June 13, 2019, 4:52 pm

শিরোনাম :
হোমিওপ্যাথি ঔষুধ খাওয়ার সময়ে এই ১০টি নিয়ম না মানলে হতে পারে আপনার সর্বনাশ কারো যদি ডায়াবেটিস হলে কি করবেন হাকিমপুরে মাদকসহ এক নারী আটক গাবতলীর কাগইলে ইজারাকৃত জলমহলে পোনা মাছ অবমুক্ত করন পাইকগাছায় বই-পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ সুন্দরগঞ্জে বেইজলাইন ফাইন্ডিং শেয়ারিং কর্মশালা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী টি জামান নিকেতাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাটি, একথা এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না-ডাবলু বগুড়া সদরের গোকুলে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীতাহানী থানায় অভিযোগ ডৌবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্র জমিয়তের ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা

কে রুখবে বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য? বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পর্যটকদের সাথে প্রতারণা

Spread the love

আনু আনোয়ার, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

পর্যটকসহ যাত্রীদের সাথে দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিকদের প্রতারণা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।বরিশাল,পটুয়াখালী ও বরগুনা লোকাল বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য ক্রমে বেড়েই চলছে। বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে পর্যটকদের কুয়াকাটার কথা বলে বাসে উঠিয়ে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে পথিমধ্যে। অচেনা অজানা এ পথে পর্যটকসহ যাত্রীদের প্রতিদিন এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন সরকারী বন্ধের সময়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুন ভাড়া নেয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। অন্যদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, এ পথে চলাচলকারী বাস গুলো বিভিন্ন রুটে চলাচল করলেও প্রতিটি বাসেই কুয়াকাটা লেখা থাকায় বেশিরভাগ পর্যটকরাই না বুঝে বাসে উঠে বাস শ্রমিকদের প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে।এধরনের প্রতারণার কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও তাদের পড়তে হয় বাস শ্রমিকদের রোসানালে। এসব অনিয়ম ও প্রতারণার প্রতিবাদকারীদের বাস শ্রমিকদের দ্বারা লাঞ্চিতসহ শাররীক ভাবেও হেনস্তা হতে হয়। এ পথে চলাচলকারী পর্যটক ও যাত্রীরা জানান দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিকদের এমন নৈরাজ্য দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। সূর্যোদয় সূর্যাস্তে বেলাভূমি কুয়াকাটার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিকদের প্রতি প্রতিনিয়ত নেতিবাচক ধারণা তৈরী হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে কুয়াকাটার উপর। পটুয়াখালী,বরিশাল ও বরগুনা বাস শ্রমিক ও মালিক সিন্ডিকেট এর এমন প্রতারণা দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে জেলা ও উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিং এ একাধিকবার আলোচনা হলেও প্রশাসন বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য ও প্রতারণা ঠেকাতে ব্যার্থ হয়েছে। পরিবহন এর সাথে একাধিক ব্যাক্তিরা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান,দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিক ও মালিক সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী। এ সংগঠনের নেতৃত্বের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। যার কারনে এদের অনিয়ম ও নৈরাজ্য ঠেকাতে পারছে না কেউ।গত ৮ মে আমতলী থেকে কুয়াকাটার কথা বলে বাসে তোলেন পর্যটক রতন খান, নুর আলম, সুমন, মাঈনউদ্দিন, শফিকুল ইসলামসহ আরো অনেককে। কলাপাড়া ব্রীজের কাছে এসে গাড়ী নষ্ট হয়েছে বলে পর্যটকদের নিউ মায়ের দোয়া পরিবহনে উঠিয়ে দেয়া হয়। এসময় বলে দেয়া হয় ভাড়া দেয়া লাগবে না। ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে চলন্ত বাসে অবস্থানকালে পর্যটকসহ যাত্রীদের ওপর বাসের চালক, সুপারভাইজর, হেল্পারসহ শ্রমিকরা হামলা ও রোলার দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। এ ঘটনায় পর্যটক রতন খান, শফিকুল ইসলাম ও অপর এক যাত্রী রহিম আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বাস শ্রমিকরা পর্যটক ও স্থানীয়দের রোসানলে পরে এবং উতপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় পর্যটকসহ যাত্রীদের সাথে অসৌজন্য আচরন এবং রোলার দিয়ে পেঠানোর ঘটনা ওইদিন কুয়াকাটায় অবস্থানরত কয়েক হাজার পর্যটকদের মাঝে জানাজানি হয়ে যায়। এ ঘটনায় রীতিমত বাসযাত্রী ও পর্যটকরা হতবাগ হয়ে যায়।এ বিষয়ে কথা হয় পটুয়াখালী জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মাহবুব আলম রনি মৃধার সাথে।তিনি সড়কের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে থাকা ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা পুলিশকে দুষলেন। রনি মৃধা বলেন, সড়কে পুলিশের দ্বায়িত্বহীনতার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, অতিরিক্ত ভাড়া ও বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। পুলিশ বাস শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে বাস শ্রমিকদের অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসন সহযোগিতা না করায় বাস শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না তারা।এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন,যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়,যাত্রীদের মারধর করা এবং সড়কে বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্যের বিষয়ে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১১জুন ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ