September 20, 2019, 1:04 am

শিরোনাম :
ভোলা লালমোহনে নাতনীর সাথে অসামাজিক কাজের চেষ্টা,এবং দাদা আটক কেশবপুরে অধ্যক্ষের দূর্ণীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা প্রভাষককে মারপিট নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই সুন্দরগঞ্জে পোনা মাছ অবমুক্ত করণ ২০ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে নোঙর করেছে জাহাজ এমভি ঝিং হাই টং-৮ আলফাডাঙ্গায় আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা লালপুরে ডাকাতির নাটক সাজাতে গিয়ে বিকাশ কর্মীসহ আটক ২ লতিফিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সংবর্ধনা সম্পন্ন সহকারী শিক্ষকদের ১১ তম ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ তম গ্রেডের দাবিতে আলফাডাঙ্গায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মানব বন্ধন শৈলকুপা পৌর ভবন থেকে বিপুল পরিমান ভিজিএফ’র চাউল জব্দ শৈলকুপায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের দাবিতে মানববন্ধন

কোচিং-নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্নফাঁস বন্ধে দুদকের ৩৯ দফা সুপারিশ

Spread the love

কোচিং-নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্নফাঁস বন্ধে দুদকের ৩৯ দফা সুপারিশ

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

কোচিং বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে ৩৯ দফা সুপারিশ করেছে দুদকের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম। দুর্নীতির উৎস, কারণ এবং তা প্রতিরোধে সুপারিশমালাসহ তারা একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে কমিশনে। আর এই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার অনুমোদন দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশগুলো মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, চেয়ারম্যান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং প্রধান প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবরে প্রেরণ করেছে দুদক। বুধবার দুদকের নির্ভরশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সুপারিশমালায় স্বাক্ষর করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। প্রশ্নফাঁস বন্ধে ৮টি সুপারিশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ডের সম্ভাব্য দুর্নীতির উৎস উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি এবং পরীক্ষা কেন্দ্র, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র। ফলে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। কোচিং এবং নোট-গাইড বাণিজ্য বন্ধে ৮টি সুপারিশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রেণি কক্ষে ঠিক মতো পাঠদান না করা, পাঠ্য পুস্তক, কোচিং মালিক এবং কতিপয় শিক্ষকের অবৈধভাবে স্বল্প সময়ে সম্পদ অর্জনের তীব্র আকাক্সক্ষা, শিক্ষা কার্যক্রমের মনিটরিংয়ের অভাব এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা ইত্যাদি দুর্নীতির মূল উৎস। এটা বন্ধ করতে না পারলে সামনে আরও ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করবে। বেসরকারি অর্থাৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বন্ধে সুপারিশ করে এই খাতে দুর্নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক-প্রিন্সিপাল, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এমপিওভুক্তিকরণ, বোর্ড পরীক্ষার সময় ফরম পূরণে-কোচিং ফি, হোস্টেল-ভবন সংস্কার, শিক্ষা সামগ্রী ক্রয়, উন্নয়নসহ বিভিন্ন মনগড়া খাত সৃষ্টি করে অর্থ আদায়, নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অনুরূপভাবে ভর্তির সময় বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এ ছাড়া ল্যাবরেটরি ফি, মডেল টেস্টের ফি এর নামে অর্থ আদায়কেও দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুর্নীতি বন্ধে সুপারিশ মালায় বলা হয়েছে, পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণের টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিভিন্ন কমিটি গঠন, পাঠ্য বইয়ের পান্ডুলিপি কতিপয় প্রকাশকদের নিকট অননুমোদিতভাবে সরবরাহ, অবৈধ কোচিং বাণিজ্য প্রসারের জন্য বইয়ে তথ্য সংক্ষিপ্তকরণ, স্বনামে-বেনামে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি দুর্নীতির কারণ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি যেমন-টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, নেগোসিয়েশনের নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সাপোর্টিং বা এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেওয়া, মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ,ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক বেনামে অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করা দুর্নীতির উৎস হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকএবং উচ্চ শিক্ষার পলিসিসহ সকল কার্যক্রম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিচালনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন পথে পরিচালিত হবে তার নিয়ন্ত্রক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বছরের শুরুতেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া, নারী শিক্ষা প্রসারে যুগান্তকারী কিছু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের ঈর্ষণীয় সাফল্য থাকলেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং বাণিজ্যের প্রসার, নোট-গাইডের ব্যাপক প্রচলন, শিক্ষক বদলি ও পদায়নসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতিবাচক আলোচনায় মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ