June 5, 2020, 1:20 pm

শিরোনাম :
বান্দরবান জেলার সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে বান্দরবান, রুমা, অলীকদম এর বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ী এলকায় দুস্থ মানুষের পাশে সেনাবাহিনী কুয়াকাটায় প্রজনন মৌসুমে অমান্য করায় দুই জেলেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা বান্দরবানে দূর্গম পাহাড়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অবহ্যত রেখেছে সেনাবাহিনী চৌদ্দগ্রাম পৌর কাউন্সিলর শাহীনসহ ২২ জনের করোনা শনাক্ত চৌদ্দগ্রামে দুই নেতার মঙ্গল কামনায় মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত করোনার ডেঞ্জার জোন হিসাবে আখ্যায়িত হতে যাচ্ছে সিলেট রংপুরে আইনজীবির গলাকাটা লাশ উদ্ধার বার সমিতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গ্রেপ্তার ১ কোভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে বাসা থেকে কাজ করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীরা ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মহামারী মরন ব্যাধী করোনায় আক্রান্ত ৯৮৫১ দেশে মহারী মরন ব্যাধী কোভিড রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ৮১১

ক্রমাগত লোকসানে চিংড়ি চাষ থেকে সরে আসছে চাষীরা

Spread the love

ক্রমাগত লোকসানে চিংড়ি চাষ থেকে সরে আসছে চাষীরা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

চাষীরা চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানিও কমছে। মূলত জমির ভাড়ার বেশি মূল্য, লোনাপানি তুলতে বাধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভাইরাস নামক রোগে চাষিদের বাগদা চিংড়িগ চাষে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্রে মন্দাভাবের কারণে গলদা চিংড়ির দাম অর্ধেক নেমে আসায় রফতানির পরিমাণ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিংড়ি চাষিরা আমনের বাম্পার ফলনের পর এখন ইরি-বোরো চাষেই বেশি আগ্রহী। মৎস্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে প্রধান চিংড়ি চাষপ্রবণ এলাকা হচ্ছে মূলত বৃহত্তর খুলনাঞ্চল। উপকূলীয় ওই এলাকায় ব্যাপক হারে গত দুই যুগ ধরেই চিংড়ি চাষ হয়। চিংড়ি চাষের কারণে ওই অঞ্চলে গত দেড় যুগে একের পর এক ফিস প্রোসেসিং কালচার, মাছ কোম্পানি, ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে ওঠেছে। সেখান থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার চিংড়ি মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিদেশে রফতানি হয়। কিন্তু গত অর্ধযুগে চিংড়ি চাষে প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইলা ও সিডরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চিংড়ি চাষে ধস নামে। শুরু হয় চিংড়ি ঘেরে চিংড়ি চাষের সাথে সমন্বিত ধান চাষ। ছোট ছোট চিংড়ি ঘেরে গত ৬/৭ বছর বোরো চাষে ব্যাপক সফলতা আসে। যে কারণে গত অর্ধযুগে চিংড়ি চাষিরা আবার ঝুঁকে পড়েছে ইরি-বোরো চাষে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপে বিত্তবানরা আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছে। লোনা পানি তুলতে বাধা এবং রোগ বালাইয়ের কারণে ছোট ছোট ঘেরগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরে খুলনা জেলার ৯ উপজেলায় ১৩ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গলদা এবং ১০ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন বাগদা উৎপাদন হয়। ২০১৬-’১৭ অর্থ বছরে গলদার উৎপাদন ১৩ হাজার ৬৬৭ মেট্রিক টন এবং বাগদার উৎপাদন ১২ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন। আর জুলাই মাসে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার ডলার, আগস্ট মাসে ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮১ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার, অক্টোবর মাসে ৩ কোটি ১১ লাখ ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২ কোটি ৪২ লাখ ২২ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিকারক দেশগুলো হচ্ছে নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, ডেনমার্ক, সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইটালী, জার্মাণ, জাপান, পর্তুগাল,গ্রীস, সুইজারল্যান্ড, লিথুনিয়া, স্পেন ও পোল্যান্ড।

সূত্র আরো জানায়, চিংড়ি চাষপ্রবণ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে বোরো ধানের চারা উৎপাদন ভালো হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তার চেয়ে শতকরা ১০/১২ ভাগ চারা বেশি উৎপাদন হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চারা উৎপাদনে কৃষকের মুখে এখন নতুন স্বপ্নের এবং আনন্দের হাসি। খুলনা মেট্রোসহ জেলার ৯ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। ধান চাষে চাষীদের বেশি আগ্রহ চিংড়ি চাষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য মান উন্নয়নের উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউকেতে গলদার চাহিদা কমেছে। গেল অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের এই ক’ মাসে ১১শ’ মেট্রিক টন কম হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি গলদার দাম কমেছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ