October 15, 2019, 8:57 pm

বৈধ পথে সোনা আমদানির লাইসেন্স নিতে আগ্রহী হচ্ছে না ব্যবসায়ীরা

Spread the love

বৈধ পথে সোনা আমদানির লাইসেন্স নিতে আগ্রহী হচ্ছে না ব্যবসায়ীরা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

বৈধ পথে সোনা আমদানির লাইসেন্স নিতে ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গত ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ সংক্রান্ত মাত্র ৭টি আবেদন জমা পড়েছে। মূলত মুনাফা কমার আশঙ্কা, এনবিআরের করজাল এড়ানো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভয়ে বৈধ পথে সোনা আমদানির লাইসেন্স নিতে কম আগ্রহ দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সোনা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, লাইসেন্স পেতে অনেক ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়ায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর পক্ষে তা পুরোপুরি মেনে আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাজুস সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বৈধ পথে সোনা আমদানিতে ব্যবসায়ীদের কর-ভ্যাট দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যবসায়ীদের বিক্রয় ও মজুদ সোনার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর থেকেও নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। ফলে করজাল এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয় এখানে মুখ্য। কিন্তু বিকল্প চোরাই পথে সোনা কিনলে কর-ভ্যাট নেই। আবার তুলনামূলক কম টাকায় সোনা কেনা যায়। ফলে মুনাফা করারও সুযোগ থাকে বেশি। এসব কারণে বৈধ পথে সোনা আমদানির লাইসেন্স নিতে ব্যবসায়ীরা তেমন আগ্রহী নয়।

সূত্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বার্ষিক ১৫ থেকে ২০ মেট্রিক টন সোনার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বৈধ আমদানির সুযোগ না থাকায় এর বেশির ভাগই চোরাচালানের মাধ্যম আসা সোনা দিয়েই পূরণ হচ্ছে। এতে প্রতিবছর বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছরের অক্টোবরে স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই নীতিমালার আওতায় সোনা আমদানির ডিলারশিপের লাইসেন্স দিতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চলতি বছরের ১৯ মার্চ থেকে আবেদনপত্র বিতরণ শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে অনুমোদিত ডিলারের লাইসেন্সের কপি, ব্যাংক লাইসেন্সের কপি, স্বর্ণ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ আদেশ-১৯৮৭-এর আওতায় লাইসেন্সের কপি, অফিসের মালিকানা বা ভাড়ার চুক্তিনামার কপি, আবেদনকারী অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ জনবল, নিরাপত্তাব্যবস্থা, যোগাযোগ, তথ-প্রযুক্তি ব্যবহারসংক্রান্ত বিবরণীর উপযুক্ত প্রমাণাদি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের কপি, কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) সনদপত্র, মূসক নিবন্ধন, ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বরের (বিআইএন) সনদপত্র, স্বর্ণ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ আদেশ ১৯৮৭-এর আওতায় লাইসেন্সের কপি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য পদের কপি, আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের সার্টিফিকেট-আয়কর নির্ধারণী আদেশের কপি জমা দিতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, দেশে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যবসায়ী সোনা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার মধ্যে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০০। আর বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমইএ) সদস্য ২০০-এর মতো, কিন্তু সোনা আমদানির লাইসেন্সের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে গত ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মাত্র ৭টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দিয়েছে।

এদিকে গত ছয় মাসে কম আবেদন জমা হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা জানান, লাইসেন্স নেয়ার আবেদনে যেসব শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে, সেগুলো সবার পক্ষে ফুলফিল করা সম্ভব নয়। বিশেষভাবে ছোট ব্যবসায়ীরা এটা করতে পারবে না। আবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভয়ও আছে। আর যারা আবেদন করেছে, তাদেরটাই দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। অথচ স্বর্ণ নীতিমালায় বলা আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো আবেদন জমা হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এটা নিষ্পত্তি করতে হবে।

অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যারা সোনার ব্যবসা করছেন, তাদের সবার সক্ষমতা এক নয়। ফলে অনেকের পক্ষে আবেদন করাও সম্ভব হবে না। কারণ আবেদনপত্রের সঙ্গে অনেক ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। আছে বড় ধরনের ফিন্যান্সের বিষয়। এ ছাড়া শুরুর দিকে হয়তো অনেকে এই সুযোগ নিতে চাইবেন না। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে এই সুযোগ নেবেন। তবে বৈধ পথে সোনা আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হলে এ খাতে যে অনিয়ম ছিল, সেটা আস্তে আস্তে শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ