November 8, 2019, 5:34 am

বিএনপি জামায়াত থেকে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগে হেভিওয়েট তিন চেয়ারম্যানের অনুপ্রবেশ!! কোন ঠাসা ত্যাগী ও দুর্দিনের কান্ডারীরা

Spread the love

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।।

অতিতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমান পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত। দলের দুর্দিনে যারা জীবন বাজি রেখে দলে কাজ করেছেন এমন ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্থান উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে না হলে ও স্থান পেয়েছে বিএনপি জামায়াতে তিন হেভিওয়েড চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের নামে ২০১২ -১৪ সালের সন্ত্রাস নাশকতা মামলা থাকলে ও বর্তমান কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদ তিনি স্থান করে নিয়েছেন। এছাড়াও কমিটিতে স্থান করে নিয়েছে সাবেক বিএনপি নেতা তৌফিকুল আমিন মন্ডল টিটু।বিগত ইউপি নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরন করা হলে ও বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয় নি। তার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়া হয় হোসেনপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সহ সভাপতি আহমেদুল কবির রাঙ্গা কবির কে।

দুঃখ জনক হলে ও সত্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সাধারন সম্পাদক মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর শুপারিশের ভিত্তেতে নৌকা প্রতীক পাওয়া এই প্রার্থী আহমেদুল কবির রাঙ্গায় স্থান হয় নি উপজেলা কমিটিতে।
তার স্থান দখল করেছে বিএনপি সমর্থিত হোসেনপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আমিন মন্ডল টিটু। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পেয়েছেন। অনেকটা হতাশা প্রকাশ করে আহমেদুল কবির রাঙ্গা জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভানেত্রী ও সাধারন সম্পাদকের মনোনীত হওয়ার পরে ও আমার স্থান হয় নি উপজেলা আওয়ামীলীগে।
এছাড়াও দলীয় পদ না পেলে ও আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন বিএনপি নেতা পবনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ছোট বাবা,সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ইসলাম।

পলাশবাড়ী থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি,বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মেনহাজ উদ্দীনের ছেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুর কাদির মুকুল বলেন দলীয় অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ত্যাগীরা আজ কোন ঠাসা হয়ে পরেছে।সময়ের ব্যাবধান ও অর্থিক ভাবে স্বচ্ছল না হওয়ায় অনেক ত্যাগীদের ঠাই হয়নি মুল কমিটিতে।অর্থ বিত্তবান ও হাইব্রিডরাই স্থান করে নিয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় আজ দলের এই অবস্থা!!
উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নির্মল কুমার মিত্র জানান পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগে যত অকর্ম কুকর্ম সব অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় হচ্ছে।আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে আওয়ামীলীগের ইতিহাস ঐতিহ্য জনপ্রিয়তা একসময় ক্ষীন হয়ে যাবে।১৫ আগষ্টের মত ইতিহাসের কলঙ্কিত একটি অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হতে পারে ।তখন আওয়ামীলীগের শ্লোগান দেওয়ার মত মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না।তাই উপজেলা আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযান জরুরি ।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল জানান,দলে অনু প্রবেশকারী যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করে অশুদ্ধ আওয়ামীলীগকে শুদ্ধ করা দরকার।তিনি আরো বলেন শুধু আওয়ামীলীগ নয় বেশ কয়েকটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে ব্যাপক অনুপ্রবেশ হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আজাদুল ইসলাম জানান ছাত্ররাজনীতি থেকে আজ মুল আওয়ামীলীগে স্থান করে নিয়েছি।হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীরা বিশেষ কোন ব্যাক্তির হাতকে শক্তিশালী করতে দলে অনুপ্রবেশ করেছে।ত্যাগীদের স্থান না দিয়ে আজ ও সদস্য ফরম তুলে দেয়া হচ্ছে হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের হাতে! এ ব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সৎ নিষ্ঠা ত্যাগী ও সংগ্রামী সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাদশা জানান সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা হলে ও পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগে কেন শুদ্ধি অভিযান নয়!আমরাই নিজেরাই পারি দলকে শুদ্ধি করতে! কিন্তু কেন জানি তা হচ্ছে না! আওয়ামীলীগের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতায় এরাই আজ বড় নেতা!

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপনের মোবাইল ফোনে রোববার দিবাগত রাত ৯ টা ১৯ মিনিটে যোগাযোগ করা হলো ফোন বন্ধ থাকায় মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয় নি।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু বক্কর প্রধান জানান, সে ছাত্র জীবনে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতো।নাশকতা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভুল ক্রমে সেই সময় মামলাটি হয়েছে

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ