November 14, 2019, 9:47 am

রাজশাহীতে গেজেট অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

 

রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :

গ্যাজেট অনুযায়ী রাজশাহী নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার ২ নভেম্বর ২০১৯ইং সকালে রাজশাহী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এ অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও ড্রেনেজ প্রকল্পের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। একটি দেশের উন্নয়নকল্পে সরকার চাইলে যেকোনো ভূমি যেকোনো স্থাপনা করায়াত্ত করতে পারে। এতে আমাদের কোনো আপত্তিও নেই। কিন্তু জনগণের ন্যূনতম সুখ, দুঃখ এবং আর্থিক বিষয় বিবেচনা করাও সরকারের একান্ত কর্তব্য। রাজশাহীতে ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় আমাদের প্রায় ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক পরিবারই মাটি এবং বাড়ী

হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ভূমি অধিগ্রহণ আইন সম্পর্কিত একটি নতুন গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এই আইন স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭ নামে অভিহিত। এই গেজেটের প্রথম অধ্যায়ের (২) নম্বরে উল্লেখ আছে, এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হবে। এবং গেজেটের ১০০৩ পৃষ্ঠায় (৩) নং এ আইনের প্রাধান্য সম্পর্কে বলা আছে যে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাবে। এই গেজেটের ১০০৭ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত (২) নং এ উল্লেখ আছে যে, সরকারি কোনো প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উপধারা (১) এর দফা (ক) তে বর্ণিত বাজার দরের উপর অতিরিক্ত শতকরা ২০০ (দুইশত) ভাগ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে বাজার দরের উপর অতিরিক্ত শতকরা ৩০০ (তিনশত) ভাগ। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন আমাদেরকে নায্যমূল্য দেয়নি বরং এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য উপাত্ত যখন আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছি আমরা সহযোগিতামূলক আচরণ পাইনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নতুন গেজেটে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনগুণ মূল্যের কথা উল্লেখ থাকলেও কেনো আমাদের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সনের ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইনটি প্রয়োগ করে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো। শুধু তাই নয়, যাদের বাড়িতে গ্যাস  সংযোগ আছে, গভীন নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর দামও (৭) ধারার নোটিশে প্রদান করা হয় নাই। অপর দিকে বর্তমান জমির বাজার হিসাব করলে নগরীর রামচন্দ্রপুর মৌজায় যে টাকা  দেওয়া হয়েছে তাতে বাড়ি করার স্বপ্নতো দূরে থাক, এক ছটাক মাটিও কেনা সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, হয় আমাদের বাড়ীর মতো একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হোক, নয়তো আমাদেরকে ন্যায্য টাকা পরিশোধ করুন। আগামী সাত দিনের মধ্যে আমাদের নায্য দাবি পূরণ করা না হলে আইনি ব্যবস্থাসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। এতে পরিস্থিতি জটিল হলে এর দায়ভার সিটি কর্পোরেশনকে বহন করতে হবে তারা হুশিয়ারি দেন।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ