October 8, 2019, 3:14 am

ভিন্ন মতের হলে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই: কাদের

Spread the love

ভিন্ন মতের হলে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই: কাদের

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে কারা হত্যা করেছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আমি যতটুকু বুঝি এখানে ভিন্ন মতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার নেই। এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারা দোষী সাবস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারসোনালি আমার কোনো ভিন্নমত নেই। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের। গত রোববার রাত ২টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবরারকে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সহপাঠীদের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। পুলিশ ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে। কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা নটরডেম কলেজে থেকে এইচএসসি পাস করা আবরার ফাহাদের ডাক নাম মুজাহিদ। গত ৫ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমলোচনা করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভিন্নমত পোষণ করে বলে বিএনপি বলছে, ভারত সফরে দেশ বিক্রি করে দিয়েছি। তাই বলে কি বিএনপিকে মেরে ফেলব? যে নেতারা বলছে তাদের কি মেরে ফেলব? তিনি বলেন, একটু আগেও পুলিশের আইজির সাথে কথা হয়েছে। আমি বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টা আলোচনা করতে পারেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ফাহাদ হত্যার তদন্ত শুরু করেছে জানিয়ে কাদের বলেন, এখানে কোন আবেগ ও হুজুগে কারা এটা করেছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, পাওয়ার জন্য দিতেও হয়, এটাই নিয়ম। তিনি বলেন, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক বন্ধুত্বে থাকে। শনিবার দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার, বন্দর ব্যবহার ও গ্যাস বিক্রি নিয়ে এসব চুক্তি ভারতের পক্ষে গেছে বলে অভিযোগ করে আসছেন বিএনপি নেতারা। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সব দিয়ে দিয়ে ফেলেছি এরকম তো বিষয় নয়। আমরা যা এনেছি সেটা হল আমাদের পাওয়ার বিষয়টা অনেক বেশি, কারণ সীমান্ত সমস্যার সমাধান আমরাই করেছি। সীমান্ত চুক্তির যে বাস্তবায়ন তা ৬৮ বছর পর বাস্তবায়ন ও কার্যকর করতে পেরেছি। পৃথিবীর কোনো দেশে ছিটমহল হস্তান্তর শান্তিপূর্ণভাবে করা হয়নি। সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, সমুদ্রসীমার বিষয়ে ভারত আপিল করেনি, তারা তো করতে পারত। সম্পর্কটা ভালো থাকলে সব কিছুই পাওয়া যায়। সম্পর্কটা বৈরীতার মধ্যে থাকলে কিছুই পাওয়া যায় না। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই হবে- এমন আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্পর্ক ভাল থাকলে সময়ের ব্যাপার, গঙ্গা চুক্তি শেখ হাসিনার আমলে হয়েছে, তিস্তা চুক্তিও শেখ হাসিনার আমলে ইনশাআল্লাহ হবে। তিস্তার আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে কাদের বলেন, ভারতের ইন্টারন্যাল একটা প্রব্লেম আছে, আপানারা জানেন। যেহেতু এটি পশ্চিমবঙ্গের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের যে সরকার সে সরকার ফেডারেল সরকারের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে। সেখানে তাদের মধ্যে ঐক্যমতের ব্যাপার আছে, বোঝাপড়ার ব্যাপার আছে, ইন্টারন্যাল প্রবলেম হচ্ছে। এখানে ভারত সরকারের সদিচ্ছা বা আন্তরিকতার কমতি আছে এট মনে হয় না। ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসার তিন সপ্তাহ পর যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতারের ঘটনাকে নাটক বলেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে দৃষ্টি সরাতেই সরকার সম্রাটকে গ্রেফতার করার জন্য চুক্তির পরের দিনটি বেছে নিয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এটা কি হাস্যকর মনে হয় না? দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, সেটার সাথে এর সম্পর্ক কী? এই যোগসূত্রটা তারা কোথা থেকে আবিষ্কার করলেন? এই রহস্যটা আমি জানতে চাই। সম্রাটকে গ্রেফতারে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে র‌্যাবের ডিজি একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্তব্য করে কাদের বলেন, বাংলাদেশে এখন শেষ পর্যন্ত কেউ রেহাই পায় না কিন্তু পালিয়ে থাকার চেষ্টা করলে বা চাইলে ঢাকা এতবড় সিটি, কিন্তু ফলপ্রসূ হয় না। র‌্যাবের ডিজি তো বলেছেন, সে বাইরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছিল, তাই সীমান্তের কাছাকাছি ছিল। এটার সাথে ভারত সফরের বিষয়।

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীরকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা- তা ওবায়দুল কাদেরের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। উত্তরে তিনি বলেন, প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণের আগে তো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা ‘ক্রমান্বয়ে ‘স্পষ্ট হচ্ছে’ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব ব্যাপারে উচ্চাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে নির্দেশনা মান্য করে চলি এবং কার্যকর করার জন্য আমার রোল আমি প্লে করি। এখানে নির্দেশনা দেওয়ার মালিক আমি নই। যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, যা হয়েছে সেটাই দেখুন, দেখতে থাকুন, ভবিষ্যতে কী হবে সেটাও দেখতে থাকুন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্যা আবু কায়ছারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই আসুক, প্রমাণিত হলে কেউ রেহাই পাবে না। তথ্য প্রমাণ না হলে একজনকে কীভাবে অভিযুক্ত করবেন। রাশেদ খান মেননও একটা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, তাই বলে তাকেও কি ক্যাসিনো ব্যবসায়ী বলবেন? যুবলীগ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা সম্মেলন হবে, চারটি সহযোগী সংগঠনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাই সম্মেলন হবে। নভেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের কাজ শেষ হবে। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং যতদূর জানি তারা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেত্রীর কাছে তারা সময় চেয়েছে। এবার যুবলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য কোনো বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, বসয়সীমা কন্সটিটিউশনে আছে, সেটি যাতে ফলো করা হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যুবলীগের নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেটা তো আমি বলতে পারি না, কাউন্সিলরা কী করবে, পরিবর্তন করবে কিনা, নেত্রী মাইন্ডসেট কী পরিবর্তন করবেন কিনা, তিনি পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই পরিবর্তন করবে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ