June 22, 2019, 11:03 am

প্রতিকি ছবি

বোয়ালমারীতে পৃথক সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩০ শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ

Spread the love

কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ

প্রতিকি ছবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী, কালিয়ান্ডো ও নয়নিপাড়ায়  গত ৮.০৬.১৯ ইং তারিখ শনিবার বিকেলে পৃথক তিনটি সংঘর্ষে মহিলা ও পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০জন আহত হয়েছে।ভাড়ার মাইক্রো চালক সাখাওয়াত হোসেনকে মারধরের জেরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের পরমেশ্বর্দী গ্রাম ও পাশের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিকেল ৫ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত প্রায় ঘন্টাব্যাপি এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে সালথা ও বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ সময় পুলিশের ৪ এসআইসহ ১৪জন আহত হয়েছে। পরমেশ্বর্দীর উজিরপুর ঘাটবাজারে ৮টি দোকান ও ৪টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত পরমেশ্বর্দী গ্রামের সরোয়ার খাঁর ছেলে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শরিফুল খাঁকে (১৪) উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত পুলিশের উপরিদর্শক মাহমুদ হোসেন, দিপংকর সান্যাল, সাইফুদ্দিন আহমেদ, নারায়ন চন্দ্রসহ ইকরাম ও অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরমেশ্বর্দী গ্রামের আইয়ুব খন্দকার ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম মিনা জানান, শনিবার পরমেশ্বর্দী গ্রামের কবির খন্দকারের ছেলে মারুফ খন্দকারের বিয়ে উপলক্ষে বরযাত্রী নিয়ে সকাল ১১টায় সালথা উপজেলার সোনাতন্দী গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বরযাত্রী বহনকারী সাখাওয়াত হোসেনের মাইক্রো কণের বাড়ি থেকে অর্ধ কিলোমিটার দুরে নষ্ট হয়ে গেলে বরযাত্রীরা পায়ে হেঁটে কনের বাড়িতে যায়। এক পর্যায়ে মাইক্রো চালক তিন ঘন্টা পর অন্য আরেকটি গাড়ি নিয়ে কণের বাড়িতে যায়। এ সময় বরযাত্রীর লোকজন তাকে দেরী হওয়ার কৈফিয়ত চেয়ে মারধর করে। অপর মাক্রোর ড্রাইভার বড়খারদিয়া গ্রামের সোহরাব শেখের ছেলে ফরিদ হোসেন খবর দেয়। বিকেল ৫টার দিকে বরযাত্রীরা ফেরার পথে পরমেশ্বর্দী উজিরপুর ঘাট ব্রীজে পৌঁছালে ফরিদের পক্ষের ২০/২৫জন লোক বরযাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। এর জের ধরে দুই গ্রামবাসি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালিন সময় উজিরপুর বাজারের ইনামুল, মান্নান রিপনেরসহ ৮টি দোকান ভাংচুর ও ৫ থেকে ৬লাখ টাকার মালামাল লুটপাট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।অপরদিকে শনিবার সন্ধ্যার আগে বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের কালিয়ান্ডো গ্রামের জালাল শেখের চার ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জের ধরে বাশার মেম্বর ও হাসান মল্লিকের পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ দশজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে জালাল শেখ (৪৫) ও রফিক শেখকে (৪০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাশার মেম্বর (৪৫), নজু শেখ (৪৫), শোভা বেগম (৩৫), ফরিদ শেখ (৩৫), রুবেল শেখ, মো. জুয়েল শেখকে (২৪) বোয়ালমারী উডজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
একই দিনে গুনবাহা ইউনিয়নের নয়নিপাড়া গ্রামের মান্নান শেখ; ছেলে রুবেল শেখকে নিয়ে ক্ষেতে মরিচ তুলতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলায় মান্নান শেখ, রুবেল শেখ, ও কামাল শেখ আহত হয়। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম শামীম হাসান বলেন, পরমেশ্বরদীতে মাইক্রোবাস নষ্ট হওয়ার জেরে চালকের সাথে কথা কাটাকাটি কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ সরাসরি ১৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কালিয়ান্ডো থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ৯ জুন ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ