September 22, 2019, 10:43 pm

গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন জয়া

Spread the love

গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন জয়া

ডিটেকটিভ বিনোদন ডেস্ক

জয়া আহসান। মডেলিং ও ছোট পর্দা দিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় তার শুরু। এরপর বড় পর্দায় কাজ করেও সফলতা পেয়েছেন দারুণ। পা রেখেছেন ওপার বাংলার চলচ্চিত্রেও। সেখানেও সফল তিনি। বর্তমানে তিনি দুই বাংলার জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

বাংলাদেশে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও বগলদাবা করেছেন নিজের অসাধারণ অভিনয়ের জন্য। অন্যদিকে এরইমধ্যে কলকাতায়ও অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এদিকে ওপারের নির্মাতা সৃজিতের সঙ্গে জয়ার সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন অনেক দিনের। এটা নিয়ে কখনোই তেমন একটা মুখ খোলেননি জয়া। তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে জয়া বলেন, শিল্পী হিসেবে তো ওর (সৃজিত) সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা একসঙ্গে পথ চললে সেটা একটা বলার বিষয় ছিল। কিন্তু এটা পুরোটাই গুজব। জয়ার এমন কথার রেশ ধরেই প্রশ্ন ছিল ঢাকায় আপনার বিশেষ বন্ধু আছে তো। নামটা বলবেন? জয়া উত্তরে হেসে বলেন, নাম তো বলা যাবে না। তাহলে বিয়ের পরিকল্পনা কি রয়েছে? জয়ার উত্তর, এই মুহূর্তে নয়। এদিকে কলকাতায় এই সময়ে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জয়া। নিজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুটিং নিয়েই দারুণ ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। যদি আমি শুধু এখানে বা ওখানে কাজ করতাম, তবে এতটা ব্যস্ত থাকতাম না। এমন দিনও যায়, ঢাকায় শুটিং সেরে রাতের ফ্লাইটে কলকাতায় আসি। সকালে এখানে লুক টেস্ট। দু’দিক সামলাতে গিয়েই নিজেকে আর সময় দেয়া হচ্ছে না। কলকাতায়ও এতটা সফল হবেন এটা ভেবেছিলেন? জয়া বলেন, রোডম্যাপ করে কখনও এগোইনি। ‘আবর্ত’র পরেও কিছুটা সময় নিয়েছিলাম। এখন অবশ্য বেশ কিছু ডায়নামিক চরিত্রের অফার পেয়েছি। আমি তো নিজেকে শিল্পী হিসেবে দেখতে চাই। নায়িকা তকমাটা চাইনি। তার মানে কি নাচ-গানের ছবি করবেন না? জয়া বলেন, কেন করবো না? ওগুলোও তো চরিত্র। যা করবো, তাতে যেন শিল্পমানটা থাকে। আর চরিত্রগুলো ভার্সেটাইল হয়। বাংলাদেশের এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘জয়া আমাদের গর্ব, আবার আক্ষেপও।’ ওই ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে আসায় আপনার কোনো আক্ষেপ আছে? জয়া বলেন, আসলে বাংলাদেশে এক্সপেরিমেন্টাল ছবির বাজারটা এখনও সে ভাবে তৈরি হয়নি। আমার খুব ভালো একটা ছবি ‘খাঁচা’ হঠাৎ করে রিলিজ করলো। ছবিটির মার্কেটিং ঠিকভাবে করা হয়নি। আর একটি ছবি ‘বিউটি সার্কাস’, যেখানে আমি সার্কাসের ট্র্যাপিজের খেলা দেখাই, সেটা টেকনিক্যাল কারণে বহুদিন ধরে আটকে। শিল্পী হিসেবে ছবির রিলিজ নিয়ে একটু আক্ষেপ আছে। স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দর্শকের প্রতিক্রিয়া কি মাথায় রাখেন? জয়া বলেন, কোনো চরিত্র বা দৃশ্য করতে ব্যক্তিগতভাবে আমার বাধা আছে কি না, সেটা আগে বিবেচ্য। একটি মেয়ে চরিত্রের খাতিরে স্মোক, ড্রিংক করতেই পারে। তবে তার যুক্তি থাকতে হবে। আমি ওই মাটি থেকেই জয়া আহসান হয়েছি, তাই ওদের কথাও ভাবি। এখানকার মানুষের ভালো লাগাকেও সম্মান দেয়া আমারই দায়িত্ব। প্রযোজনাও  তো করছেন? জয়া বলেন, আমি বরাবরই ভাবতাম, ছবি করার জন্য হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ খুব ভালো গল্প। ছবিটির জন্য সরকারি অনুদান পেয়েছি। শুটিংও বাংলাদেশে হয়েছে। এখানে  পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু করেছি। অভিনেত্রী জয়ার অনিশ্চয়তার জায়গা কোনটা? জয়া উত্তরে বলেন, বারবার নিজেকে অতিক্রম করতে চাই। তবে মেধা মাঝে মাঝে নিম্নমুখী হয়। সেই ভয় আছে। মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই। আর এমন কাজ করবো না, যাতে আমার শিল্পীস্বত্তা নষ্ট হয়। অভিনয় আমার ইবাদত। কলকাতা কতটা কাছের হলো? জয়ার ভাষ্য, বাংলাদেশ যতটা কাছের, এই বাড়িঘরও ততটাই। তবে এখানকার বাংলা ছবিতে যে ‘বাঙাল’ ভাষা বলা হয়, সেটা খুব খারাপ। বাঙাল ভাষা বলে বাংলাদেশে কিছু নেই। ওখানকার ভাষায় বৈচিত্র্য রয়েছে। তাই এই ‘বাঙাল’ ভাষা শুনে বাংলাদেশের মানুষ খুব রেগে যায়। আর কলকাতার খাবারে মিষ্টি একটু বেশি দেয়া হয়। তবে এখান থেকে পাতিলেবু, মুড়ি বাড়িতে নিয়ে যাই।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ