June 14, 2019, 3:15 pm

পরিবহন মালিকদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে: ওবায়দুল কাদের

Spread the love

পরিবহন মালিকদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে: ওবায়দুল কাদের

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকে পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সড়কে ও পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা নেই। এটা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের চ্যালেঞ্জ। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। জনগণ ভুক্তভোগী। আমরা এটার প্রতিকার করব। পরিবহন মালিকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তাদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে যানজট ও জনজট এখন দুর্বিষহ। ঢাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা চলছে। বছরের পর বছর ধরে এটা চলতে পারে না। তবে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা জনগণকে কথা দিয়েছিলাম এবার ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করব। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছি। এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে মাত্র চার ঘণ্টায় যাতায়াত করা যায়। এটা আগে কল্পনাও করা যেত না। এটা অবশ্যই আমাদের সাফল্য। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলেই মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হয় না। পরিবহন সেক্টরেরও শৃঙ্খলা প্রয়োজন। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এবং আমার কাছে যতটা খবর আসে তাতে মনে হচ্ছে, পরিবহন সেক্টরে কোনো শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ নেই। পরিবহন মালিকরা শুধু ঢাকাতেই নয়, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। তাদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যদিও এখানে প্রভাবশালী বক্তিরা জড়িত থাকায় এটা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়, তবে আমরা অবশ্যই এসব কিছু নিয়ন্ত্রণে আনব। ঈদের পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকাকে নিয়ে আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মরহুম মেয়র আনিসুল হক এ বিষয়ে একটি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। ঈদের পর আমরা ঢাকা মহানগরের সড়ক শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোকে নিয়ে বৈঠকে বসব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সিঙ্গাপুর, টোকিওসহ উন্নত রাষ্ট্রের শহরগুলোর সড়কে আমাদের চেয়েও বেশি গাড়ি চলে। তবে সেখানে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় কোনো ধরনের যানজট তৈরি হয় না। যত বিশৃঙ্খলা আমাদের ঢাকা শহরে। যানজটমুক্ত নগরী গড়তে আমাদের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক ও যানবাহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা বিএনপির চরম ব্যর্থতা বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। কাদের সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনাদের দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে বন্দি। আপনারা তাঁর মুক্তির জন্য রাজনৈতিকভাবে কী কর্মসূচি পালন করেছেন? আপনারা সরকার ও আদালতের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করতে পেরেছেন? আপনারা কি চরমভাবে ব্যর্থ নন? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠায়নি। আদালতের রায়ে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে আমার জানতে ইচ্ছে করছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা কী করছেন? অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি কোনো উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক স্পেস পাচ্ছে। তাদের কোনো কর্মসূচি পালনের বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তারা স্বাধীনভাবে সব ধরনের কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কোনো সক্ষমতা আছে কি না, এটা নিয়েই আমার প্রশ্ন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা রাজনীতি থেকে বিদ্বেষমূলক শব্দগুলো পরিহার করতে চাই। বিদ্বেষের রাজনীতি ত্যাগ করে গঠনমূলক ইতিবাচক রাজনীতির ধারা চালু করতে চাই। এতে বিরোধী দলেরও এগিয়ে আসা উচিত।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ