February 16, 2020, 7:27 am

শিরোনাম :
বসন্ত উৎসবে একমঞ্চে গাইরেন কন্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী-অণিমা রায় আমি হারিয়ে যাইনি-শিল্পা শেঠি ইপিআই কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শনে ভাইস চেয়ারম্যান কয়েছ রংপুরের মমিনপুরে সেচ ক্যানেল থেকে তরুণীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ভিয়েতনামের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি,ইউরোপে প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বাংলাদেশের রপ্তানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হাইতি চিলড্রেন হোম এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ড: ১৫ শিশুর মৃত্যু, দগ্ধ ৬০ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চীনের একটি গোপন গবেষণাগার থেকে ছড়িয়েছে করোনা আতঙ্কে ২২ দিন পর জনসম্মুখে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী রহমত আলী আর নেই

ভূমিদস্যুদের ভয়ে আতঙ্কের আরেক নাম হিরু! কে এই হিরু মিয়া?

Spread the love

রুবেল ইসলাম,মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আলোচিত বহুল ঘটনা ঘটলেও,স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোন তৎপরতা কিংবা আলোচিত ঘটনাগুলো নিরাসনে নেই কোন উদ্দেগ,ফলে ঘটছে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা। আর পুলিশের যোগসাজশে নেপথ্যে সংঘটিত হচ্ছে এই সব অপরাধ,ঘটনাবহুল আলোচিত অনেক ঘটনা প্রবাহের সাক্ষী হয়ে জানান দেয় যে- সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা,গরুর চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অষ্টম শ্রেণীর স্কুলছাত্রকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন,স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা এবং পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রেই চার পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যাসহ চাঞ্চল্যকর নানা অপরাধের ঘটনায় বেশ আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে এই উপজেলা। যদিও এসব নির্মম নির্যাতিত নিশংস ঘটনার হত্যাকান্ড গুলোর রেশ এখনও কাটেনি আবার হঠাৎ করে সূচনা ভূমিদস্যুদের আতঙ্ক!
তৎকালীন সময়ের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে এই উপজেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে অপরাধীরা তাদের অভয়ারণ্য গড়ে তোলাসহ পুলিশের উপস্থিতিকেই কাজে লাগিয়ে ঘটছে নির্মম নৃশংস ঘটনা।
সরেজমিনে জানা যায়-উপজেলার ধুমাইটারী গ্রামের সৈনিক পাড়ায় গেল ১২ জানুয়ারী রোববার দুপুড়ে ভূমিদস্যুদের হঠাৎ আক্রমণে নির্মম নৃশংস ও বর্বরতার শিকার হয় কয়েকটি পরিবার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হলে তাদের উপস্থিতিকে কাজে লাগায় ভূমিদস্যুরা শুরু হয় নির্মম তান্ডব। পরপর কয়েকবার সংর্ঘষসহ,ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়ে ছাড়খার ও জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে ভূমিদস্যুরা। সেদিনের ঘটনাস্থলে ভূমিদস্যুদের নৃশংস হামলার ঘটনা এলাকাবাসী আতঙ্কে বলতে রাজি না হলেও মধ্যবয়সী মাইদুল ইসলাম সাহস করে বলেন-ভূমিদস্যুদের অত্যাচার এখানে নতুন কিছু নয়,বহুদিন থেকে তারা ভূমিদস্যুদের হাতে নির্যাতিত নিষ্পেষিত,তাদের অত্যাচারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না। আজ আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি কাল আমার জমি দখল করতে চাইবে কিংবা আমাকে বিভিন্ন হয়রানীমূলক মামলায় ফেলানো হবে। এলাকাবাসী শামীম,জাাহিদুল ও আবু সুফিয়ান বলেন- শহিদুল ও রফিকুলের পরিবারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল জমি সংক্রান্ত সমস্যা আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে লাঠি নিয়ে ভূমিদস্যু হিরু মিয়া ও তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। দুই পরিবারে ভাংচুর লুটপাট বাধা দিতে গেলে শহিদুল ইসলামের পুত্র শিপনউজ্জামান সাগরকে ভূমিদস্যু বাহিনীর জহুরুল ইসলাম মধু,সিদ্দিক মিয়া,রফিকুল ইসলাম তিনজন বাঁশের লাঠি,খড়ি,গাছের ডাল দিয়ে মারতে থাকে। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে হিরু মিয়ার ধারালো অস্ত্রের সামনে পড়েন মা শিরিনা বেগম। হিরু মিয়া তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাগরের মা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান এবং তার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানায় কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নির্যাতনের শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী রওশন আরা বেগম ও মেহেদী হাসান জানায়-রোববার দুপুরে ভূমিদস্যুদের হামলা শুরুর পরপরই পুলিশের ভ্যান এসে ঘটনাস্থলে দাড়ায়,কিন্তু ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং পুলিশের সামনেই ভূমিদস্যু হিরু মিয়া ধারালো অস্ত্রে রক্তাক্ত হয়েছে নারীসহ অনেকেই। প্রত্যক্ষদর্শী- নজরুল,মিঠু,খুশি প্রামাণিক জানায়-দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত ভূমিদস্যু বাহিনীতে ১৫-২০ জনের মত রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম হল- জহুরুল ইসলাম বুদু, হাসু মিয়া,ওসমান মিয়া ,ফারুখ মিয়া,রাশেদুল ও রফিকুল ইসলাম খোরুসহ অনেকেই। এই ১৫-২০ জনই আবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এক একটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণ করে। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান কাজ ভূমি দখল করা। এছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মাদক,নাশকতা সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এই সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান হিরো মিয়া।
ভূমিদস্যুদের সহযোগী রাশেদুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানায়-সুন্দরগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই গোলাম মোস্তফাসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে রয়েছে তাদের সখ্যতা। আর হামলা-মামলার ভয় করিনা অপরাধী হয়ে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করি কারণ কারাগারে জেল খেটেছি বহুবার, মামলা আছে অনেক,সাবেক সুন্দরগঞ্জ থানার কর্মকর্তা সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকার কারণে মিথ্যা ভিত্তিহীন অনেক মামলা দিয়ে জেলে রাখছিলো, বর্তমানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আছে খুব ভালো।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে ভূমিদস্যু বাহিনীর নির্মম,বর্বরতা ও হামলার শিকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শিরিনা বেগম,রেজাউল ইসলামের স্ত্রী শেফালী বেগম তারা বলেন- ভূমি দস্যুদের হাতে সেদিনের ঘটে যাওয়া নির্মম,নৃশংস,বর্বরতা ঘটনা কথা। আরোও বলেন বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকায় হঠাৎ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমাদের বাড়িঘর জমি জায়গা সব দখল করে নিচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাই না বরং উল্টো আমাদের কে ভয় দেখায়। থানায় মামলা চলমান থাকলেও পুলিশ আসামি ধরে না,আমরা সরকারের কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও বিচার চাই ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন প্রতিনিধি ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন – জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ অমান্য,বিজ্ঞ আদালতের আইন অবমাননা, মানবতাবিরোধী অপরাধ লংঘন, নারী শিশু নির্যাতন,গুম-খুন,হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই,প্রাণনাশের হুমকি সহ অসংখ্য মামলার আসামি হিরু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়-বর্তমানে ভূমিদস্যু হিরু সহ তার সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা নং-১৭/৭৬,১৪/১৪২,২৫৯-(৩)/১,৩৩২১(৩)/১,৩৪০৪(৩)/১ এসব মামলা চলমান রয়েছে। যা জেনেও স্থানীয় প্রশাসন অদৃশ্য কারণে নিশ্চুপ রয়েছে এর নেপথ্যের কারণ জানতে চায় সুন্দরগঞ্জ ধুমাইটারী সৈনিক পাড়া এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ থানা কর্মকর্তার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জামান এর সাথে সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন-আমি এখানে নতুন এসেছি এ ধরনের অনেক ঘটনা শুনেছি ,এসব বিষয়ে কয়েকটি মামলা হয়েছে শীঘ্রই আসামিদের ধরা হবে।
এমতাবস্তায় গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নির্যাতিত এসব পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ভূমিদস্যুদের আতঙ্ক থেকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর সহ বিচার প্রার্থনার দাবি জানায়।
পূর্বপ্রসঙ্গ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ঘটে যাওয়া নিশংস লোমহর্ষক কয়েকটি ঘটনা/ঘটনাবহুল আলোচিত অনেক ঘটনা প্রবাহের সাক্ষী-১৩ জানুয়ারি২০২০ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে, হাবলুর মোড় কারিগরি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির রফিকুল ইসলাম (১৩) ছাত্রকে গরু চুরির অপবাদে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়, হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় রানা মিয়া ও আব্বাস মিয়া নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানুয়ারী ০১,২০২০ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়া গ্রামে সন্ধ্যার পর একদল দূর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী ললিতা রাণীর হাত ও মুখবেঁধে রেখে স্বামী উত্তম কুমার(৩২) কে গলা কেটে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। নিহত উত্তম কুমার রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো এবং ওই এলাকার নিবারণ দেবনাথের ছেলে।এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল জানান,হত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি বিচার কার্যক্রম।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়ির ড্রয়িংরুমে আততায়ীদের গুলিতে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হন।২৯ নভেম্বর, ২০১৯ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক সাবেক এমপি কাদেরসহ সাতজনের ফাঁসির রায় দেন।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৪ জানুয়ারি ২০২০/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ