October 21, 2019, 2:53 am

নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি চীফ হুইপ ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর অনিয়মের অভিযোগে মাদারীপুরে বাদ দেয়া হলো বিআইডব্লিউটিএর ময়নাকাটা নদী খনন প্রকল্পের ঠিকাদারকে

Spread the love

ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি,মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ

মাদারীপুরের শিবচরে ময়নাকাটা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর চলমান খনন প্রকল্পে

অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জালাল ট্রেডার্সকে বাতিল করা হয়েছে। আজ

রবিবার বিকেলে চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ

মাহমুদ চৌধুরী, নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব আঃ সামাদ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুবুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রনয় কান্তি বিশ^াসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে প্রকল্পর বেহাল দশা দেখে অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্পটি বাদ দেয়ার ঘোষনা দেন। প্রকল্পটি বাবদ ২৫ ভাগ টাকা ঠিকাদার জালাল ট্রেডার্স উত্তোলন করে নিলেও সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কাজের অগ্রগতির কোন সত্যতা খুজে পায়নি নেতৃবৃন্দ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৩ মে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ১২০ ফুট প্রস্বস্থতায় সাড়ে ৭ ফুট গভীরতায় খনন ও ২ হাজার ফুট দূরত্বে খননকৃত পলি অপসারনের কথা থাকলেও নদীবুকেই মাটি ফেলে নদীটিকে সংকুচিত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। নেতৃবৃন্দ এ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও ময়নাকাটা নদীর উপর শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন ও উপজেলা পরিষদে ঈদ পূর্ব কাঠালবাড়ি ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আলোচনা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত হাওলাদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজ উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আঃ লতিফ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ সেলিম প্রমুখ।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারন করে বলেন, পরিদর্শনকালে ময়নাকাটা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর যারা নদীর দিকে দখলের জন্য দৃষ্টি দিয়েছেন তারা দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন। নদীকে রক্ষা করতে না পারলে জনপদ সংস্কৃতি কিছুই বাচবে না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে নদী দখলমুক্ত অভিযান চলছে।পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর কাঠালবাড়ি ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী ঘাট সম্পর্কে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর আমরা এই ঘাটের ৪২ একর জায়গায় নৌ পর্যটন কেন্দ্র বা নৌ ইকো পার্ক গড়ে তুলবো।প্রধান অতিথির বক্তব্যে চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী নদী দখলের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযান ও ময়নাকাটা খনন কাজে অবহেলায় জড়িত ঠিকাদারকে বাদ দেয়ার ঘোষনা ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে সরকার খুব কঠোর। কেউ নদীর জায়গা দখল করার চেষ্টা করবেন না। সরকার যদি ঢাকার পাশে ৬তলা বাড়ি ভাঙ্গতে পাড়ে তাহলে শিবচরেও দশ তলা ভাঙ্গতে পারবে। শুধু বিআরএস রেকর্ড করে জমি দখল করা যাবে না, তার আগের রকের্ডগুলোও পর্যবেক্ষন করা হবে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ২২ এপ্রিল ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ