February 17, 2020, 2:38 pm

শিরোনাম :
ভোলায় জ‌মি- বি‌রো‌ধে একই প‌রিবা‌রের আহত-৩ একুশে বই মেলা ২০২০ সালে ডা.এম এ মাজেদের স্বাস্থ্য বিষয়ক বই হোমিওসমাধান প্রকাশিত হয়েছে জৈন্তাপুরে বসন্ত উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন জৈন্তাপুরে তথাকথিত মৎস্যজীবী লীগের কমিটি বাতিলের দাবীতে  প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবৈধ ভর্তি ফি এবং বেতন আদায়ের প্রতিবাদে মানব বন্দন ধর্মপাশার প্রকৃত কৃষকদের পিআইসিতে অন্তর্ভূক্ত করণের দাবীতে মানববন্ধন শার্শায় সম্প্রীতি বাংলাদেশের সংলাপ অনুষ্টান অনুষ্ঠিত বকশিগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত গুইমারায় সেনাবাহীনী কর্তৃক প্রতিবন্ধিকে হুইল চেয়ার ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে নগদ অনুদান প্রদান শিবগঞ্জের সাংবাদিক প্রদীপ মোহন্তের মাতার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক

পল্লী বিদ্যুতের লাইনের কাজে গিয়ে কেশবপুরের যুবক নিহত, পরিবারে শোকের মাতম

Spread the love

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) থেকে ঃ

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের দিনমজুর কছির মোড়লের ছেলে রিপন হোসেন (১৮) অভাবের তাড়নায় পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সামিতি- ২ এর খুটি পোতার কাজে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে নিহত হয়েছে। দিনমজুর পরিবারটি তার চিকিৎসায় প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেও তাকে বাঁচাতে পারেনি। ঘটনাটি এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনও পরিবারটি ক্ষতিপূরন পাইনি। অপরদিকে, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিনমজুর পরিবারটিতে চলছে এখনও শোকের মাতম।

জানা গেছে, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সামিতি- ২ এর লাইন সম্প্রসারণের কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এফ এন্টারপ্রাইজ। এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি বাগিয়ে নেয় কেশবপুর উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের মৃত রশিদ সরদারের ছেলে সাব ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর। এ সময় তিনি এ কাজের শ্রমিক হিসেবে সাগরদাঁড়ি গ্রামের দিনমজুর কছির মোড়লের একমাত্র ছেলে রিপন হোসেনকে শ্রমিক হিসেবে কাজ দেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর রিপন হোসেন এ কাজে গিয়ে গাছের ডাল কাটার সময় অসাবধানতাবশত: গাছ থেকে পড়ে ঘাড়ের মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে মারাতœক জখম হয়। এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে খুমেক হসপাতালে ভর্তি করে। দু’দিন পর ওই হাসপাতাল থেকে তাকে রেফার করা হয় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। কিন্তু তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তাররা চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করে। ফলে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে বাড়ি আনা হয়। প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। ওই দিনই তাকে পারিপারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। রিপন হেসেন দীর্ঘ ১১ দিন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও ঠিকাদার বা সাব ঠিকাদার কোন দিন তার দিকে ফিরেও তাকায়নি। দিনমজুর ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অকাল মৃত্যুতে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।

গত বুধবার সরেজমিনে রিপনের বাড়িতে গেলে তার বাবা কছির মোড়ল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, তার বাস্তভিটা ৩ শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। স্ত্রী নাছিমা ছেলে রিপন হোসেন ও ৭ বছরের মেয়ে মিতুকে নিয়ে ছিল তার সংসার। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অভাবের তাড়নায় তার ছেলে যায় পল্লী বিদ্যুতের কাজে। ছেলে হারানোর শোকে তার মা স্তব্ধ হয়ে গেছে। ধার, দেনা ও সুদে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করায়ে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে পারেনি। ঠিকাদার বলেছে, থানায় অভিযোগ করলে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করবে। তাই তিনি কোথাও অভিযোগ করেননি।
এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর বলেন, ছেলেটি গাছ থেকে পড়ে মারা গেছে। আমি যতদূর পারি তাদের সহযোগিতা করবো।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ