September 20, 2019, 5:42 pm

শিরোনাম :
ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন – ইয়াসিন আল অনিক ঢাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নবীগঞ্জের যুবকের মৃত্যু তালতলীতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে একের নামের ঋন অন্যজনে তুলে নেয়ার অভিযোগ সাংবাদিক কামরুল সিকদারের মাতার ইন্তেকাল পটুয়াখালীতে অস্ত্র ও মাদকসহ চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৮ বোয়ালমারীতে এতিমের নাম করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ভোলা লালমোহনে নাতনীর সাথে অসামাজিক কাজের চেষ্টা,এবং দাদা আটক কেশবপুরে অধ্যক্ষের দূর্ণীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা প্রভাষককে মারপিট নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই সুন্দরগঞ্জে পোনা মাছ অবমুক্ত করণ ২০ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে নোঙর করেছে জাহাজ এমভি ঝিং হাই টং-৮

ঝালকাঠি সদর উপজেলা এডিপি প্রকল্পের টাকায় ব্যক্তিগত রাস্তা ঘাটলা নির্মাণ অন্য প্রকল্পের সমাপ্ত কাজ এডিপি তালিকায় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত

Spread the love

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু,ঝালকাঠি ঃ

ঝালকাঠি সদর উপজেলায় এশিয়ান ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের (এডিপি) ১০৯ টি

প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অধিকাংশই লুটপাটের অভিযোগ

উঠেছে। কাগজপত্রে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে চলতি বছরের গত জুন মাসে বরাদ্দ টাকা দ্রুত উত্তোলন করে নেয়া হয় বলে জানাযায়। এ টাকায় দেখানো প্রকল্প গুলোর মধ্যে দলীয় কিছু ব্যক্তির বাড়ির রাস্তা ও ঘাটলা নির্মান করা হয়। বাকী প্রকল্পের কিছু কাজ আগেই অন্য প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। যা এডিপি প্রকল্পের তালিকায় পূণরায় তালিকাভূক্ত করে বরাদ্দ উঠিয়ে নেয়া হয়। অবশিষ্ট প্রকল্প গুলোর নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দ টাকার সিংহভাগ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নে জেবুন্নোছা বালিকা বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এই প্রকল্পটি গত অর্থ বছরেই বাস্তবায়ন করেছে এলজিএসপি। সীমানা প্রাচীরের গায়ে এলজিএসপির প্লেটে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭-১৮ অর্থবছরে লেখা আছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এটি পূনরায় এডিপির প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ অর্থ উত্তোলন করে নেয়া হয় বলে জানাযায়। এ বিষয়ে জেবুন্নোছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার বিদ্যালয়ের সীমানা মোট ১৩৯ মিটার। এরমধ্যে ৯২ মিটার সীমানা দেয়াল হয়েছে এলজিএসপি প্রকল্পের বরাদ্দে। বাকি সীমানা দেয়াল নির্মাণের জন্য এডিপি বা জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাইনি। তবে বিদ্যালয়ের সভাপতি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একই ইউনিয়নের কাঁচাবালিয়া এলজিইডি সড়ক হতে খোকন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খোকন মোল্লা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাই তার বাড়ির সড়কের জন্য এই প্রকল্প নেয়া হয়। এ বিষয়ে খোকন মোল্লার সাব জবাব আমরা দল করলেও সরকারের কাছ থেকে কোন স্বার্থ পাইনি। পেয়েছি এই রাস্তা টুকুই। একই ইউনিয়নের বালিঘোনা সিএন্ডবি রাস্তা হতে ওয়াহেদ মোল্লার বাড়ি হয়ে আদম আলী মেম্বরের বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় ইট সলিংয়ের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ টাকা। এলাকার ওয়াহেদ মোল্লা জানান, আমরা এ রাস্তা দিয়ে বর্ষা কাঁদায় হাটতে পারিনা। সন্তানরা স্কুলে যেতে পারেনা। শুনেছি ইট সলিংয়ের কাজ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু সিএন্ডবি রাস্তা হতে নামমাত্র সলিং করে আর কাজ হয়নি। তাই সড়কটি কাঁচাই রয়ে গেছে। বালিঘোনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ টাকা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, এলাকাবাসি হুমায়ুন কবির খানসহ আরো অনেকে জানান সর্বচ্চ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দায়সারা এই শহীদ মিনার নির্মানের ঠিকাদার বালু সিমেন্ট কাজে না লাগিয়ে বিক্রি করে গেছে এলাকায়ই। কাঁচাবালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মানিক মিয়া। ১ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা জেনে চমকে উঠেন। তিনি বলেন, আমাকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান সোনালি আপা ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়ে বলেছে শহীদ মিনার নির্মান করতে। আমি সেই টাকায় যেটুকু হয়েছে সে টুকুই নির্মান করেছি। হজ্জ করে আসছি আমি এ বিষয়ে মিথ্যা বলতে পারবনা। এ প্রসঙ্গে গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা মাসুম শেরওয়ানি বলেন, শহীদ মিনরার নির্মান নিয়ে চরম অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও বিব্রতকর অবস্থায় আছি। এ নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালি বলেন, আমিই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এরপর তা নির্মাণে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও ভ্যাট ট্যাক্স কেটে যা থাকে তা সঠিক ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। তবে টাইলসের কাজ বর্ষার জন্য করা যাচ্ছে না। ১০/১৫ দিন পর করা হবে। এ কটা দিন আপনার একটু অপেক্ষা করুন। এসব কাজের মান ও কাজ সম্পন্ন হবার পর সদর উপজেলা এডিপি প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব চুড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর করেন। তাই এ প্রসঙ্গে সদস্য সচিব সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এমএম লুৎফর রহমান বলেন, যে সব প্রকল্পের বিষয়ে অভিযোগ আসবে তা যাচাই বাছাই করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান ১ লাখ টাকায় সাড়ে সাড়ে ৩শ ফিট সলিং করতে হবে। শহিদ মিনার নির্মানের কাজ দেখাশুনা করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী আপা। এ বিষয়টি তিনিই ভাল বলতে পারবেন। কোথাও কোথাও ২০১৭-১৮ সনের এলজিএসপি প্রকল্পের সমাপ্ত কাজ ২০১৯ সনের এডিপি প্রকল্পে দেখিয়ে বিল উত্তোলন করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগও পাইনি। এরকম ঘটেছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ