August 23, 2019, 3:15 am

শিরোনাম :
তোয়াকুল ছাত্র জমিয়তের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত বগুড়ার মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসেচনতামূলক র‌্যালী ও লিফলেট বিতরন বোয়ালমারীতে প্রাইম ব্যাংক কর্মকর্তার বিদায় বরণ অনুষ্ঠান সারিয়াকান্দিতে বজ্রঘাতে মানুষ সহ গরুর মৃত্যু তাহিরপুর প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে তাহিরপুর প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ দেশে সত্যিকারের হিরো কৃষক- কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তালায় এক বৃদ্ধ রহস্যজনকভাবে আত্নহত্যা আলফাডাঙ্গায় ভাতিজার হাতে চাচী খুন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কিশোরীকে ধর্ষণ শেষে হত্যার অভিযোগ জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাথে নার্সিং শিক্ষার্থীদের মত বিনিময় সভা

ঢাকা-কলকাতার মতবিনিময়: ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতি জোর

Spread the love

ঢাকা-কলকাতার মতবিনিময়: ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতি জোর

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গতকাল সোমবার এক ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, কলকাতা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় কলকাতায় সফলভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে উল্লেখ করেছেন কলকাতা সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একইভাবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতি জোর দিয়েছেন তারা। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফলতার অন্যতম কারণ হিসেবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করেন কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রধান ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই। যেসব দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আছে, সেখানে দেখা যায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই। আমাদের এখানে সিটি করপোরেশনের মেয়র, এমনকি রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সবাই কিন্তু মাঠে নেমেছিলেন। তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ত করার প্রতি জোর দেন কলকাতা সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক মুখ্য পরামর্শক ডা. তপন মুখার্জি। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের তিনটি বিভাগের (স্বাস্থ্য, বর্জ্য এবং ভেক্টর কন্ট্রোল) প্রতিনিধিরা প্রতিদিনের তথ্য পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনা করে তারা দেখেন, এখন কী করতে হবে এবং আগামীকাল কী করতে হবে। সেই প্রতিবেদন প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে দিয়ে বলা হয়, তাকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে। আর কাউন্সিলর সেসব করছেন কি-না, তা ব্যুরো বা জোন লেভেল এবং কেন্দ্রীয় লেভেল থেকে মনিটরিং করা হয়। এসময় ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষায় কলকাতার পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে জানতে চাইলে এক প্রশ্নের জবাবে দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, মানুষ অনেক সময় আতঙ্কে মনে করেন, মশার ওষুধ কার্যকর না। তাই ওষুধ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠে। মশার ওষুধ পরীক্ষা করা হয় আবদ্ধ জায়গায়। তাই খোলা জায়গায় ওষুধ দিলে তা কার্যকর না-ও হতে পারে। কী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোথায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ওষুধ দিতে হবে ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর (রোগের জীবাণু বহনে সক্ষম বাহক) ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে। তাহলেই ওষুধ কাজ করবে। পরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সিটি করপোরেশন এবং সরকারের সদিচ্ছা আছে বলে কলকাতা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র এবং কর্মকর্তাদের অবহিত করেন আতিকুল ইসলাম। কনফারেন্সে আতিকুল ইসলামসহ পুরো সিটি করপোরেশনের প্রতি পরামর্শ দিয়ে কলকাতার ডেপুটি মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার ধাপ দুটি। এক- প্রিভেনটিভ (প্রতিরোধমূলক), দুই- কিউরেটিভ (প্রতিকারমূলক)। তবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতা সিটি করপোরেশন উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে অতীন বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল আমরা খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দেই। এর জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ওয়ার্ড লেভেল, বোরো লেভেল বা জোন এবং সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় লেভেল; এই তিন স্তর থেকে মনিটরিং করা হয়। ডেঙ্গু বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের প্রতি জোর দিয়ে অতীন আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি কি, সে বিষয়ে সঠিক ধারণা দরকার, আর তা নিতে হলে তথ্য দরকার। আমাদের ১৪৪টি ওয়ার্ডে একজন করে মোট ১৪৪ জন কর্মী আছেন, যাদের কাজই হচ্ছে প্রতিদিনের তথ্য নেওয়া। তারা হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য নেন এবং তার বাসায় গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল খোঁজেন। পেয়ে গেলে সেটি ধ্বংস করা হয়। এভাবে কোথায় কোথায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল আছে তার একটা চিত্র পাই আমরা। আর সেভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়। কলকাতা স্বাস্থ্য বিভাগের উপদেষ্টা ডক্টর স্বপন মুখার্জি বলেন, ডাবের পানি, ফলের রস, ঘন ঘন পানি খেতে হবে। দেখতে হবে সেই রোগী তিন ঘণ্টা অন্তর অন্তর স্বচ্ছ প্রস্রাব করছে কিনা। তাহলে ধরে নিতে হবে সেই রোগীর ডেঙ্গু ততটা প্রকট নয়। তিনি বলেন, শীতকালেও কাজ করতে হবে ডেঙ্গু নিয়ে। কারণ ডেঙ্গু বহনকারী মশা পানি ছাড়া যে কোনো স্যাঁতস্যাঁতে যদি জায়গায় ডিম পাড়ে তাহলে সে ডিম তিন বছর জীবিত থাকবে। বর্ষার মৌসুম না থাকলেও স্যাঁতস্যাঁতে বাড়িতে পানির ছোঁয়া পেলে ডিম জেগে উঠবে। কলকাতার গড়ে ওয়ার্ডভিত্তিক বাস করেন ৫০ হাজার মানুষ। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের প্রধান কাজ হলো সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা অব্দি মশার তেল বা লিকুইড তেল ব্যবহার করা উচিত যাতে মশা না কামড়ায়। আর পরিষ্কার পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মূল চিকিৎসা কী? সারা বিশ্বে ডেঙ্গুর সেরকম কোনো চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই। এর মূল চিকিৎসা প্যারাসিটামল। শরীরের প্রতিকেজি ওজন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল রোগীকে দিতে হবে। এটাই অনেকই কমবেশি করে ফেলি। তবে ব্রুফেন টাইপের কোনো ওষুধ দেওয়া চলবে না। এছাড়া আরেকটা জিনিস ভালো করে বুঝে নিতে হবে, ইংরেজিতে ডেঙ্গুর অক্ষর ডি এরকম উ অক্ষরের আর একটি রোগ আছে। নাম ডায়রিয়া। আর এই দুটো রোগেই ডিহাইড্রেশন বড় সমস্যা। জটিল ডেঙ্গু রোগী কাকে বলা হয়? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে রোগীর গাঁটে গাঁটে ব্যথা ধরবে, জ¦র থাকবে, প্রেসার কুড়ি শতাংশ করে কমতে থাকবে, প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে যাবে, কোমরের কাছে ২০ থেকে ২২টা রক্তের ছোপ বা চিহ্ন দেখা যাবে তাহলে সেই রোগীকে অবিলম্বে হসপিটালে ভর্তি করা উচিত। পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ধোঁয়া বা কীটনাশক দিয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন করা যাবে না। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ করে ডেঙ্গু নিধন নয়। এসব বন্ধ করতে হবে। আর জনগণকে একটা বার্তা দেওয়া যায় যে, এ কাজটা শুধু সরকারের তা নয়। এটা জনগণের। এটা বোঝাতে হবে। দু’পক্ষের মধ্যে এই ভিডিও কনফারেন্স দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। ভিডিও কনফারেন্সে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মঞ্জুর হোসেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্র বড়ুয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে কলকাতা সিটি করপোরেশন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের সঙ্গে প্রধান ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক মুখ্য পরামর্শক তপন মুখার্জিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ