April 18, 2019, 4:22 pm

নানা আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষ বরণ

Spread the love

নানা আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষ বরণ

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজনে গত রোববার বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে। ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ -প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা, যাতে অংশ নেয় নানা সাজে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশুরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধনের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চারুকলা থেকে বের হয়ে শাহবাগ শিশুপার্ক ঘুরে এসে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হয় এই শোভাযাত্রা। বাংলাদেশের এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ইতোমধ্যেই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এবারের শোভাযাত্রার সামনে র‌্যাবের গাড়ি বহর ছাড়াও পুলিশ ও স্কাউট দলের সদস্যরা ঘিরে রাখায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগও ছিলো কম। মুখোশে রাজা-রাণীর পেছনে গাছের চূড়ায় পাখি আর পাখির ছানা আর প্যাঁচা এবং তাদের অনুসরণ করে হরিণ, বাঘ, বকসহ নানা কিছু ছিলো এই শোভাযাত্রায়। ওদিকে রমনার বটমূলেও যথারীতি ছিলো ছায়ানটের বর্ষবরণের ঐতিহ্যময় আয়োজন। ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’- এ প্রতিপাদ্যে ছায়ানটের এ আয়োজন শুরু হয় ভোর ছয়টায় এবং বরাবরের মতোই অসংখ্য মানুষ এ আয়োজন দেখতে সমবেত হয়েছিলো রমনায়।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে দল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সকল কর্মের মধ্যদিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে যাবো। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেখেছিলেন। আর সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উপলক্ষে গত রোববার ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গালফ ক্লাবে আয়োজিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাষ্ট্রপ্রধান সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা ও তাদের পরিবাররের সদস্যদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর পতœী রাশিদা খানম, পুত্র রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি এবং বঙ্গভবনের কর্মকর্তারাসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকা লেডিস ক্লাব এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সন্ধ্যায় গলফ ক্লাবে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি হামিদ সশস্ত্র বাহিনীর পারফর্মার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা নৈশভোজে যোগ দেন।

এদিকে, ভুটানের সফররত প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংও গত রোববার রাজধানীতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি সকালে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরের ধারা ও চ্যানেল আই টেলিভিশন চ্যানেলের যৌথ আয়োজনে নববর্ষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। লোটে শেরিং আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পরিবেশনায় মুগ্ধ হন। শেরিং নেপালী ভাষার একটি গানসহ বিভিন্ন সঙ্গীত উপভোগ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বাঙালির বৃহত্তম উৎসব পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে তাঁর সন্তোষের কথা প্রকাশ করে বাংলা ভাষায় বলেন, আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভ নববর্ষে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এছাড়া, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ জায়গায় উৎসবমূখর পরিবেশে নানা আয়োজনে নববর্ষকে স্বাগত জানায় মানুষ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নীলফামারী: জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটে দিনটির। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত রোববার সকালে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রাটি কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এ- কলেজ প্রাঙ্গনের বৈশাখী চত্ত্বর থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এরপর সেখানে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন, গ্রামীণ মেলা ও শিশু আনন্দ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের কুইজ, রচনা, চিত্রাঙ্কন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পিরোজপুর: গত রোববার জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ১লা বৈশাখ ১৪২৬ সনকে বরন করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এক বিশাল বর্নাঢ্য র‌্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। র‌্যাললিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, জেলার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পদমর্যাদার রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাগণ সহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

গোপালগঞ্জ: পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল পৌনে ৮ টায় স্থানীয় পৌরপার্ক থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। এর আগে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খন্ড খন্ড নিজস্ব শোভাযাত্রা নিয়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রার সাথে মিলিত হয়। সেখানে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষবরণ’র এসো হে বৈশাখ এসো এসো- গানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ’র অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার ও পুলিশ সুপার মোঃ সাঈদুর রহমান খান বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রা শুরু করেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুকুর পাড়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান স্থলে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। জেলা প্রশাসন, সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উদীচী,বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ত্রিবেনী একাডেমীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাক ঢোল, বিভিন্ন রং-বেরংয়ের ব্যানার ফেস্টুন,গ্রামীন নানা উপকরন নিয়ে এবং মেয়েরা গ্রামীণ সাজে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রা শেষে চলে পান্থা ভাতের অনুষ্ঠান। পান্তা ভাতের অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে এবং জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন আয়োজনে আলাদাভাবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পালন করা হয়।।

মৌলভীবাজার: জেলায় মৌলভীবাজারে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নতুন মাস ও নতুন বছরের শুভ সূচনায় বাংলা নববর্ষ উৎসব ১৪২৬ পালিত হয়েছে। সকাল ৮টায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। মোভাযাত্রাটি শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। বর্ণাঢ্য মোভাযাত্রার র‌্যালীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র সহ নানা বয়েসী মানুষ রং বেরঙের পোশাক পরে যোগ দেন। পরে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও বাংলা নববর্ষ উৎসব বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন দিন ব্যাপী পালন করছে।

শরীয়তপুর: আগামি সুন্দর স্বপ্নের প্রত্যয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে নানা আয়োজনে শরীয়তপুরে বাংলা ১৪২৬ সালকে বরণ করা হয়েছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের এর নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে ধারণ করে নানা সাজে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি জেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শরীয়তপুর পৌরসভা মেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে ফিতা কেটে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও অনুরূপ কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে নববর্ষকে বরণ করা হয়।

রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাঙালী জাতির গৌরব বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। গত রোববার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্দোগে সকাল সাড়ে ৯ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মিলিত হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মন্ডল, ভাইস চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মন্ডল মিলন, রওশন আরা বেগম রিনা, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ তাজিমুল ইসলাম শামীম, সহকারি কমিশনার ভুমি সঞ্জয় কুমার মহন্ত, কর্মকর্তা ইনচার্জ সরেস চন্দ্র, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা আলহাজ¦ এটিএম মাজহারুল আলম মিলন শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেয়। এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারি শিক্ষকগণ, ছাত্র-ছাত্রী, গুণীজন, সুধীজন, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

জয়পুরহাট: পহেলা বৈশাখ ও নতুন বছর ১৪২৬-কে বরণ করতে নানা আয়োজন করা হয় জয়পুরহাটে। শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে সকাল ৭ টায় বংশীবাদক শরৎ পালের বাঁশিতে আবাহনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ বরণের শুভ সূচনা করে জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ জয়পুরহাট জেলা শাখার শিল্পীরা। এখান থেকে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিন করে কালেক্টরেট চত্বরে শেষ হয়। জয়পুরহাটে উৎসবমূখর পরিবেশে নতুন বছর ১৪২৬ কে বরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য শিশু একাডেমি আয়োজন করে শিশুদের জন্য চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও শিশু আনন্দমেলা। জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজন করে দেশীয় খেলা কাবাডি, হা-ডু-ডু ও লাঠি খেলা।

বরিশাল: সূচনা সঙ্গীত, ঢাকের বাদ্য, মুক্তিযোদ্ধা আর গুণীজন সম্মাননা ও রাখি পরিয়ে এবং বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভার যাত্রার মধ্য দিয়ে বরিশালে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, চারুকলা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটার, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়, ব্রজমোহন কলেজসহ নানা সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পৃথক ভাবে বর্ষ বরণের উৎসব উদযাপন করেছেন।

নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যাণ থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসনের অয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর চারুকলা বরিশাল, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী নানা প্রতিকৃতি নিয়ে আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ তুলে ধরে বের করা মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ঝিনাইদহ: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে করে নিয়েছে ঝিনাইদহবাসী। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গত রোববার সকালে শহরের ওয়াজির আলী স্কুল এ- কলেজ মাঠ থেকে মঙ্গলশোভাযাত্রা বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। র‌্যালিতে প্রদর্শন করা হয় পেঁচা, বাঘের মুখোশ, গরুর গাড়ি, পালকিসহ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য।

চুয়াডাঙ্গা: জেলায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যদিয়ে গত রোববার পহেলা বৈশাখ উৎদাপিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভিজে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে নেতৃত্বদেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধরী প্রমুখ। এরপর শুরুহয় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও পান্তা খাওয়ার উৎসব।

লক্ষ্মীপুর : উৎসবমুখর পরিবেশে লক্ষ্মীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার সকালে কালেক্টরেট ভবন প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় লার্ঠি খেলা ও পালকি প্রদর্শনের মতো বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ দলমত নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করেন।

মাগুরা: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে গত রোববার মাগুরায় পহেলা বৈশাখ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় শহরের নোমানী ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার এমপি, জেলা প্রশাসক মোঃ আলী আকবর, পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ানসহ সরকারি বে-সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। শোভাযাত্রা শেষে নোমানী ময়দানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মুড়ি ও বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

নড়াইল: ১লা বৈশাখ ১৪২৬ শুভ নববর্ষ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নড়াইলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর ও সুলতান মঞ্চে ৬ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গত রোববার সকাল ৮ টায় সুলতান মঞ্চে জেলা প্রশাসন ও বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে মঙ্গল প্রদীপ জে¦লে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬ টায় মিতালী সংঘ মন্দির প্রাঙ্গনে শ্রুতি-ছন্দ সংগীত নিকেতন ও বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের শতাধিক শিল্পীর কন্ঠে প্রভাতি গানের মধ্য গিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নয়। সকাল ৮ টায় নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষে হয়।

নাটোর: গত রোববার পহেলা বৈশাখ সকাল থেকে নাটোরের রাণী ভবানী রাজবাড়ীর মুক্ত মঞ্চে তিনদিন ব্যাপী বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে আলোচনা, সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটক পরিবেশন এবং চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতা। রাজবাড়ী চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা এবং চলছে হা-ডুডু, হাড়ি ভাঙ্গা, বউচি ও লাঠি খেলা।

নাটোর তথা দেশবাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে সকালে তিনদিনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর শিশু একাডেমি,শিল্পকলা একাডেমি সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ