April 19, 2019, 7:14 pm

জনদরদী নেতা আবুল কাশেমকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মূল্যায়ন চায়-পেকুয়া উপজেলার তৃণমুল নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতা

Spread the love

জালাল উদ্দিন,চকরিয়া-পেকুয়া  প্রতিনিধিঃ

পেকুয়া উপজেলার তৃণমুল নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতা ছাত্রলীগ নেতা থেকে উঠে আসা জনদরদী নেতা আবুল কাশেমকে যথাযথ মূল্যায়নে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকার যোগ্য মাঝি হিসাবে পেতে চায় ক্ষমতাসীনদলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে।এ দাবী এখন পেকুয়ার সর্বস্তরের জনতারও দাবী।পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ পেশাজীবি,ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনতার সাথে কথা বলে জানা যায়। বাজারের চায়ের দোকানে আগত জনগণের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আবুল কাশেমের প্রসংগটি।এ আলোচনা সমালোচনায় মাঝে মধ্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।কেউ কেউ তার ছাত্রজীবন থেকে এ পর্য়ন্ত কোন ধরণের বিতর্কিত কর্মকান্ড কিংবা সাধারণ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি কোন কিছুরই বিতর্ক নাই বলে হলফ করে বলতে গিয়ে বেশি মাত্রায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে চায়ের দোকানে কিংবা মাঠে ময়দানে আলাপচারিতায়।উজানটিয়ার প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আবুল খাইর জানান আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে নৌকার মাঝি হিসাবে আবুল কাশেমকে চাই।কারণ তার বিরুদ্ধে কোন ধরণের বিতর্ক কিংবা দূর্নীতির অভিযোগ নাই।সে একজন কর্মবান্ধব নেতাও বটে।অতীতে চারদলীয় জোট সরকার আমলে এপি এস সালাহ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরেও এক মূহুর্তের জন্যও বঙ্গ বন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। আগামী নির্বাচনে এমন নীতিবান ও পরিচ্ছন্ন নেতাকে মনোনয়ন দিতে হবে।অন্যথায় গতবারের মত এবারও উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি হারাতে হবে আমাদের।কারণ এখানে কোন বিতর্কিত ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। রাজাখালীর আবুল কাশেম আজাদ বলেন আবুল কাশেমের মত নেতারই প্রয়োজন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে।ছাত্রজীবন থেকে তার রাজনীতি দেখে আসছি।আমার দেখামতে তার চাল-চলনে আমি কোনন প্রকার লোভ লালসা দেখিনি।সাধ্যমত চেষ্টা করেছে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপকার করতে।সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার মৃত নুরুল আলম।পেশায় ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও  একজন সংগ্রামী মানুষও।এ অভাবের সংসারের মাঝেও ৬ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে নুরুল আলম কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সব ছেলেকে মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসাবে গড়ে তুলেছেন। তিনি নিজেও মুজিব আদর্শের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৬ পুত্রের মধ্যে আবুল কাশেমের সংগ্রামী জীবন ছিল কঠিন ও মর্মান্তিক। বাংলাদেশ আ’লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি-জামাতের মামলা, হামলা আর জেল জুলুমে কাটাতে হয়েছে বছরের পর বছর। অন্য ভাইদেরও একই পরিণতির মাধ্যমে কারাভোগ ও কষ্টের জীবন পার করতে হয়েছে। সেই আবুল কাশেমকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যথাযত মূল্যায়ন চাই আ’লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগন। এছাড়াও সদ্য সমাপ্ত হওয়া চকরিয়া-পেকুয়া আসনের নির্বাচনে নৌকার সাংসদ জাফর আলমের পক্ষে তার কঠোর পরিশ্রম ও নির্বাচনী প্রচারণা আ’লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, জেলা আ’লীগ ও সাংসদ জাফর আলম যদি ত্যাগী নেতা আবুল কাশেমকে মূল্যায়ন করে নৌকার মনোনীত প্রার্থী হিসাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেন তাহলে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে। ২০০২ সাল থেকে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা তথা আ’লীগের প্রার্থী বিজয় না করার দুঃখও ঘুচবে পেকুয়াবাসীর।
এছাড়াও আবুল কাশেমের রাজনৈতিক জীবনও বর্ণাঢ্য। তিনি ১৯৮৭ থেকে ৯৫ পর্যন্ত অবিভক্ত চকরিয়া থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ৯৯ পর্যন্ত পেকুয়া সাংগঠনিক থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক, ৯৯ থেকে ২০০২ পর্যন্ত থানা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকাবস্থায় পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন, ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সালের নভেম্বর  মাস পর্যন্ত উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৩ই ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের কাউন্সিলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
পেকুয়ার স্থানীয় বাসিন্দা কাইছারুল হক ভুট্রো,মাহাবু ফকির, নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ হোছন, মোঃ কাইয়ুম, হোছাইন মোঃ বাদশা, আবদুল করিম, কামাল ফকির এ প্রতিবেদককে বলেন, আবুল কাশেম পেকুয়ার আ’লীগের জন্য অনেক ত্যাগ ও শ্রম দিয়েছেন। তিনিসহ তার পরিবার বিএনপি-জামাতের হাতে বারবার নির্যাতীত হয়েছেন। মিথ্যাভাবে ডাবল মার্ডারসহ একাধিক মামলার আসামী করে বাড়িছাড়া করলেও সুযোগ পাওয়া মাত্র বারবার পেকুয়ায় ছুটে এসেছেন তিনি। আমাদের সুঃখে দুঃখে তাকে বারবার পেয়েছি। তাকে নৌকার প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যার পদে প্রার্থী করলে বিপুল ভোটে বিজয় হবে বলে আমাদের আশা।আর দলমত নির্বীশেষে সবাই একজোট হয়ে কাজ করবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন বিগত কয়েক বছর ধরে এ উপজেলায় চাকরি করতেছি এ পর্যন্ত কোন প্রকার অনৈতিক তদবীর নিয়ে আবুল কাশেম সাহেব আসেনি।অথচ অন্য উপজেলা চাকরি করার সময় অনেক আওয়ামীলীগ নেতার অনৈতিক আবদার না রাখায় বিভিন্নভাবে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে।তার মত লোকদেরকে মানায় উপজেলা চেয়ারম্যানের পদবীটা।পেকুয়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাহাদুর ও মুদির দোকানদার আলী হোছন বলেন ছোটকাল থেকে এ পেকুয়া বাজারে ব্যবসা করে আসছি আজ পর্যন্ত কোন ধরণের হয়রানী কিংবা প্রভাব কাটায়নি জননেতা আবুল কাশেম।অথচ এখানে গুটিকয়েক নেতা আছে তাদের ভয়ে থাকতে হয়  আমাদেরকে হঠাৎ অজুহাত দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করতে।একমাত্র কাশেমের কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা নির্ভিঘ্নে ব্যবসা করে  নিজের পরিবারের অন্ন যোগান দিচ্ছি।
এবিষয়ে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কপিল উদ্দিন বাহাদুর,উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি , পেকুয়া সদর আ’লীগের সভাপতি আজম খান, মগনামা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ আহমদ,উজানটিয়ার আওয়ামীলীগনেতা জয়নাল হাজারী এম ইউপি বলেন, আবুল কাশেম দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত নেতা। তার নেতৃত্বে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগ সংগঠিত ও একতাবদ্ধ। এছাড়াও বিগত সময়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্ধিতা করায় সাধারণ জনগণের কাছেও রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা। তাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিলে ঐক্যবদ্ধ আ’লীগের নেতৃত্বে তাকে বিজয়ী করতে তেমন ঝুঁকির আশংকা থাকবেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেমন ত্যাগী নেতা জাফর আলমকে মনোনয়ন দিয়ে চকরিয়া-পেকুয়া আসন বিপুল ভোটে বিজয় ছিনিয়ে এনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তেমনি পেকুয়ার আরেক ত্যাগী নেতা ও জাফর আলমের আর এক লড়াকু সৈনিক আবুল কাশেমকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিলে ১৬ বছর পর চেয়ারম্যান পদটি উদ্ধার করা যাবে।
এবিষয়ে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে একাধারে তিন বছর, এরপর ১৬ মাস, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রায় ১৬ মাস মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করি। ২বার ডিটেনশান সহ ১৯টি রাজনৈতিক মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলায় আমি সহ আপন ছয় ভাই কারাভোগ করি। তারপরও পেকুয়ার জনগণকে ছেড়ে যায়নি। এছাড়াও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সামান্য অসতর্কতা ও কিছু কু-চক্রিমহলের কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছি।অতীতের মত বর্তমানেও দলীয় নেতাকর্মীদের সুঃখে দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছি। চকরিয়া-পেকুয়ার জনগণের প্রিয় নেতা আ’লীগ নেতাকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানা জাফর আলম যদি দিকনির্দেশনা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মাঝি হিসাবে মনোনয়ন দেয় আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে  প্রস্তুত। তাছাড়াও দলীয় মনোনয়নের জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিবার ঐক্যবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন  তার পক্ষে একাগ্রচিত্তে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ