September 17, 2019, 6:39 am

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাস্তা ঢাকা-মাওয়া সড়ক

Spread the love

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাস্তা ঢাকা-মাওয়া সড়ক

প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ১০৮ কোটি টাকা : অদৃশ্য খাতে ব্যয় ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হতে চলেছে এটি। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে ১শ’ ৮ কোটি টাকা। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা দীর্ঘ ৫৫ কিলোমিটরের এই মহাসড়কটি নির্মাণ হতে চলেছে

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাস্তা তৈরি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আর এই সড়কটি নাম ঢাকা-মাওয়া। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯শ’ ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চার লেন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হবে দুই লেনের সড়ক। এতে করে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১শ’ ৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কাজ শুরু না করেই ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে এক দফা। গত অক্টোবরে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এখন তা ৯শ’ ৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯শ’ ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্তের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
আর সবকিছু ঠিক থাকলে এটিই হবে বিশ্বে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক। বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ইউরোপে চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হয় মাত্র ২৮ কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ব্যয় ১০ কোটি টাকা। আর চীনে তা গড়ে ১৩ কোটি টাকা।
তবে অপরিকল্পিত ব্যবস্থায় কারণেই সড়ক নির্মাণে ব্যয় বেশি হলেও সঠিক মান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সড়ক অবকাঠামো বেশি স্থায়ী হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র মত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে জন্য ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৫ সালে। গত অক্টোবরে প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের ব্যয় অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
এর মধ্যে বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের কার্যক্রম বিবেচনায় বিদেশ ভ্রমণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত, বিদেশ ভ্রমণের বিষয়াবলি কী হবে, কোন সংস্থার লোক কোন পর্যায়ে বিদেশ ভ্রমণ করবেন-তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় একনেক বৈঠকে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় গাড়ি ক্রয়, মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অফিস ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি বাবদ ৫ কোটি টাকা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইক্যুইপমেন্ট বাবদ ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর বাইরে কম্পিউটার খাতে ১ কোটি ও অন্যান্য দ্রব্যাদি খাতে ৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত বাবদ ৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। গাড়ির গ্যাস, পেট্রোল, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানি খাতে ৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ খাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ও বিদ্যমান ৪টি সেতু ভাঙতে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, বিদ্যমান বাজারদরের চেয়ে এসব ব্যয় বেশি বলে মত দেয় মন্ত্রণালয়। আবার অদৃশ্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর উৎসব ভাতা খাতে ধরা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এই প্রকল্পের আওতায় ৫৫ কিলোমিটার চার লেন ছাড়াও ৮ট আরসিসি ব্রিজ, ১৯টি পিসি গার্ডার ব্রিজ, ২টি ফ্লাইওভার, ৭টি ওভারপাস ও ৮টি প্রেড সেপারেটর (ইউ লুপ) নির্মাণের কথাছিল। পরবর্তীতে এরসাথে ইকুরিয়া মোড়ে আরেকটি ওভারপাস যুক্ত করা হয়েছে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৫ হাজার ৯শ’ ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রস্তুত মাওয়ায় পদ্মা সেতুর নান্দনিক টোল প্লাজা সাথে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। পদ্মা সফলতার দ্রুতি ছড়াচ্ছে চারদিকে। পাল্টে গেছে পদ্মা সেতু এলাকার মানুষদের জীবন-জীবিকা।
এদিকে, দেড়-কিলোমিটার সংযোগ সড়কের আওতায় আব্দুল মোনায়েম গ্রুপ টোল প্লাজার নির্মাণ কাজ করছে। সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১শ’ ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সংযোগ সড়কের আওতায় এ টোল প্লাজাটি এখন দৃশ্যমান। মাওয়া প্রান্তে নান্দনিক এই টোল প্লাজা নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। টোল প্লাজায় রয়েছে বেশ কয়েকটি লেন। যা কিনা সফলতার ঝিলিক ছড়াচ্ছে। পর্যটনপ্রেমীরা সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত ভিড় করেন মনের মতো একটি দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অগ্রগতি আশানুরূপ। কখনও কখনও টার্গেটের পেছনে বা আবার আগে হতেই পারে। এতে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন। টার্গেট অনুযায়ী শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুটি ঘিরে তাই উঁকি দিচ্ছে নতুন নতুন সম্ভবনা। পদ্মাসেতু নির্মাণে বাস্তবে যে কত রকমের কাজ চলছে তা ঘটনাস্থলে গেলেই অনুভব করা যায়। এসব কর্মযজ্ঞের অনেক কাজই এখনও দৃশ্যমান হয়নি। নির্মাণকাজের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানান, স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। #

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ