July 16, 2019, 4:15 am

প্রতিকি ছবি

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ধর্মান্তরিত করে রাত্রিযাপন, পুলিশি বিচার প্রশ্নবিদ্ধ

Spread the love
অনিমেশ হালদার,পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

প্রতিকি ছবি

স্বরূপকাঠীতে অপহরনের একদিন পর এলাকাবাসির সহায়তায় উদ্ধার হয়েছে আলকিরহাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী।গত  শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে একাদশ শ্রেণী পড়ুয়া দেবীদাশকাঠির বিনয় মিস্ত্রীর ছোট ছেলে বিক্রম মিস্ত্রী তাকে নিয়ে যায় বলে নেছারাবাদ থানাধীন পাটিকেলবাড়ি পুলিশ ফাড়িতে লিখিত অভিযোগ করেন মোঃ আলম তালুকদার। কিন্তু অপহৃত ছাত্রীটির পরিবার ও সস্বজনদের অভিযোগ, তারা মেয়ের সন্ধান না পেয়ে সন্দেহভাজনদের খোজনিয়ে জানতে পারে তাদের মেয়েকে ভারতে পাচার করা হবে। তারা পাশ্বর্বর্তি নাজিরপুর থানার শ্রীরামকাঠী এলাকায় অবস্থান করছে। এমন সময় অনুমান দুপুর ১টায় পাটিকেলবাড়ি পুলিশ ফাড়িতে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত সকল অফিসারগণ ঘুমে ব্যাস্ত সময় পার করছিলেন। অনেক চেস্টার পর এএসআই সিরাজ এসে ঘটনা শুনে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে ফাড়ি ইনচার্য এসআই সঞ্জয়ের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফাড়ি ইনচার্যের কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে পূনরায় এএসআই সিরাজের স্মরণাপন্য হলে তিনি বলেন, ইনচার্য সঞ্জয় স্যার লোক ধরার অনুমতি দেয় নি। আপনারা হাজার পাঁচেক টাকা দিয়ে থানায় এফআইআর করেন। অতঃপর আমরা পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগ, নাজিরপুর যুবলীগ, স্থাণীয় জনপ্রতিনিধিদের স্মরণাপন্য হলে তারা বিক্রম মিস্ত্রর নিকটাত্নীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরের দিন রবিবার সকালে শাখা শিদুর পড়া নাবালিকা মুসলিম মেয়ে ও বিক্রমকে দৈহারী ইউপির খাড়াবাগ এলাকা থেকে আটক করে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসার জন্য মেয়ের বাড়িতে উভয় পরিবার ও সমাজ উপস্থিত হয়। এখবর পাওয়ার পরই পাটিকেলবাড়ি ফাড়ির পুলিশ বিনা অভিযোগে ছেলে মেয়েসহ উভয় পরিবাররকে ফাড়িতে নিয়ে যায় এবং বিক্রমকে দিয়ে দুই লক্ষ টাকা দাবীর মিথ্যা অভিযোগ তুললে উপস্থিত জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা উত্তেজিত হয়ে ঘটনা প্রমাণের জোর দাবী তুললে বিক্রমের অভিযোগ মিথ্যা বলে সাফ জানিয়ে দেয় তার পিতা এবং বিক্রম উপস্থিত সকলার সামনে কোন অর্থ চাওয়া হয়নি বলে জানায়। অবশেষে ফাড়ি ইনচার্য তাদের অনুমান বিকাল ৫টায় উভয় পরিবারের কাছে মুচলেখার পরে হস্তান্তর করে।এবিষয়ে স্কুল ছাত্রীটি জানায়, বিক্রমরে সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক। সে অনুযায়ী বিক্রমের বড় ভাই বিপ্লবের শ্বশুরবাড়িতে তারা একত্রে রাত্রী যাপন করে এবং হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী সমাজ রক্ষায় তাকে শাখা শিদুর পড়ানো হয়েছিল। বিক্রম মুসলিম হলে তাকে বিয়ে করতে রাজি বলে জানায় সে। তবে বিক্রম জানায়, তাকে মুসলিম হতে হলেও সে ওই মেয়েকেই বিয়ে করবে।এদিকে ধর্মীয় কারণে পাটিকেলবাড়ি ফাড়ি ইনচার্য সঞ্জয় এ ঘটনায় নিশ্চুপ থেকেছেন এবং মেয়ের পরিবার ও স্থাণীয় জনপ্রতিনিধিগণ আইনি ব্যাবস্থা নিতে পারে এমন সংবাদে তাদের আটক করে ফাড়িতে নিয়ে মুচলেখার মাধ্যমে উভয় পরিবারের কাছে তাদের বুঝিয়ে দিয়েছে বলে জাতীভেদের অভিযোগে ফুসছে এলাকাবাসি।  এব্যাপারে উপস্থিত জনতার সামনে এএসআই সিরাজকে মেয়ে উদ্ধারে পুলিশের নিরবতা ও জনগণ উদ্ধার করার পরেই তাদের ব্যাকুলতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজ বলেন, আমি উর্ধতন অফিসারের অধিনস্ত।মেয়েটি উদ্ধারে অনিহার ও নাবালকদের রাত্রীযাপন ও ধর্মান্তর করার ব্যাপারে পাটিকেলবাড়ি ফাড়ি ইনচার্য এসআই সঞ্জয় বলেন, সেটা অামার উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। উভয় পরিবারকে তাদের ছেলে মেয়ে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধিদের সামনে বুঝিয়ে দিয়েছি।এব্যাপারে নেছারাবাদ থানার ওসির সরকারি মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ওসি তদন্ত মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, মেয়ের পরিবার আইনগত ব্যাবস্থা নিতে চাইলে আমরা সহায়তা করব। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ছেলে মেয়েদের পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৯জুলাই ২০১৯/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ