October 15, 2019, 9:04 am

শিরোনাম :
ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য আটক বগুড়ার মাটিডালীতে নেশার টাকা না পেয়ে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা শিবগঞ্জে পানির ফোয়ারা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ সীমান্তে ৩ লক্ষ টাকার ভারতীয় প্রকার পণ্য আটক পাইকগাছায় মহিলা লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর জিডি করায় ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদককে গণপিটুনী ফুলবাড়ী থানা পুলিশের অভিযানে ৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক-১ ফুলবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ নকল জুস ধ্বংস বোয়ালমারীতে নিখোঁজ অটোভ্যান চালক কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার যশোরের শার্শা সীমান্তে ফেনসিডিলসহ আটক-১ মিঠাপুকুরে ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবসের কর্মসূচী

নওয়াপাড়ার ফেডারেশন ও নৌ-পুলিশের ব্যাপক চাঁদাবাজি এক চাঁদাবাজ আটক

Spread the love
বিল্লাল হুসাইন,ঝিকরগাছা-যশোর।।

শিল্প, বাণিজ্য ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়ার নদী বন্দর এলাকায় নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন ও নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজদের দৌরত্বে আমদানিকারক-ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা পরিচয়ে সোহেল হোসেন (২৭) নামের এক ভুয়া কর্মকর্তাকে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে লাখলাখ টাকা চাঁদাবাজী হলেও সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে নৌ-যান শ্রমিকরা। নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন অভয়নগর নওয়াপাড়া শাখা বলছে চাঁদাবাজি নয়, সংগঠনের পক্ষ থেকে জাহাজ ওয়ারী একশত করে টাকা রশিদের মাধ্যমে আদায় করার নির্দেশনা আছে। নওয়াপাড়া নৌ-পুলিশ বলছে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। নওয়াপাড়া নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে চাঁদা আদায়ের কোন বৈধতা নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী চাইছেন চাঁদাবাজমুক্ত নওয়াপাড়া নদী বন্দর। এদিকে সাধারণ শ্রমিকরা বলছে লাখ লাখ টাকা আদায় হলেও তারা অসুস্থ্য হলে বা বিপদে পড়লে পাননা কিছুই। জানা গেছে, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অত্যাচার ও ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে আশির দশকে খুলনা থেকে নওয়াপাড়ায় আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীরা চলে আসতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, চাল, বালু, পাথর ও কয়লার বৃহত্তর মোকাম হিসেবে দেশের মধ্যে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। ৯০ দশকে শিল্প, বাণিজ্য ও একটি প্রথম শ্রেনির বন্দর নগরীতে পরিণত হয় নওয়াপাড়া।

সেই থেকে নওয়াপাড়ায় শন্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করে আসছিল দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন আমদানীকারক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন অভয়নগর নওয়াপাড়া শাখার নামে একটি চাঁদাবাজ চক্র নওয়াপাড়া নদী বন্দরে আসা জাহাজ, কার্গো, ছোটবড় ট্রলার ও বোটে নিয়মিতভাবে ব্যাপক চাঁদাবাজি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর সদ্য গঠিত নওয়াপাড়া নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে অনৈতিক পন্থায় বিভিন্ন মালবাহী ট্রলার বোট ও জাহাজ থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ আসতে শুরু করে। তাছাড়া নওয়াপাড়া নদী বন্দরে জাহাজ থেকে তেল চোর চক্র দীর্ঘ বছর যাবৎ তেল চুরি করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মাসোয়ারায় তুষ্ট থাকেন নৌ পুলিশ এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জানা যায়, শুধু জাহাজ,

কার্গো বা ছোটবড় ট্রলার নয়, ঘাট মালিক, আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় হয়রানি ও প্রতারণার ফাঁদ তৈরী করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। আর এই চাঁদা আদায়ের কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌ পুলিশের এসআই আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তার সাথে যোগ হয়েছে নওয়াপাড়া নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকা সেক্রেটারি নিয়ামুল হক রিকোর নাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত কয়েকজন মালবাহী ট্রলার মালিক ও চালকরা জানান, চলতি বছর নওয়াপাড়ায় নৌ পুলিশ ক্যাম্প হওয়ার পর থেকে প্রায় সময় অর্থ দিতে হচ্ছে তাদের। কারণে-অকারণে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক নৌ পুলিশ কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা দাবি করে থাকেন। তার অত্যাচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রাম উন্নয়ন র  মাল বহণ করা দূরুহ হয়ে পড়েছে। এ ধরণের পুলিশ কর্মকর্তার তদন্তপূর্বক অপসারণ দাবি করেন তারা। চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিষয়ে নওয়াপাড়া নৌ-পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আসাদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গত ৩ ও ৪ অক্টোবর নওয়াপাড়া নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে নওয়াপাড়া বন্দর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল।

দুই দিনে বিভিন্ন জাহাজের কাগজপত্র ও ফিটনেস সমস্যার কারণে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। তার ক্যাম্পের কেউ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন। অপরদিকে এসআই আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমানাদি সহ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন ট্রলার বোট চালকের। তাদের দাবি ছোট ছোট ট্রলার বোটে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সার, সিমেন্ট, বালু, পাথর বহন করা হয়। যার বেশিরভাগ মালামাল সরকারি কাজে নিয়োজিত। সেই সব মাল বহণের ক্ষেত্রেও ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে নওয়াপাড়া ছাড়তে হয় বা নওয়াপাড়া বন্দরে ঢুকতে হয়। এর থেকে পরিত্রানের দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, সরকারের সব ধরণের রাজস্ব দেয়ার পরও চাঁদাবাজদের শিকার হতে হচ্ছে। কখনও নৌ-পুলিশের নামে, কখনও নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন আবার কখনও কখনও লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের নামে।

এ প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম ও নওয়াপাড়া ছাড়া আর কোথাও অফিস নেই বলে নদী বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি

 

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ