October 21, 2019, 3:22 am

প্রতিকি ছবি

রংপুর নগরীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোকানঘর দখল করার অভিযোগ

Spread the love

আবুল হোসেন বাবলু,বিশেষ প্রতিনিধি:

প্রতিকি ছবি

নগরীর কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়ে এক ব্যক্তির দোকানের মালামাল ভাংচুর করে দোকানের মালিককে দোকান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় বিধি মোতাবেক দোকানের পজেশন ক্রয় করে দির্ঘদিন থেকে প্লাষ্টিক পণ্য, পাটি, পুরাতন ঝুড়িসহ সংসারের ক্ষুদ্র জিনিসপত্রের ব্যবসা করে আসছেন আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। কিছুদিন পূর্বে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের জায়গায় মার্কেট নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এমতাবস্থায় আমিনুল ইসলামের ক্রয়কৃত জায়গাটির বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় আলোচনা সাপেক্ষে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আমিনুলের দোকান ঘর ভেঙ্গে মার্কেট নির্মানের কাজ শুরু করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মার্কেট নির্মান শেষ হলে শর্তানুযায়ী আমিনুলকে দোকানের পজিশন দিতে গড়িমশি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আমিনুল নিজস্ব ক্রয়কৃত পজিশনে তৈরি দোকানে মালামাল তুলে ব্যবসা করতে থাকলে গত ৭ জুলাই রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে অন্যান্য শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা অর্তকিত হামলা করে। দোকান ঘর থেকে মালামাল বের করে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং দোকানদারকে বের করে দিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, পেপারসের ঘাটতির কারনে আমিনুলকে দোকান দিতে পারছি না। এছাড়াও ৪০ বছর আগে তার ক্রয়করা জমি হলেও স্কুলকে ভাড়া দিয়ে আসছেন তিনি। গত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তার ভাড়া পরিশোধ করা আছে। এর মধ্যে নতুন মার্কেট করা হলে সামনের দোকান ঘরটি তার বলে দাবী করছেন তিনি। কিন্তু ওনি বুঝতে চাইছেন না তিনি ভাড়াটিয়া। নতুন একটা ডিট করতে হবে অযৌক্তিক কিছু বললে তো হবে না। এ বিষয়ে আমি আমিনুলকে বলেছিলাম আপনি কোর্টের দারস্ত হন এবং এবিষয়ে একটা ফায়ছালা নিয়ে আসেন। সে ক্ষেত্রে আমি ঐ কাগজের বলে আপনাকে দোকান ঘর দিতে পারব। তা না করে আমিনুল উল্টো আমাকে বলেন, আমি কেন যাব কোর্টে আপনারা কেস করেন।শিক্ষার্থীদের ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমিসহ শিক্ষকেরা আমিনুলকে বার বার অনুরোধ করার পরও দোকান খালি করে দিচ্ছিল না। তিনি যখন দোকান থেকে নামতে চাইছেন না এ নিয়ে শিক্ষকদের সাথে বাকবিন্ডতা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা চলে আসে এবং ওনাকে দোকান থেকে বের করে দিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়।এদিকে কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আমিনুলের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। তিনি সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগিতায় দোকানের তালা ভেঙ্গে দোকানে প্রবেশ করে দোকান করছিল। এছাড়াও তিনি মিস্ত্রিদেরকে মারধরও করেন। আমিনুল অবৈধভাবে দোকানঘর দখল করে ব্যবসা করছিল।দোকানের মালামাল ভাংচুর ও বাহিরে বের করে দিতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আপনার বাড়িতে যদি কেউ ঢুকে পড়ত তাহলে আপনি কি করতেন? দোকানটা কার ? স্কুলের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ? তারা প্রতিবাদ করবে নাতো বাহিরের লোক এসে করবে?দোকানদার আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ মার্কেট করার জন্য আমার সাথে মৌখিক চুক্তি করে। তারা বলে মার্কেট নির্মান হলে আমার পজেশন আমাকে ফিরিয়ে দিবে। কিন্ত তা না করে আমার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ উল্টো ২০১৯ সালের ৫ মে ১৪৩/৪৪৮/ ৩২৩/৩৭৯/ ৪২৭/ ৫০৬/১১৪ দ: বি: ধারায় আমার বিরুদ্ধে মামলা করে। আমি ঐ মামলায় বর্তমানে জামিনে আছি। এরপর আমার মত করে দোকান করতে থাকলে। হঠাৎ করে গত ৭ জুলাই রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে অন্যান্য শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা অর্তকিত হামলা করে।দোকান ঘর থেকে মালামাল বের করে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং আমাকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর প্রায় ১ ঘন্টা পর আমার ঐ দোকানের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার নোটিশ প্রদান জারি করে। যার পিটিশন নং ৩৩৬/১৯ ধারা ১৪৪/১৪৫ ফৌ: কা: বি:।এবিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এখনও মামলা রুজু করা হয়নি। ইতোপূর্বে আদালতে একটি মামলা রয়েছে বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ার।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১১জুলাই ২০১৯/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ