November 19, 2019, 3:13 pm

শিরোনাম :
কেশবপুরে আলোচিত মকছেদের মৃত্যুতে এলাকায় উত্তেজন,সংঘর্ষের আশঙ্কা! বর্তমান সরকারের সাফল্যে বাংলাদেশ বিশ্বের মাথা উচু করে দাড়াতে পেরেছে- আব্দুল মান্নান এমপি মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার ভোক্তা অধিকার আইনে কয়েকটি দোকানে বিভিন্ন ধারায় এ জরিমানা বোয়ালমারীতে লবণের দাম বেশি নেওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ভোলা বোরহানউদ্দিনে আবাসন প্রকল্পে সৎ পিতা মেয়েকে নিয়ে উধাও সুন্দরগঞ্জে চড়ামূল্যে লবণ বিক্রিতে ৫ ব্যবসায়ীর জরিমানা জৈষ্ঠপুরা সার্বজনীন শান্তিময় বৌদ্ধ বিহারে শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান উদযাাপন গোবিন্দগঞ্জে এতিমখানার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন সেলিমা চৌধুরী পাটগ্রামে লবনের দাম একধাক্কায় কেজিতে ১০/২০ টাকা বাড়তি, পাটগ্রাম বাজের গুজবে লবন গোয়াইনঘাটে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচী বিষয়ক প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু

ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ না দিলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ না দিলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের (ভিসি) বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে অসুস্থ, অস্বচ্ছল ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাদের প্রমাণ করতে হবে। যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়..প্রত্যেকে যারা অভিযোগ নিয়ে আসছে, যারা বক্তৃতা দিচ্ছে..আমি বলেছি সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার যে শাস্তি হত, যে অভিযোগকারী সে যদি ব্যর্থ হয় প্রমাণ করতে, তাকে কিন্তু সেই সাজা পেতে হবে। এটা কিন্তু আইনে আছে। মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে কিন্তু আইন ব্যবস্থা নেবে। সেই ব্যবস্থা কিন্তু আমরা নেব। আপনাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম। তিনি আরও বলেন, প্রমাণ করতে হবে ওই টাকা নিয়ে কোথায় রাখল, না কি করলে, খুঁজে বের করতে হবে। মুখে বললে তো হবে না। সুনির্দষ্টভাবে সে জানে বলেই তো অভিযোগ করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে যখন জানে তখন সে অভিযোগটা বলবে না কেন বা প্রমাণ দেবে না কেন? আর প্রমাণ যদি না দিতে পারে তাহলে যে মিথ্যা অভিযোগ করবে তার শাস্তি হবে। সেটা আপনাদের জানিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু এটা করব। দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নকাজ শুরু হলেই আন্দোলন কেন এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে যেটা লক্ষ্যনীয়, যখন উন্নয়নের কোনো কাজ দেওয়া হয়, যখনই সেখানে একটা প্রজেক্ট দেওয়া হয়, তখনই এই আন্দোলন যেন আরও ঘনীভূত হয়ে উঠে। কেন? তাহলে যারা আন্দোলন করেন তাদেরও ভাগ-বাটোয়ারার ব্যাপার আছে, নাকি ভাগে কম পড়ছে, আমার প্রশ্ন সেখানেও আছে। আমি জানি আমি খুব রূঢ় হচ্ছি কিন্তু বাস্তবে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি ধরনের কথা? হয়ত প্রজেক্ট পাস হয়ে গেছে টাকাও ছাড় হয়নি। তার আগেই দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন, কি কারণে? কার ভাগে কম পড়ল যে এই আন্দোলন? আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এভাবে ছেলে মেয়েদের জীবন নষ্ট করার কি অধিকার আছে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে..যদি অভিযোগ থাকে বলুক আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিন্তু যেখানে আমরা একজনকে ভিসি বানালাম তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর এর মধ্যে শিক্ষকও জড়িত। শিক্ষকরা ছাত্রদের ব্যবহার করে। এটা কোন ধরনের কথা? এখানে কি কোনো ডিসিপ্নিন থাকবে না? কোনো আইন থাকবে না? আইন প্রয়োগ হবে না? আর আমাদের কিছুকিছু আছে..এটাকে আরও উস্কানি দেয়। এই বিষয়গুলো মনে হয় একটু দেখা দরকার আপনাদের। তিনি বলেন, আমি হঠাৎ দেখছি কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা নাই বার্তা নাই ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন। ভিসিকে দ্নুীতিবাজ বলছে।আমার স্পষ্ট কথা যারা দ্নুীতির অভিযোগ আনছে তাদেরকে কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং তাদেরকে তথ্য দিতে হবে। তারা যদি তথ্য দিতে পারে নিশ্চয়ই আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারবে না। ওই দুর্নীতি দুর্নীতি করে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে। ক্লাস চলতে দেবে না, ইউনিভার্সিটি চলতে দেবে না।আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাংচুর..নানা ধরনের। এটাও তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ছাত্র-শিক্ষকরা এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেন ঘটাবে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রত্যেকটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা তারা খরচ করে তাদের পড়ার জন্য? খরচ তো সরকারের পক্ষ থেকে করি। স্বায়ত্ত্বশাসন তাদের আছে। স্বায়ত্ত্বশাসিত হলে তো তাদের নিজেদের অর্থের জোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। কিন্তু প্রতি বছর বাজেটে আমরা টাকা দেই। বাজেটে আমরা টাকা দেব আর সরকার সেখানে কিছুই করতে পারবে না, আর এভাবে দিনের পর দিন তারা ক্লাস বন্ধ করে থাকবে এটা হয় না। আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের পরও বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুয়েটের সমস্যাটা কি সেটা তো বুঝতে পারছি না। আমরা তো সবই করলাম। তারপরও এই আন্দোলন কিসের জন্য? বুয়েটে যে আবরার হত্যা ঘটল, আমরা সাথে সাথে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্ররা আন্দোলনের আগেই যখনই খবর এসেছে তখনই কিন্তু আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। এখন তাহলে আন্দোলন কিসের জন্য, আমার সেটাই প্রশ্ন। দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা ইউনিভার্সিটিতে থাকবে কেন? এই ধরনের কাজ যারা করবে সাথে সাথে তাদের এক্সপেল করে দেওয়া উচিত। তারা কিসের জন্য এভাবে করবে?

কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজকদের অবহেলাকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কিভাবে ঘটায়, আর এত অবহেলা তারা কিভাবে করতে পারে। তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? তারা কি দেখবে না যে কাদেরকে দিয়ে তারা কাজ কারাচ্ছে। এগুলো ঠিক মতো হচ্ছে কি না? তারা এতটা নেগলেট করেছে যে এই বাচ্চাটা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। তিনি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, বোঝা উচিত ছিল যে ছোট ছোট বাচ্চারাও এখানে পড়াশোনা করছে। সেই দিকে তো কোনো খেয়ালই নেই। এটাও তো একটা গর্হিত অপরাধ। এভাবে একটা বাচ্চা মারা যাবে, এটা তো কখনও বরদাশত করা যায় না। গত শুক্রবার ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যে অনুষ্ঠানে রাহাত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলো। রাহাতের মৃত্যুর জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে নানা কর্মসূচি চলছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রাহাতকে কাছের হাসপাতাল বাদ দিয়ে দূরের হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ধানমণ্ডি এলাকায় এত হাসপাতাল। রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল পার হয়ে এগিয়ে গেলেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল। তারপাশে নিউরো হাসপাতাল, তারপাশে ট্রমা সেন্টার। এত হাসপাতাল থাকার পরও ওখানে সেখানে না নিয়ে কোথায় মহাখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে বাচ্চাটাকে নিয়ে গেছে এবং তার নাম ঠিকানাও নেই। ডাক্তার যখন কাপড়ে মনোগ্রামটা দেখেছে, তখন প্রিন্সিপালকে ফোন করেছে। বারবার রিপোর্ট করা সত্ত্বেও কেউ ওদিকে দৃষ্টিই দেয়নি। রাহাতকে সেদিন মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এই স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. মুজিবুর রহমান অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আদালতে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ