September 21, 2019, 11:53 pm

“ফেসবুক স্ট্যাটাস” নতুন ভবন ও স্ট্রিট লাইট পেল সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের

Spread the love
কামাল হোসেন,তাহিরপুর থেকে ঃ
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৪ তলা বিশিষ্ট 
নতুন ভবন ও স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করলেন সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি হাওর কন্যা এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার। জানাযায়,  সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অধ্যুষিত তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী তীরবর্তী বৃহৎ এলাকার সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের একমাত্র শিক্ষাস্থল । বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত রয়েছে প্রায় ৮’শতেরও অধিক ছাত্রছাত্রী। কিন্তু ওই এলাকা থেকে প্রাথমিক পাশ করার পর মাধ্যমিকে পড়াশোনা করতে হলে  সোহালা সরকারি প্রাথমিক  থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে পড়াশোনা করতে হয়। যার ফলে ওই এলাকা থেকে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় অনেক দূর হওয়ায় এবং স্কুলে যাতায়াতে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তাঘাটে বিভিন্ন সমস্যা থাকায় অনেকেই প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়েই শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পরত। তাই ২০১৫ সাল থেকে স্কুলটিতে অষ্টম শ্রেণি চালু করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই স্কুলটিতে  সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে নানান সমস্যার। বিঘ্নিত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম। এবং ২০১৮ সালে স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন গোলাম সরোয়ার লিটন। তিনি যোগদানের শুরু থেকেই স্কুলের বিবিধ সমস্যার নিয়ে যেমন, বিশুদ্ধ পানি, একাডেমিক ভবন, শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থা, শিক্ষক সংকটসহ এসকল বিষয়াদি সমাধানে স্থানীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ সকল সমস্যা অনেকাংশে আলোর মুখ দেখতে শুরু করে। এবং স্কুলের পাঠদান, সমাবেশ, নানান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার লিটন ছিলেন বেশ সোচ্চার।তার ফেইসবুক পোস্ট থেকেই  কিছুদিন আগে এরই ফলস্বরূপ অবকাঠামোগত সমস্যার একটা পোষ্টে দৃষ্টিগোচর হয় এ অঞ্চলে হাওর কন্যা বলে খ্যাত সংরক্ষিত আসনের এমপি এ্যাড. শামিমা শাহরিয়ারের এবং একাডেমিক ভবনের সমস্যা সমাধান কল্পে তিনি একটি চারতলা ভবন ও একটি স্ট্রিট লাইটের অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানান।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার লিটন জানান,সুনামগঞ্জে শিক্ষকদের নিয়ে অনুষ্টিত এক সভা শেষে যখন বাড়ি ফিরছিলাম সেদিন, তাহিরপুর পৌঁছার আগেই আমাদের হাওরবাসীর প্রিয়মুখ হাওরকন্যা বলে পরিচিত সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের মাননীয় সাংসদ  শামীমা শাহরিয়ার ভাবীর মুঠোফোন থেকে কল আসে আমার মুঠোফোনে। আমি সিএনজি করে আসছিলাম। তাই ফোনে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। তিনি বলেন সিএনজি থেকে নেমে তোমার স্কুলের ইএমআইএস কোড নাম্বার দাও। আমি সিএনজি থেকে নেমে ইএমআইস কোড নাম্বার দিয়ে জিজ্ঞেস করি কেন ভাবি? তিনি বলেন , তোমার ফেইসবুক আইডিতে মাঝে মাঝে দেখছি স্কুলের অবকাঠামো নিয়ে তোমার আবেদন নিবেদন। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলে।ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় আট শতাধিক। বিদ্যালয়টি জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফলাফলেও উপজেলায় সেরা। কিন্তু অবকাঠামো সংকটে পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। তাই তোমার বিদ্যালয়ে একটি চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন ও একটি স্টীট লাইটের ব্যবস্থা করেছি ।আশা করছি সবকিছুর কাজ দ্রুতই শুরু হবে।নতুন একাডেমিক ভবন ও স্ট্রিট লাইট অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে শামীমা শাহরিয়ারের সহিত যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একাডেমিক ভবনের অভাবে পাঠদানের নানান সমস্যা সংবলিত একটি লেখা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে আমার নজরে আসার পর হাওর অধ্যুষিত তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী তীরবর্তী বৃহৎ এলাকার কোমলমতি শিশুদের পাঠদান যেন একাডেমিক ভবনের কারনে বিগ্ন না ঘটে এবং যাদুকাটা নদী তীরবর্তী বৃহৎ এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অযত্নে অবহেলায় অকালেই ঝড়ে না পড়ে সেজন্য নতুন একাডেমিক ভবন এবং একটি স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ