July 20, 2019, 3:28 am

শিরোনাম :
মোরেলগঞ্জে মসজিদের উন্নয়নে দশ লাখ টাকা দিলেন এমপি মোরেলগঞ্জে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষক বদলির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িত হাজার হাজার বিদেশী নাগরিক এদেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতি দুর্নীতিই, এটা অন্যভাবে দেখার উপায় নেই: ওবায়দুল কাদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি উগ্রবাদ প্রতিরোধে সচেষ্ট বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যার্ত কেউই সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবে না: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গাইবান্ধায় হু হু করে বাড়ছে বন্যার পানি, নিহত ২ দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব হবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে আ. লীগের সদস্য করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

Spread the love

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে আ. লীগের সদস্য করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী অথবা সাম্প্রদায়িক মনোভাব সম্পন্ন কাউকে দলের সদস্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তানদের বেলায়ও আওয়ামী লীগের অবস্থান একই। আওয়ামী লীগের এ বিষয়ে একটা নীতিমালা আছে, দলের চেতনা আছে। এই চেতনার সঙ্গে কোনও আপোশ নাই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা। উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই থেকে সারাদেশে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের এবারের সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত পরিবারের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নেওয়া হবে- এমন ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়। এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নো, এ কথা আমি বলতে পারি না। আমি এটা বলিনি। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আদর্শ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্মের চেতনা, যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পস্ট। এদেরকে সদস্য করার ব্যাপারে দলের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর, এখানে কোনো আপোশ কামিতার প্রশ্নই উঠে না। পরিবারে যদি কেউ যুদ্ধাপরাধী থাকে- এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবারের ব্যাপারটা তো আমরা অবশ্যই সিরিয়াসলি নেবো। যুদ্ধাপরাধীর পরিবার হলে সেখানে আমরা সদস্য সংগ্রহ করি না, তারা সদস্য পদ নিতে পারে না, এমনটাই আমাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের নীতিমালায় স্পস্ট আছে। পারিবারিকভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তি যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে তাদের কেউ যদি আসতে চায় সেখানে তো আমাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে, আমাদের দেখতে হবে। এখানে আমাদের আদর্শ এবং মূল্যবোদের প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্ন। এখানে আমরা আপোশ করতে পারি না। যুদ্ধাপরাধটা এখানে ফোকাস। এখানে আমাদের অবস্থান যা ছিল এখনও তাই। বিএনপি-জামায়াতের ঘরের কেউ যদি আওয়ামী লীগে আসতে চায়, সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, বিএনপির ব্যাপারটা নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান নীতিগতভাবে চিন্তা-ভাবনা করে আমরা ঠিক করি যে আমাদের দলের যে আদর্শ যে চিন্তা-ভাবনা, অন্য কোনো দল থেকে বিশেষ করে সাম্প্রদায়িতক যে বিষয়টা, এটাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই। কাজেই সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে যারা আছে, সাম্প্রদায়িতক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা যাদের দেখি, তারা জামায়াত হোক বিএনপি হোক, আমরা একইভাবে দেখি।

বরগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার সঙ্গে দলীয় কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বরগুনার ঘটনায় দলের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ছাড় দেয়া হবে না। দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নমনীয়তা ও শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। আমাদের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা রিফাতকে। তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মারা যান তিনি। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের বাধা দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। ঘটনাটির ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, নয়ন বন্ড নামে এক যুবক উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করছিল রিফাত শরীফকে। তার সঙ্গে তখন ছিলেন রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী নামে দু’জন। পাশে ছিলেন আরও বেশ ক’জন। নয়ন বন্ডরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠে। অন্যান্য স্থানে এদের থামানোর বিষয়ে কোনো দলীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের পক্ষ থেকে স্ট্যান্ডিং ডিরেকটিভ সব জায়গায়ই আছে। দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নমনীয়তা ও শৈথিল্য প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। যত ক্রিমিনাল অফেন্স (অপরাধ) সংগঠিত হয়েছে, এসব ঘটনায় দলীয় সংশ্লিষ্টতা যদি থেকে থাকে, যারা এর সঙ্গে জড়িত, তিনি যত ইনফ্লুয়েন্সিয়ালই (প্রভাবশালী) হোন না কেন, দল কিন্তু ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ছাড়া নয়ন বন্ড ক্রস ফায়ারে মারা গেছে- নয়ন বন্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন আমি তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত।

চট্টগ্রামে যুবলীগের এক গ্রুপের কর্মীকে আরেক গ্রুপের কর্মীরা নির্মমভাবে পিটিয়েছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে কাদের বলেন, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশকে বলা হয়েছে, তদন্ত করছে। এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যেন নেয়, সেই ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিজেই কথা বলেছি, সেখানকার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে।

১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা) ট্রেনবহরে হামলার মামলাকে বানোয়াট ও সাজানো বলে যে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার জবাব দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা তাদের চিরাচরিত অভ্যাস। রায় বিরুদ্ধে গেলেই তারা এরকম বিরোধিতা করে। দেরিতে হলেও এই বিভৎস হামলার বিচার হয়েছে। ২৫ বছর আগের ঘটনা কী বিভীষিকাময় ছিল, তা ওই সময় যারা না ছিল তাদের ছাড়া বলে বোঝানো যাবে না। রায় দিয়েছে আদালত। তা প্রত্যাখ্যান বা প্রত্যাহারে ফখরুলের দাবি আদালত বিবেচনা করবে। সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। বিএনপি সাজা পেলেই প্রহসন বলে ও রায় মানে না। তাদের মহাসচিবের বক্তব্য চিরাচরিত।

বিএসআরএফ এর সদস্যরা দাবি জানান, এক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবদিকরা যাতে ৫ নম্বর গেট (প্রেস ক্লাবের সামনে) দিয়ে বিনাবাধায় সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারেন। দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই গেট দিয়ে সাংবাদিকরা যাতে বিনাবাধায় প্রবেশ করতে পারেন সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখবো। যেহেতু বিষয়টি তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার ভুক্ত, তাই তাদের সঙ্গেও কথা বলবো।

গ্রামীণ ও চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প এলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক নাজুক, মানুষের যোগাযোগের ভরসা পায়ে হাঁটা- এসব এলাকার উন্নয়নে পরিকল্পনা জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, এসব স্থানে যেসব রাস্তা হয়, ব্রিজ-কালভার্ট হয় এগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প। সেখানকার এ ধরনের কোনো বিষয় থাকে তাহলে আমাকেও বলতে পারেন, আমি মিনিস্টারকে বলে দেবো অথবা আপনি যদি কোনো প্রজেক্ট নিয়ে আসেন সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলাপ করে, মিনিস্টারকে প্রয়োজনে আমি ডিও লেটার দেবো। কারণ, অবহেলিত এলাকায় রাস্তা-ঘাটের অভাবে অবহেলাটা আরো বাড়ে। সে কারণে জনস্বার্থের কাজটিতে আমিও সহযোগিতা করবো, যদিও এটা আমার মিনিস্ট্রির কাজের আওতায় পড়ে না। তবুও পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব আছে, আমি সেটা করবো। গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণের ৩/৪ দিন পরই বেহাল অবস্থা হয়- এ বিষয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, এটার একটা সমস্যা আছেই। সারাক্ষণ যেভাবে হেভি ট্রাফিক ভলিউম, গ্রামের রাস্তাতেও যেভাবে ভারী পণ্য ব্যবহার করে সে কারণে রাস্তা ঠিক থাকে না। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে, একনেক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে যাতে রাস্তাগুলো সাসটেইনেবল হয়, টেকসই হয়। মেইনটেন্সের বরাদ্দটা আরো বাড়ানো। উচ্চপর্যায়ে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

পদ্মা সেতুর অগ্রগতি জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেতুর ১৪ নম্বর স্প্যান বসেছে। এর মধ্য দিয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার সেতুর সোয়া দ্ইু কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতু নিয়ে কোনও জটিলতা নেই, দ্রুত কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে কাজ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বের খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা অন্যতম। আবহাওয়া ভালো থাকলে ঘন ঘন স্প্যান বসবে। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, টার্গেট ঠিক রাখা যায় না, পদ্মানদী খুব বেশি আনপ্রেডিকটেবল। ইদানীং আমাজনের চেয়েও এটা আরো আনপ্রেডিকটেবল। এমনকি সারা পৃথিবীতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পদ্মা নদীর সয়েল কন্ডিশনও প্রেডিকটেবল না। সে কারণে আমরা শুরুতে বারবার বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছিলাম, ব্যাড ওয়েদার হলে টার্গেট অ্যাসিভ করতে পারছিলাম না। তবে এ সংকট এখন আর নেই। এখন আমাদের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া খুব বেশি বৈরী না হলে পিয়ারের উপরে স্প্যান বসানো কাজটি কঠিন নয়। পদ্মাসেতু নিয়ে এখন আর কোনো অনিশ্চয়তার বিষয় নেই। হয়তো মাঝে মধ্যে ওয়েদারের কারণে সমস্যা হয়ে যায়, সময় ঠিক রাখা যায় না। কিন্তু কাজটি গতিবেগে চলছে ও আগের চেয়ে গতি পেয়েছে অনেক বেশি। কারণ স্প্যান ঘন ঘন বসছে এটা একটা আশার বিষয়। গত ২৫ মে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর বসে পদ্মাসেতুর ১৩তম স্প্যান। এ স্প্যানটি বসানো অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। এটি বসিয়ে ১৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মাসেতু।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ