April 19, 2019, 8:26 am

শিরোনাম :
ইসলামপুরে সাংবাদিক শফিক জামান লেবু’র শোকসভা ও দোয়া মাহফিল আলফাডাঙ্গায় বালু কাটায় অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় স্বরূপকাঠীতে বিদ্যালয়ের ভবন যেন মৃত্যুফাঁদ, শঙ্কায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা তামাকে না বলুন চা কে হ্যাঁ বলুন নুসরাত ও শিশু মনির হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি – বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদ বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা এ্যাডঃ মাহবুব আলম শাহীন নিহত মাদারীপুরে বৈশাখী আনন্দে নগদের শোভাযাত্রা গতানুগতিক ধারা পরিহারের আহবান-কৃষিমন্ত্রী ড.মো.আব্দুর রাজ্জাক এমপি চিরিরবন্দরে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি আলফাডাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসনের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের দাবি পুনর্বাসন মোরেলগঞ্জে মহাসড়কের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

Spread the love

এইচ এম জসিম উদ্দিন,মোরেলগঞ্জ(বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাট জেলার সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে পাশে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সোমবার (১১ ফেব্রয়ারি) দিনব্যাপী পার্শ¦বর্তী উপজেলার কাঁঠালতলা থেকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছোলমবাড়িয়া পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এসময় মহাসড়কের জায়গায় থাকা শতাধিক অবৈধ পাকা , আধাপাকা স্থাপনা, ১৯ কিলোমিটার সড়কের পাশে, রাখা ইট,বালু ও গাছসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ ও ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনা অঞ্চলের স্টেট ও আইন কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত মেহনাজের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে মোরেলগঞ্জ নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাগেরহাটের নির্বাহী প্রোকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদসহ ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, অভিযান অব্যাহত ও সড়ক বিভাগের সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে সড়কের দুর্ঘটনা কমবে। আমরা চাই সকল অবৈধ দখলদার মুক্ত থাকুক আমাদের দেশ।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত মেহনাজ বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত রাখা সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি চলমান প্রক্রিয়া। তার অংশ হিসেবে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার সড়কের জায়গায গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত জমি পুনরায় যাতে দখল না হয় সে জন্য কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাইনবোর্ড বাজার থেকে শুরু হয়ে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা-বগী (আর ৭৭৩) আঞ্চরিক মহাসড়ক ১১তম কিলোমিটারে আমতলা বাজার, ১৫তম কিলোমিটারে কালিকাবাড়ী বাজার, ১৭তম কিলোমিটারে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাট, ১৮তম কিলোমিটারে মোরেলগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ২৭তম কিলোমিটারে পল্লীমঙ্গল, ৩০তম কিলোমিটারে আমড়াগাছিয়া বাজার, ৩৯তম কিলোমিটারে রায়েন্দা ও পাঁচ রাস্তামোড় পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে অবস্থিত সকল স্থাপনা অপসারণ করা হবে- এ সংক্রান্ত গণ বিজ্ঞপ্তির পর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদাররা নিজ খরচে তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে এবং সোমবারও তা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে শত শত ভূমিহীন পরিবার। পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাবে, কি করবে(?) এ রকম প্রশ্ন ওইসব ভূমিহীন পরিবারের সকল সদস্যদের। তাদের দাবি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সহ পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার একটু মাথা গোজার ঠাঁই চায় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ।
সরেজমিনে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’পাশে পৌরসভার ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ড ও সদর ইউনিয়নের পূর্ব সরালিয়া, পশ্চিম সরালিয়া এবং বিশারিঘাটার একটি অংশে বসবাস করা ভূমিহীন শতাধিক পরিবার। কথা হয় ভ্যানচালক জলিল হাওলাদারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম(৪২), র্দীঘ ৩০ বছর ধরে তিল তিল করে উপার্জিত সঞ্চয় থেকে গড়ে তোলা একটি কাঠের বসতঘর। পরিবারে রয়েছে ২ ছেলে ১ মেয়ে দিনমজুরের কাজ করে স্বামী ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জোগান দিয়েছে। বড় ছেলে সোহাগ আকন কোরআনে হাফেজ, মেয়ে নাজমা আক্তার(১৯) অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী ও ছোট ছেলে বায়জিদ ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র স্বামীর পৈত্রিক কোন ভিটেমাটি পায়নি। এ ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে রাস্তার পাশে ঠাঁই নিয়েছিলো। “এখন আমরা কোথায় যাবো? এর চেয়ে মরে গেলেও ভাল হত” এ রকম একই গ্রামের দিনমজুর জামাল আকন স্বামী পরিত্যক্ত সূর্যবান বিবি, চম্পা বেগম, মিরাজ ঘরামি, জলিল আকন, নজরুল চাপরাশি সহ পৌর সভার ৪নং ওয়ার্ডের ইউসুফ চাপরাশী, অবসর প্র্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবুল কাশেম, চুন্নু হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, মান্নান আকন সহ একাধিক ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের একাধিক প্রশ্ন, সংবাদকর্মীদের পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় ৯০ রশি বাসষ্ট্রন্ড চত্তরে পৌর সভার মেয়র এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদার এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বলেন, সরকারের উচ্ছেদ অভিযান সফল করার লক্ষ্যে সকল প্রকার সহযোগিতার পাশাপশি সরকারিভাবে অসহায় ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্তো দিয়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ও ক্ষতিপূরনের জোর দাবি জানান সরকারের প্রতি।
এ উচ্ছেদ অভিযানের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও পূর্ব থেকেই সড়ক ও জনপদ কর্তৃক নোটিশ পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে তাদের চায়ের দোকন, বসতবাড়ি সহ অবৈধ স্থাপনা। সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী সোমবার তার ইউনিয়নের মহাসড়কের পাশে সরিয়ে নেওয়া ভূমিহীণ পরিবারের কাছে এসে সান্তনা দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের এ অভিযানকে স্বাগত জানান পাশাপাশি ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য সরকারিভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব পরিবারদেরকে পুনর্বাসনের জন্য জোর দাবি জানান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ