November 14, 2019, 1:44 pm

খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে তিন মাসে ২৩ জনরে মৃত্যু

Spread the love

 

শহর প্রতিনধি কাজী আতিকঃ

 

ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর মিছিলে দিন দিন যোগ হচ্ছে নতুন মুখ। খুলনায় গত তিন মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৩ জন।চিকিৎসকরা বলছেন, যতদিন বৃষ্টি থাকবে, ততদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৪ আগস্ট। ওই দিন খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) মারা যায়। সে উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল শেখ ওরফে বাবুর ছেলে। খুলনার বেসরকারি গাজী মেডি‡কল কলেজ  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জুরের মৃত্যু হয়। একই দিনে খুলনা মেডি‡কল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম (৭০)। তিনি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বৃহ্মগাতি গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী।সর্বশেষ ২৪ অক্টোবর রাত ১টার দিকে খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মো. ইব্রাহিম শেখ (৭৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিটি মেডি‡কল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যান। তার বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী গ্রামে।গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই যশোর ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে আসা রোগী। তবে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী গ্রামের দুজন এবং রূপসা উপজেলার উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবরে খুলনা অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।খুলনার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের তথ¨ অনুযায়ী, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা মেডি‡কল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন, বেসরকারি গাজী মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং বেসরকারি সিটি মেডি‡কল কলেজে দুজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন খুলনার বাইরের জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন।চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু মৌসুম শেষ হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসেই। তবে খুলনায় এখনো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন লোকজন। বিশেষ করে আশপাশের জেলার ডেঙ্গু রোগীরা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেও গড়ে ১০৭ জন করে নতুন রোগী ভর্তি হলেও গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা ৫০ এর নিচে নেমেছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কমছে।ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত যত ধারণা সব এবার পাল্টে গেল। অক্টোবর মাসও শেষের দিকে। প্রতি বছর এ সময় শীতের আমেজ থাকলেও এবার বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টির পানি জমে থাকলে এডিস মশা ডিম পাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো কিছুর সংকট নেই। এখন থেকে বছরজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই খুলনায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি কিছুটা কম ছিল। ওই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে নতুন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন রোগী ভর্তির হার একেবারে পড়তির দিকে ছিল। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের ডেঙ্গু পরিস্থিতির আবারও কিছুটা অবনতির দিকে যায়। এখন পরিস্থিতি পুরোনিয়ন্ত্রণে। বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার কিছুটা বেড়েছিল। এখন নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা সিঙ্গেল ডিজিটে চলে এসেছে।

এসছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ