অনুর বাবা অভিযোগে বলেন, জন্মের পর থেকেই অনু পেটের সমস্যায় ভুগছিল। তার পেট ছিল অস্বাভাবিক বড়, প্রায় নয় মাস আগে উজ্জ্বল তার মেয়েকে রাজশাহীর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এবি সিদ্দিকীর কাছে নিয়ে যান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান যে, অনুর পেটে টিউমার রয়েছে। তাই ডা. এবি সিদ্দিকী শিশু অনুকে রয়্যাল হাসপাতালে ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। তার কথামতো উজ্জ্বল তার মেয়েকে ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যান।
এ সময় এই চিকিৎসক জানান, তার মেয়ের পেটে অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করতে হবে। এরপর তার কথামতো, গত ১২ এপ্রিল উজ্জ্বল তার মেয়েকে রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন বেলা ৩টার দিকে তার মেয়ের পেটে অস্ত্রোপচার করেন ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। এরপর ১৭ এপ্রিল ওই হাসপাতাল থেকে তার মেয়েকে ছুটি দেয়া হয়। ছুটি দেয়ার সময় ১৫ দিন পর তার মেয়েকে আবার ডা. সিরাজুল ইসলামের কাছে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এই অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি যাওয়ার পর অনুর শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। ১৫ দিন পর তার বাবা উজ্জ্বল আবার ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের কাছে যান। তিনি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে বলেন, তার মেয়ের ক্যান্সার হয়েছে। এরপর প্রায় চার মাস আগে উজ্জ্বল তার মেয়েকে বাধ্যহয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছোট্ট শিশুটি এখনও এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরই মধ্যে রামেক হাসপাতাল থেকে অনুর পেট আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট আনতে বলা হয়। উজ্জ্বল গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর এলাকার দ্য এপোলো ডায়াগনষ্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান।
কিন্তু এ কি অবস্থা! এপোলো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে বলা হয়, তার মেয়ের একটি কিডনিই নেই। একটি কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে। এখানকার চিকিৎসকরা জানান, পেটের অস্ত্রোপচারের আগে যে সমস্ত ডায়াগনষ্টিক রিপোর্ট আছে, সেসবে অনুর দু’টি কিডনিই আছে। কিন্তু অস্ত্রপচারের পর যে রিপোর্ট হচ্ছে তাতে তার একটি কিডনি দেখা যাচ্ছে না।
অনুর বাবা উজ্জ্বল বলেন, টিউমারের অপারেশনের সময় ডা. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম আমার মেয়ের একটি কিডনি কেটে ফেলেছেন। এ কারণে আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, আমি একজন সামান্য চা দোকানি। মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। আমি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই। অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি চাই।
নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে, ইনস্পেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এই ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ ইতোমধ্যেই পেয়েছি। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্যার সেটি প্রাথমিক তদন্ত করতে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অভিযোগকারীকে রোগীর সমস্ত রিপোর্ট আনতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ