November 8, 2019, 5:39 pm

শিরোনাম :
সুনামগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় গাঁজা আট সরকার দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম রতনের স্ত্রী সেই শিক্ষিকা ঝুমুর বরখাস্ত পলাশবাড়ীতে মহাসড়কে নৈশকোচ ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত ১ মানুষের শরীরে প্লাস্টিকের উপস্থিতি; সচেতনা সৃষ্টিতে হেঁটে দেশ ঘুরছেন চট্টগ্রামের চিকিৎসক বাবর রূপকাঠীতে মুখডাকা ভ্রাম্মমান আদালত পরিচালনা ৫ দোকানে ২২ হাজার জরিমানা  বিশেষ নিরাপত্তা বাতিল হচ্ছে সোনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কার ম্যাগনেট ক্রয়ের ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধারে ডিবির অভিযান শার্শার উলাশীতে পিস্তলসহ আটক-২ ৭ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর দলমত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করে গেছেন খোকা: মেয়র খোকন ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ না দিলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

গিয়াস কাদেরকে সাজানো মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে: রিজভী

Spread the love

গিয়াস কাদেরকে সাজানো মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে: রিজভী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাজার রায় বাতিলের দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গতকাল (গত বুধবার) সাজানো মিথ্যা মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণেই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিচারকের এই রায় পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক আ স ম শহিদুল্লাহ কায়সার গত বুধবার গিয়াস কাদের চৌধুরীকে তার অনুপস্থিতিতে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। যুদ্ধাপরাধে মৃতুদণ্ড কার্য্কর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই গিয়াস কাদের চৌধুরী এই মামলায় জামিন নিয়ে পলাতক আছেন। রিজভী বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত মাসের শেষ সপ্তাহে চার্জ গঠনের জন্য মামলাটির তারিখ নির্ধারিত ছিল। ওই তারিখে গিয়াস কাদের চৌধুরী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় সময়ের আবেদন করা হয়। চার্জ গঠনের জন্য প্রথম তারিখেই সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে ওয়ারেন্ট দেওয়া হয় এবং মামলায় চার্জ গঠন করে সাক্ষগ্রহণের তারিখ ধার্য রাখা হয়। গত পরশুদিন ছিল সাক্ষ্যর প্রথম তারিখ। ওইদিনই আদালতে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত পরশু মাত্র ২০ মিনিটে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পরদিনই ৩০ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রাখা হয়। এটা একটি নজীরবিহীন ঘটনা। বিচারক শুধুমাত্র সাজা দেওয়ার জন্য অধিক উৎসাহিত হয়ে দ্রুত বিচারকার্য শেষ করেছেন। তিনি বলেন, মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আদালতকে ব্যবহার করে সাজা দেওয়ায় আবারো প্রমাণিত হল-দেশে নাৎসীবাদ এখন নগ্নরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ রায় একদলীয় নব্য বাকশালেরই বহিঃপ্রকাশ। আমি এ রায়ের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে ফরমায়েশি এই কারাদণ্ডাদেশ বাতিলের দাবি করছি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আবারো তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান রিজভী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এক দুর্বিষহ অসুস্থতার মধ্যে দিনযাপন করছেন। তাঁর কোনো চিকিৎসাই হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক সংবাদ সম্মেলন করে প্রমাণ করলেন যে দেশনেত্রী অসুস্থ। পরিচালকের বক্তব্যে মনে হয়েছে, পিজিতে খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসা হবে না, যোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি চলছে, সেটি পরিচালকের বক্তব্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। একটা নীলনকশা অনুযায়ী যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তাচ্ছিল্য করা হচ্ছেÑএটার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর কথায়। তিনি বলেছেন, জীবন-মৃত্যু নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। এই বক্তব্য বিএনপির নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর মধ্যে ভয়াবহ আশঙ্কা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খালেদা জিয়া প্রস্তুতি নিতে নিতে ২টা-আড়াইটা বেজে যায়, অনেক সময় ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসকদের’ -বিএসএমএমইউ পরিচালকের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, পরিচালকের বক্তব্য সত্যের অপলাপ। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে এটি শুধু ডাহা মিথ্যাচারই নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সরকারের পঙ্কিল রাজনৈতিক আবর্তের মধ্যে ঢুকে পড়বেন, এটি কেউ প্রত্যাশা করেননি। রিজভী দাবি করেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, খালেদা জিয়া প্রতিদিন সকালের দিকেই রেডি হয়ে যান ইনসুলিন নিতে, চিকিৎসা নিতে। তিনি চিকিৎসকদের অপেক্ষায় বসে থাকেন; কিন্তু চিকিৎসকরা দুপুর ১২টা থেকে ১টার আগে তাঁর কেবিনে আসেন না। আমি পরিচালককে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, বিকেল ৪টা পর্যন্ত কবে কোন কোন ডাক্তার দেশনেত্রীর চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করেন, তাঁদের নাম জনগণকে বলুন। পরিচালক দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকারের বক্তব্য তোতা পাখির মতো বলছেন, উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। সরকারের সিন্ডিকেটের কারণেই পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, অবিলম্বে পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। রিজভী বলেন, পেঁয়াজের দাম সব রেকর্ড ভেঙেছে। খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা ছুঁই ছুঁই অবস্থা। দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১৫০ টাকাও দাম চাওয়া হচ্ছে। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজও ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ‘দুর্নীতি ও ভুলনীতি’ সরকারের নীতি হওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ