October 12, 2019, 10:54 pm

বাংলাদেশে ৬ বছরে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে: বিশ্বব্যাংক

Spread the love

বাংলাদেশে ৬ বছরে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে: বিশ্বব্যাংক

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্ভব হয়েছে শ্রম আয় বৃদ্ধির কারণে। ফলে ২০১০ থেকে ২০১৬ সময়ে দেশের ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট’ নামে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এসময় বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বিগত দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু এখনও প্রতি চারজনের একজন দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। বাংলাদেশকে আরও অনেক কিছু করতে হবে বিশেষত দারিদ্র্যের নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। যেমন- শহর এলাকায় দারিদ্র্য মোকাবিলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের অর্ধেক শহরে বাস করবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমাচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম গতিতে। দারিদ্র্য বিমোচনের ৯০ শতাংশই গ্রামে হয়েছে। শহরে দারিদ্র্য কমেছে সীমিত হারে। এ ছাড়া অতিদারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে শহরের লোকের সংখ্যা একই রয়ে গেছে। ফলে জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচনে ধীরগতি। কৃষি নয়, গ্রাম অঞ্চলে দারিদ্র্য কমাতে শিল্প ও সেবা খাত অবদান রেখেছে। আলোচ্য সময়কালে কৃষি প্রবৃদ্ধি ধীর ছিল এবং সবচেয়ে কম দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রেখেছে। শহরাঞ্চলে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাত বিশেষত তৈরি পোশাক খাত দারিদ্র্য কমাতে শীর্ষ স্থানীয় ভূমিকা রেখেছে। এদিকে, উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের ধীর গতির কারণে সুবিধা পেতে পারতো এমন পরিবার অংশ চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, সেবাখাতে আত্মকর্মসংস্থানে নিহতদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। যা নগর দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতিবিদ এবং প্রতিবেদনটির সহ লেখক মারিয়া ইউজেনিয়া জেননি বলেন, প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, প্রথাগত বিভিন্ন চালিকাশক্তি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অগ্রগতির ক্ষেত্রে কিছু চালকের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এ সময় দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সরকারের অন্যতম শত্রু দরিদ্র্যতা। দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়ে, ২০১০ সাল থেকে অর্থনীতির গতি বাড়লেও দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে। বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি বলছে, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের পূর্ব এবং পশ্চিমের বিভাগগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতির ঐতিহাসিক পার্থক্য আবার ফিরে এসেছে। উল্লেখিত সময়ে পশ্চিমের রংপুর বিভাগে দারিদ্র্য বেড়েছে, রাজশাহী ও খুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন নেই। অন্যদিকে চট্টগ্রামে দারিদ্র কমেছে পরিমিতভাবে, বরিশাল, ঢাকা ও সিলেটে কমেছে দ্রুতগতিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের উপস্থিতিতে গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মারিয়া ইউজেনিয়া জেননি প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, ২০১০-১৬ সময়কালে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক উন্নতি করেছে। বিশেষ করে শ্রমিকের আয় বৃদ্ধি এই উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। এসময়কালের মধ্যে বাংলাদেশে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য সময়ে যে হারে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে তা ২০০৫-১০ সময়ের তুলনায় কম। ২০০৫-২০১০ সময়ে যেখানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক দশমিক সাত শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমেছে, সেখানে ২০১০-২০১৬ সময়ে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে বছরে এক দশমিক দুই শতাংশ হারে। জেননি দারিদ্র্যহার কমার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০১০-২০১৬ সময়ে দেশে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য কমেছে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। ২০১০ সালে বরিশালে দারিদ্র্য হার ছিল ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশে। একইভাবে চট্টগ্রামের দারিদ্র্য হার ২৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসে। আর সিলেটের দারিদ্র্য হার ২৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। উল্টোদিকে দেখা গেছে, ২০১০ সালে রংপুরে যেখানে দারিদ্র্য হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল, উল্লিখিত সময়ে তা বেড়ে ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। দারিদ্র্য কমার এই চিত্রে তিনি পূর্ব-পশ্চিমের ঐতিহাসিক পার্থক্য ফিরে আসার শঙ্কা দেখছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০-২০১৬ সময়ে দারিদ্র্য বিমোচনের ৯০ শতাংশই হয়েছে গ্রামে।শহরে দারিদ্র্য কমেছে সীমিতভাবে। অতিদরিদ্র্য জনগোষ্ঠির মধ্যে শহরের লোকের অবস্থান প্রায় একই রয়ে গেছে। ফলে জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচনের গতি শ্লথ হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, গ্রামাঞ্চলেও দারিদ্র্য কমাতে কৃষি নয়, শিল্প খাতই বেশি অবদান রেখেছে। আলাচ্য সময়কালে কৃষি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এ খাতটি আগের চেয়ে কম অবদান রেখেছে। আর শহরাঞ্চলে উৎপাদন খাত, বিশেষ করে পোশাক খাত দারিদ্র্য বিমোচনে নেতৃত্ব দিয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সিয়া টেম্বন বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছে। কিন্তু এখনও প্রতি চারজনের একজন দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। দারিদ্র্য কমানোর জন্য, বিশেষ করে দারিদ্র্যের নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শহর এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের অর্ধেকই শহরে বাস করবে বলে প্রক্ষেপন করা হয়েছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ