September 16, 2019, 8:28 am

ফলোআপ নবীগঞ্জে এক মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন ও একাধিক বার ধর্ষণের অভিযোগ

Spread the love

আব্দুস সামাদ আজাদ,সিলেট প্রতিনিধিঃ

নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের  এক কাজের মেয়েকে সিলেট নগরীর
উপশহরের বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৭-৮ মাস যাবৎ মানসিক শারীরিক নির্যাতন ও একাধিকবার ধর্ষণের ফলে মেয়েটি মানসিক বিপযস্ত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে মেয়েটির মা বাদী হয়ে  হবিগঞ্জ নারী ও শিশু  নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। ( মামলার নং ২৬/১৯)। এ ব্যাপারে  মেয়েটির মা বলেন, আমার মেয়েকে মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত উরুস আলীর ছেলে হুমায়ূন মিয়া তার বাসায় কাজে নেওয়ার জন্য বলে। আমি প্রথমে তার বাসায় কাজে আমার মেয়েকে কাজে দেবনা বলে জানালে সে আমাদের মিচকিনপুর গ্রামের মৃত এরশাদ উল্যার ছেলে এসাব আলী উরফে শাহাবুদ্দিন সহ কয়েক জন এসে আমার মেয়েকে হুমায়ূনে বাড়ীতে নিয়ে যায়, এর দু দিন পর আমার মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলে হুমায়ূন তাকে সিলেট উপশহরের  বাসায়  নিয়ে গেছে। এর পর থেকে আমার মেয়ের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পরিনি। গত রমজানের ঈদে আমার মেয়ে বাড়ী এসে তার উপর   নির্যাতন  কথা বলে হুমায়ূনে বাসায় যাবেনা বলে জানায়। ঈদের দু দিন পর থেকে হুমায়ূন আমার মেয়েকে বাসায় নিয়ে যেথে চাইলে আমি মেয়েকে তার বাসায় দেব না বলে জানিয়ে দেই। এর পর থেকে আমাদের গ্রামের এসাব আলী পূনরায় আমার বাড়ীতে এসে আমার মেয়েকে হুমায়ূনের নিয়ে য়েতে বলে। আমি তাকে আমার মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতনের   কথা বললে সে (এসাব আলী)এ ঘটনা আর পূনরায় ঘটবেনা বলে আমার মেয়েকে হুমায়ূনের বাসায় নিয়ে য়ায়। এক পর্যায়ে মেয়েটির সাথে প্রেমের অভিনয় করে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন হুমায়ুন মিয়া। কয়েক মাসে একাধিক বার ধর্ষণে মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মেয়েটি বিয়ের জন্য একাধিকবার লম্পট হুমায়ুনকে চাপ দেয়। এতে হুমায়ুন গর্ভ নষ্ট করার পরামর্শ দেয়।কিন্তু মেয়েটি গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে অনিহা প্রকাশ করলে হুমায়ুনের মা-কে জানালে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়।গত  ১৭ আগস্ট শনিবার  বিকেলে মেয়েটি আবারো বিয়ের জন্য চাপ দিলে হুমায়ূন তার শয়ন কক্ষেমেয়েটিকে বেঁধে মারপিট করে। মারপিটের এক পর্যায়ে মেয়েটি গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রোববার (১৮ আগস্ট) ভোরেনির্যাতিত মেয়েটিকে নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল সামিট বিবিয়ানা বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লাান্টের রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় গৃহকর্তা হুমায়ূন মিয়া ।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়েটিকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে এলাকার কয়েকজন লোক বলেন লম্পট হুমায়ূনের কূকর্মের সাথী হল এসাব আলী উরফে শাহাবুদ্দিন। এ ঘটনার মাস ছয়েক আগে এসাব আলীর মাধ্যমে এলাকার আরেকটি  মেয়েকে বাসায় কাজের কথা বলে হুমায়ূন তার সাথে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ে করার লোভ দেখিয়ে মেয়েটির সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে মেয়েটি আত্নসত্বা হয়ে পড়লে লোক  লজ্জার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। নির্যাতিতার মা ছায়ারুন বেগম বলেন আমাদের দারিদ্রতার সুযোগে হুমায়ুন মিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়। । এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী হুমায়ুনসহ তার সহযোগী এসাব আলীর শাস্তি  দাবি করে তিনি বলেন আমার মেয়ের মতো অন্য কোন মেয়ের জীবন যেন  নষ্ট না হয়।বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন এর সাথে কথা হলে
তিনি জানান বিষয়টি শুনেছি সত্যি বিষয়টি খুবই মর্মস্পশী। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ