November 8, 2019, 7:03 pm

বিটিআরসিকে কত দিতে পারবে, জানাতে ২ সপ্তাহ সময় পেল গ্রামীণফোন

Spread the love

বিটিআরসিকে কত দিতে পারবে, জানাতে ২ সপ্তাহ সময় পেল গ্রামীণফোন

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে গ্রামীণফোন নূন্যতম কত টাকা দিতে পারবে তা জানাতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। গ্রামীণফোনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ ১৪ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছে। গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস; সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মেহেদী হাসান চৌধুরী, শরীফ ভূঁইয়া ও আইনজীবী তানিম হোসেইন শাওন। বিটিআরসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। পরে মেহেদী সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে মোট ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে, যেটি আইনত বৈধ না। তাছাড়া ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে ২ হাজার ১৯০ কোটি টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং সেটেলড একটা বিষয় নিয়ে ১৯ বছর পরে অভিযোগ তোলা কতটা আইনসঙ্গত সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ এই টাকার মধ্যে ২৩ শতাংশ হচ্ছে মূল টাকা। বাকি ৭৭ শতাংশ হচ্ছে সুদ। যেহেতু ইতোমধ্যে ২ হাজার ১৯০ কোটি টাকা দেওয়া আছে। তাই বাকি টাকার বিষয়ে গ্রামীণফোনের সাথে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তাই দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছি। বৈধ দাবির সব টাকা দিতে গ্রামীণফোন প্রস্তুত জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, দেশে গ্রামীণফোনের সাড়ে ৭ কোটি গ্রাহক, ৩০ হাজার শেয়ারহোল্ডার। মনে রাখতে হবে, গ্রামীণফোনের যদি কিছু হয় তাহলে শেয়ার মার্কেটে আরেকটা ধস নামবে। বিটিআরসির আইনজীবী রেজা সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধান বিচারপতি একটা কথা বারবার বলেছেন যে, বাংলাদেশে একটা প্র্যাকটিস চালু হয়ে গিয়েছে যে, যখনই কারো কানো টাকা দেওয়ার ইস্যু আসে তখনই তারা আদালতে একটি মামলা করে দেয়। এর ফলে একটা দীর্ঘসূত্রিতা হয়, সরকার বিভিন্ন রেভিনিউ থেকে বঞ্চিত হয়। দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানোর জন্য গ্রামীণফোনকে বলেছিল তারা কত টাকা দিতে পারবে সেটা জানানোর জন্য। আজকে তারা সেটি জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসির লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে গত ২৪ অক্টোবর গ্রামীণফোন নূন্যতম কত টাকা দিতে পারবে তা জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য রেখেছিল আপিল বিভাগ। কিন্তু সে হিসাব গ্রামীণফোন দিতে না পারায় সময় দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ায় এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নিতে বিটিআরসিকে আহ্বান জানিয়েছে গ্রামীণফোন। আপিল বিভাগের আদেশের পর শীর্ষ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আপিল বিভাগ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করায় বিটিআরসির পদক্ষপের উপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকর আছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বিটিআরসির ‘অসহযোগিতায় উদ্বেগ প্রকাশ’ করে বলা হয়, আমরা বিটিআরসিকে অনুরোধ করছি, তারা যেন মাননীয় আদালতের উপর আস্থা রেখে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমরা আশা করছি যে, কাস্টমসে আমাদের আটকে পড়া মালামাল খালাস করা, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ জন্য উপকরণ আমদানি করা এবং গ্রাহকদেরকে নতুন পণ্য ও সেবা প্রদানের জন্য বিটিআরসি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও অনুমতি প্রদান করবে। আলোচনার মাধ্যমে বিটিআরসির বিরোধপূর্ণ অডিট দাবির স্বচ্ছ ও গঠনমূলক সমাধানের জন্য আমরা আবারও আমাদের অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করছি। গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিটিআরসি। কয়েক দফা চেষ্টায় সেই টাকা আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠানো হয় দুই অপারেটরকে। বিটিআরসির দাবি করা টাকার ওই অঙ্ক নিয়ে আপত্তি তুলে গ্রামীণফোন ও রবি। সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয় দুই অপারেটর। তবে পরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠকও করেন। এরপর নিম্ন আদালতে টাইটেল স্যুট (স্বত্তের মামলা) মামলা করে গ্রামীণফোন। ওই টাইটেল স্যুট মামলাটি আদালত গ্রহণ করে। ওই টাইটেল স্যুটের অধীনেই গ্রামীণফোন বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে, যা গত ২৮ অগাস্ট নিম্ন আদালত খারিজ করে দেয়। নিম্ন আদালতের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে পরে হাই কোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন। গত ১৭ অক্টোবর সে আপিলটি গ্রহণ করে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহন করে হাই কোর্ট। আগামি ৫ নভেম্বর গ্রামীণের আপিল আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। গত সোমবার চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান সে আবেদনে সাড়া না দিয়ে গত বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রাখে। তার আগের দিন অর্থাৎ গত ২৩ অক্টোবর হাই কোর্টের আদেশর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিটিআরসি। সে লিভ টু আপিলের আংশিক শুনানির পর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা মুলতবি রাখা হয়েছিল।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ