April 23, 2019, 9:50 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Spread the love
মোঃ আলমগীর হোসেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে দেশকে মাদকমুক্ত করতেই হবে: অ্যাড. সামসুল হক টুকু সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাড. সামসুল হক টুকু বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে দেশকে মাদকমুক্ত করতেই হবে। মাদকমুক্ত দেশ গঠনের লক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান দেশ স্বাধীনের পর সংবিধানে কঠোর আইন প্রণয়ন করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত সমাবেশের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসময় তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এদেশে মাদকের অবাধ বিচরন নিশ্চিত করেছিল। সারাদেশে যখন চারিদিকে মাদকের ছড়াছড়ি তখন দেশকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।
জাতির এই মহাসংকটে বিএনপির সহযোগিতার আহব্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদেরও মাদকবিরোধী মনোভাব থাকতে হবে। এমনকি দেশের নাগরিকদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনেও মাদকবিরোধী চিন্তা করতে হবে এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত ও মাদকসেবীদের ভোট দেয়া হতে বিরত থাকতে হবে।অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকবিরোধী সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমেই আগামী প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষা করা সম্ভব। প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর নিলে এবং ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে রাখলে ছেলেমেয়েরা সর্বনাশা মাদক থেকে বিরত থাকবে।প্রত্যেকটি স্কুল-কলেজে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরার আহব্বান জানিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরলে শিক্ষার্থীরা মাদক থেকে দূরে থাকবে। ঐশীর ঘটনা থেকেও আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ধনী পরিবারের সন্তান ঐশী রহমান একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়া সত্বেও শুধুমাত্র মাদকের কারনেই অল্প বয়সেই ধ্বংশের পথে পা বাড়ায়। মাদক ব্যবহারে প্ররোচিত হয়ে বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় হয় তার বিরুদ্ধে। যা সরাদেশের সকল অভিভাবকদের চিন্তিত করে তুলে।তিনি জানান, আইন প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই সমাজ থেকে মাদক দূর করা সম্ভব। মাদকসেবীরা যেকোনভাবে আমাদেরই কাছের কেউ। তাই তাদেরকে মাদকের বিরুদ্ধে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে তা থেকে দূরে রাখতে হবে।ইমামদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে আপনাদের ভূমিকা অনেক বেশি। আপনারা জুম্মার দিনে খুৎবায় মাদকের বিরুদ্ধে বয়ান করলে সমাজে অনেক পরিবর্তন আসবে। আপনাদের এলাকার মাদকসেবীর তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তারাও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।জেলা প্রশাসক এজেডএম নুরুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফরুল্লাহ কাজল, ৫৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক কর্নেল এসএম সালাউদ্দিন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল বলেন, প্রশাসনের একার পক্ষে এই জেলাকে মাদকমুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সকলের জনসচেতনতা। তবে পূর্বের অবস্থার তুলনায় বর্তমানে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, আমরা বীরের জাতি। আমরা ব্রিটিশদের তাড়িয়েছি, পাকিস্তানীদের তাড়িয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। এতকিছু ত্যাগ করতে পারলে এখন কেন এদেশকে মাদকমুক্ত করতে পারবো না? সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে মাদকমুক্ত, সমৃদ্ধশালী দেশে পরিনত হবে আমাদের দেশ।জেলা পুলিশ গত মাসে প্রায় ২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করেছে বলে জানিয়ে পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্যের সিংহভাগই আসছে সীমান্ত দিয়ে। আর এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গরুর খাটালগুলো। সেখানে টাকা আদান-প্রদানের একমাত্র মাধ্যম হুন্ডি হওয়ার কারনে মাদক ও অস্ত্রের জন্য টাকা পরিশোধ করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও জানান, মাদকের সবচেয়ে বড় চালানটি আমরাই ধরেছি এবং মাদক ছাড়া অন্যান্য অপরাধগুলো এই জেলায় অনেক কম।সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এজেডএম নুরুল হক বলেন, মাদক থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশের আইন, সমাজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।মাদকবিরোধী সমাবেশে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবেন্দ্রনাথ উঁরাও, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মুখলেশুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কালাম, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা মহিলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক হালিমা খাতুন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমামবৃন্দ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/ ১২ এপ্রিল ২০১৯/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ