November 14, 2019, 9:27 am

বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যায় নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীরাও ধরা পড়বে: প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যায় নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীরাও ধরা পড়বে: প্রধানমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, এ রহস্য উদঘাটন হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীরা ধরা পড়বে। গতকাল রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধাপরাধী এবং খুনি, এদের সাজা হয়েছে, এদের বিচার হয়েছে। এদের যারা দোসর বা ষড়যন্ত্রকারী, হয়তো আমরা আজকে করে যেতে পারলাম না, আমরা করার চেষ্টা করবো বা আগামীতে যারা আসবে। তিনি বলেন, ইতিহাস কোনো দিন মুছে ফেলা যায় না। তখন এই ষড়যন্ত্রকারীরাও একসময় ধরা পড়বে। তাদের সে রহস্য উদঘাটন অবশ্যই হবে। কেউ না কেউ এটা করবে, এটা আসবে, এটা হবেই। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নাম যখন মুছে ফেলা হয়েছিল এদেশ থেকে, তখন বলেছিল আর কোনো দিন এ নাম ফিরে আসবে না। কিন্তু তা হয়নি। ২১ বছর পর আবার ফিরে এসেছে। যাই হোক এইটুকু বলবো, জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা বারবার সরকারে এসেছি বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে তাদের রায় কার্যকর করতে পেরেছি, জাতির পিতা হত্যার বিচার করে আমরা কার্যকর করতে পেরেছি, ৩ নভেম্বরের বিচার করে আমরা কার্যকর করেছি। এখনো এখানে-সেখানে যে কয়টা খুনি পালিয়ে আছে আমরা তাদের খোঁজখবর করছি। অন্যায়কে আমরা প্রশ্রয় দেইনি। বিএনপি নেতা-কর্মীদের মেরুদণ্ড ও আত্মমর্যাদা আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা দল, তার চেয়ারপারসন এতিমের অর্থ আত্মসাতে জেলে, আবার ভারপ্রাপ্ত যাকে করলো- বাংলাদেশে এত নেতা থাকতে বিএনপির নেতার এতই অভাব হয়ে গেলো যে, একজন নেতা পেল না যে- আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং যে পলাতক, তাকে বানালো ভারপ্রাপ্ত, বিএনপির নেতৃত্বের এত অভাব! আমি জানি না যারা বিএনপি করেন ওনাদের কোনো মেরুদণ্ড আছে কি-না সেটাই আমার সন্দেহ, তাদের কোনো আত্মমর্যাদা বোধ আছে কি-না সেটাই আমার সন্দেহ। দুর্নীতিতে দণ্ডিত খালেদা জিয়ার মুক্তি যারা দাবি করছেন, তাদের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অনেকেই এখন বিএনপি নেত্রীর জন্য ‘মায়াকান্না’ করছেন, অথচ আন্দোলনের নামে নাশকতা এবং হত্যা-ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে যারা স্বজন হারিয়েছেন-পঙ্গু হয়েছেন তাদের কথা তো কারও মনে পড়ে না। তাদের ব্যথা কি ব্যথা বলে মনে হয় না?, প্রশ্ন রেখেছেন পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট বাবা-মাসহ পরিবারের অধিকাংশ স্বজনকে হারানো বঙ্গবন্ধুকন্যা। এই নৃশংসতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্তদের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দশম সংসদ নির্বাচনেরর প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি জোটের টানা তিন মাসের অবরোধ-হরতালে নাশকতায় প্রাণহানির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) নিজের বাসা গুলশান, অফিসও গুলশানে। গুলশানে বসে থেকে খালেদা জিয়া অসহযোগ আন্দোলন আর হরতাল। সেই অসহযোগ আন্দোলন কিন্তু এখনও তোলে নাই তারা। তাদের অবরোধও কিন্তু ওঠেনি। তাদের অবরোধ-হরতাল আর অগ্নিসন্ত্রাস। জীবন্ত মানুষগুলো, যার কোনো অপরাধ নাই তাদের পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করল। লঞ্চে আগুন, গাড়িতে আগুন, ট্রাকে আগুন, বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন। কোন জায়গাটায় নাই আগুন? গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে, থামিয়ে ড্রাইভারকে টান দিয়ে নামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন, সে জীবন ভিক্ষা চাচ্ছে তাকে ছাড়েনি। সিএনজি যাচ্ছে সিএনজিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে দিল ড্রাইভারকে বের হতেই দিল না। এই রকম বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। এত অন্যায় এতো আল্লাহও সহ্য করে না। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে। তার জন্য দেখি অনেকের মায়াকান্না। এই যে আগুনে পোড়া মানুষগুলো, এই যে ২০০১ এরপর আমাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর উপর অত্যাচার, নির্যাতন যারা এখনো পঙ্গু। গ্রেনেড হামলার স্পিøন্টার নিয়ে যারা বেঁচে আছে। অনেকে মারা গিয়েছে। অনেকে অসহায় জীবন যাপন করছে, সেই ’৭৫ সাল থেকে যদি আপনারা ধরেন, যারা আমরা স্বজনহারা, বেদনা নিয়ে বেঁচে আছি তাদের কথা কি কারও মনে পড়ে না? তাদের ব্যথা কি ব্যথা বলে মনে হয় না? খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, খুনির স্ত্রী খুনি আবার ছেলেও তাই। সেটা আবার কি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সেই মামলা। আর দুর্নীতি তো আরও আছে। মামলায় হাজিরাই দেয় না, কোর্টেই যায় না। জানে যে কোর্টে এলেই তো চার্জশিট হয়ে যাবে, বিচার হলে সাজা একেবারে অবধারিত। দুর্নীতিতে দণ্ডিত খালেদাপুত্র তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যে দুর্নীতি আমরা না, কিছু এফবিআইয়ের রিপোর্টে বের হয়েছে, সেই আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে তার ছেলে যে ঘুষ খেয়েছে। দুর্নীতি করেছে। সিঙ্গাপুর থেকে কিছু টাকা আমরা ফেরত আনতে পেরেছি মানিলন্ডারিং করেছিল তাদের জন্য এতটা মায়াকান্না তাদের চিকিৎসার চিন্তা! তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক সেনাপ্রধান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানকে কোনো দিন সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে দেননি, তাকে অপমানও করেছেন। একটার পর একটা অন্যায় তারা করে গেছে। শুধু খুনিদের উৎসাহিত করা না, একজন আহত মুক্তিযোদ্ধা, যাদের মহান ত্যাগে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার যারা করেছে তাদের জন্য এত কান্নাকাটি কাদের- আমার সেটাই ভাবতে অবাক লাগে। বিএনপির অন্যান্য নেতাদের নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বলেন, একটা দল যার চেয়ারপরসন এতিমের টাতা আত্মসাতে জেলে। আবার ভারপ্রাপ্ত যাকে করল বাংলাদেশে এত নেতা থাকতে বিএনপি নেতার এতই অভাব হয়ে গেল যে, একজন নেতা পেল না যে আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও যে পলাতক, তাকে বানাল ভারপ্রাপ্ত। বিএনপির নেতৃত্বের এত অভাব? আমি জানি না যারা বিএনপি করে তাদের কোনো মেরুদণ্ড আছে কি না, সেটাই আমার সন্দেহ। তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ আছে কি না সেটাই আমার সন্দেহ, তারা আবার সেই মায়াকান্না কাঁদে। বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে জানতে চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময়। সে সম্মান বাংলাদেশ পেয়েছে, এই সম্মান আমাদের ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ, সারাবিশ্বে অনেকে প্রশ্ন করেন আমাকে- আমরা এত দ্রুত কীভাবে এই উন্নতিটা করতে পারলাম! আমার কথা একটাই, যদি আন্তরিকতা থাকে, আর যেটা আমার বাবা-মায়ের কাছে শিখেছি- দেশকে ভালবাসা, দেশের মানুষের প্রতি যদি দরদ থাকে, ভালবাসা থাকে, দায়িত্ববোধ থাকে, কর্তব্যবোধ থাকে তাহলে অসাধ্য সাধন করা যায়। মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। এটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একদিকে অর্থনৈতিকভাবে দেশের উন্নতি করা, দেশের অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়ন, পাশাপাশি দারিদ্র্যের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিয়ে, ঠিক জাতির পিতা যেভাবে চেয়েছেন এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এটাই আমাদের লক্ষ্য। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, সাহারা খাতুন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আনোয়ার হোসেন, একে এম রহমত উল্লাহ, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ