December 11, 2019, 10:37 am

শিরোনাম :
আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন দিপালী রায় যশোরের ১১টি মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী ও মাদকের ডিলার আটক বেনাপোলে ১কেজি গাঁজাসহ দুই নারী মাদক বহনকারী আটক আমাদের প্রতিনিয়ত আমিষের চাহিদা মেটাতে দুধ,মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে সফলতা এসেছে -কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে নারী ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রুবাইয়াত শারমিন রুম্পাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয় আব্দুর রহমান সৈকত! বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমীর বাসায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর নাম বিক্রি করে রাজনীতি-ব্যবসা এবং বিয়েও করছে – মোমিন মেহেদী পায়রাবন্দে রোকেয়া মেলার পাশে নবজাতকের লাশ উদ্ধার রুপদিয়ায় ছাত্রলীগের দুই নেতার মাটি কেনাবেচার কোন্দলে যুবক খুন

খুলনা রেলওয়ে থানায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

Spread the love

খুলনা রেলওয়ে থানায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারের অভিযোগে আদালতে তোলার পর এক নারী খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি ও চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে তাকে আটক করে রেল পুলিশের সদস্যরা। রাতে রেলওয়ে থানায় রেখে তাকে ‘পালাক্রমে ধর্ষণ করেন’ ওসি ওসমান গনি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এএসআই নাজমুল এবং কনস্টেবল মিজান ও হারুন। মাদক আইনের এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার ওই তরুণীকে খুলনার মহানগর হাকিম আতিকুস সামাদের আদালতে তোলে রেলওয়ে পুলিশ। সেখানেই মেয়েটি বিচারকের সামনে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ শুনে বিচারক মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গতকাল সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেয়েটির কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিকুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে। তার আগে তারা কিছু বলতে চান না। ওই তরুণীর দুলাভাই বলেন, গত ২ অগাস্ট তার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে করে খুলনায় পৌঁছান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে নামার পর সেখানে কর্তব্যরত রেল পুলিশের সদস্যরা তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করার কথা বলে। গভীর রাতে ওসি ওসমান গনি পাঠান মেয়েটাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও চার পুলিশ সদস্য পালা করে তাকে নির্যাতন করে। শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারের কথা বলে একটা মামলা দিয়ে আমার শ্যালিকাকে আদালতে তোলা হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি ‘মোটা অংকের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব’ করেছিলেন দাবি করে ওই তরুণীর দুলাভাই বলেন, আমরা সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় এখন হুমকি দিচ্ছে। তবে খুলনা জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শুনেছি ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে তিনি আদালতে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তাকে মহিলা এসআই এবং মহিলা কনস্টেবল পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে। থানায় রাতে তিনজন নারী পুলিশসহ আট জন পুলিশ পাহারায় ছিল। সেখানে তাকে ধর্ষণের কোনো সুযোগ নেই। মাদকের মামলা থেকে রক্ষা পেতে ওই তরুণী ‘মিথ্যা অভিযোগ করেছেন’ বলে মন্তব্য করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীর বড় বোন জানান, তার বোনের শ্বশুর বাড়ি সিলেটে ও বাবার বাড়ি খুলনার ফুলবাড়িগেট এলাকায়। তাদের মা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে দেখতে খুলনায় এসেছে বোন। বোন নিজে অসুস্থ থাকায় বৃহস্পতিবার যশোরে ডাক্তার দেখাতে যান। পরদিন শুক্রবার খুলনায় আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে জিআরপি পুলিশের ওসি ওসমান গনি তার বোনকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন। এরপর আরও চারজন পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেন। পরে শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তিনি আরও জানান, আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর তার বোন জিআরপি থানায় তাকে গণধর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, ওই তরুণীকে তারা আইনি সহায়তা দেবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংস্থার পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তদন্তে কমিটি: খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় তিন সন্তানের জননী ওই নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামি সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, খুলনা রেলওয়ে থানা হাজতে রেখে ছয় থেকে সাতজন পুলিশ তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও মারধর করে- মর্মে খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তাকে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য খুলনা মেডিকেলল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ