September 14, 2019, 1:39 pm

শিরোনাম :
মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধই আমার মূল লক্ষ; ফরিদ উদ্দিন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ ঘোষণার দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপন কলাপাড়ায় নদীতে পড়ে বার্জ শ্রমিক নিখোঁজ শিবগঞ্জে গুজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন তালায় রুগ্ন গাভী জবাই : মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান পিযুষসহ আটক ৪, অস্ত্র, গুলি, ইয়াবা উদ্ধার কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের গল্প নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বীরগাথা শীর্ষক ডকুমেন্টরী ইসলামে আশুরা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ দিন রাজারহাটে অটো রিক্সার ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহির মৃত্যু

পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার প্রত্যাহারসহ ১৩ দাবি ঐক্যফ্রন্টের

Spread the love

পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার প্রত্যাহারসহ ১৩ দাবি ঐক্যফ্রন্টের

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭০ কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের কাছে ওই কর্মকর্তাদের তালিকা জমা দিয়েছে রাজনৈতিক এ জোট। সেই সঙ্গে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আলাদা চিঠি দিয়েছেন জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত চিঠি ও তালিকা জমা ইসি সচিবের কাছে জমা দেন। আলাল বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য পুলিশের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়া জন্য বলেছি। পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারের মতো পদধারী ৭০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। যারা সমতল মাঠকে অসমতল করার কাজে ব্যস্ত, তাদের নাম, পদবী, কর্মস্থলসহ সব তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছি। তিনি বলেন, সিইসি আজ নিরপেক্ষ থাকার জন্য পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছেন। আহ্বান জানানো মানে অনুরোধ করা। তিনি তো নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইসির কাছে দালিলিক কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারে না, সে কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেছি এবং প্রতিকার চেয়েছি। সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এসব কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না হয়, এজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আমাদের চোখে পড়েছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- রাষ্ট্রপতি, আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি; তার পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বঙ্গভবনে এলাকার লোকজন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে আদর-আপ্যায়ন করা হয়েছে, যেটা প্রভাব বিস্তারের একটা অন্যতম উদাহরণ হিসেবে আমরা মনে করি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ডেকে গত ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছেন। পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিট্রন পুলিশের কমিশনার, তার এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ডেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। আলাল বলেন, এনটিএমসি এবং বিটিআরসি বিতর্কিত দলকানা কর্মকর্তা কর্মচারীরা আছেন। তারা কিছুদিন আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারেক রহমানের স্কাইপে কথপোকথন বন্ধ করেছেন। গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের আশপাশে ইন্টারনেট কার্যক্রম বন্ধ কেরেছেন। যেটাও আচরণবিধির লঙ্ঘন। ব্যাপকহারে গ্রেফতার এখনো চলছে। গতকাল (গত বুধবার) রাতেও বিভিন্ন জায়ড়গায় গ্রেফতার চলেছে। তারমধ্যে আমাদের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও রয়েছে। যে নির্দেশনা পোস্টার বিলবোর্ডসহ প্রচারণা সামগ্রী সরানোর যে নির্দেশনা কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছিল, এখনো ঢাকা শহরের বহু জায়গায় নৌকা এবং লাঙ্গলের পোস্টার রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। উপরন্তু সিটি করপোরেশন ও আরও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মের নামে নৌকার পক্ষে প্রচার কাজ অবিরাম চালানো হচ্ছে। এটা বন্ধ করার দাবি করা হয়েছে বলে জানান মোয়াজ্জে হোসেন আলাল। তিনি বলেন, গণহারে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। এদের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দলবাজ কর্মকর্তাদেরও প্রত্যাহার চাওয়া হয়েছে। আমরা ঢালাও অভিযোগ করি না। আজকে লিখিতভাবে সব তথ্য প্রমাণসহ দিয়ে গেলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীনরা এমন আচরণ করছে, মনে হচ্ছে ভোট থেকে সরে যেতে বাধ্য করার জন্যই তারা তড়িঘড়ি করছে। আমরা অবিলম্বে সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিইসির নির্দেশনা চেয়েছি, যাতে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে। নোতাকর্মীদের গ্রেফতার, অন্য এলাকার লোকজনকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, ‘দলকানা’ লোকদের পদায়ন, সার্কিট হাউজে ইসি সচিব ও মুখ্যসচিবের কথিত ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠকের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিএনপির ওই ১৩ দফার মধ্যে। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ‘বঙ্গভবনে’ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী রাষ্ট্রপতি পুত্রের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সভা ও আপ্যায়ন অনুষ্ঠান হয়েছে অভিযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফ করার বিষয়ে ইসিতে নালিশ দেওয়ার পর এবার বঙ্গভবনের বিষয়ে অভিযোগ করল কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই জোট। বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ডেকে গত ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছেন। পরে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, তার এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ডেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে।

কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার দাবি: জনপ্রশান সচিব, ইসি সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার; চট্টগ্রাম, ভোলা, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রাজশাহী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকদের (রিটার্নিং অফিসার) প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম তার চিঠিতে বলেছেন, এই কর্মকর্তারা ‘নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী’ হওয়ায় তাদের প্রত্যাহার করা দরকার। র‌্যাবের ডিজি ও ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশ প্রশাসনের ৭০ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাদের ভোটের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে বলা হয়েছে চিঠিতে। পাবনা, সিরাগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, ভোলা, বরিশাল, সিলেট, শেরপুর, ময়নসিংহ, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার পুলিশ সুপারের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। তার আগে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ