July 14, 2019, 8:14 pm

শিরোনাম :
সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট ও বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর মৃত্যুতে কৃষি মন্ত্রী ড.মো:আব্দুর রাজ্জাক এম.পি গভীর শোক ১নং ইসলাম পুর ইয়নিয়নের বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম ত্রান বিতরন সুপার ওভারের রোমাঞ্চে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ওয়ারেন্টভুক্ত পৃথক মামলার ২আসামীকে গ্রেফতার করেছে তানোর থানা পুলিশ বিদেশী পিস্তলসহ এক যুবক গ্রেফতার কামরাঙ্গীরচর থেকে মাদক কারবারি আটক রুদ্ধশ্বাস জয়ে ইংল্যান্ডের স্বপ্নের শিরোপা বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে প্রথম সুপার ওভার রাজশাহীতে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই

কেশবপুরে রাস্তার পুরাতন পাথর, খোয়া, বালি দিয়ে চলছে রাস্তা সংস্কার কাজ ধীরগতিতে জনদূর্ভোগ চরমে

Spread the love

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) থেকেঃ

যশোরের কেশবপুর ভায়া চিংড়া সড়ক সংস্কার কাজে রাস্তা খুড়ে সংগ্রহ করা পুরাতন

পাথর, খোয়া, বালি, মাটি মিশ্রন (ওয়েস্টেস) ব্যবহার করা হচ্ছে। অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ সড়কের সংস্কার কাজ ধীর গতিতে চলায় জনগন চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কেশবপুর হাসপাতাল সংলগ্ন কালাবাসার মোড় থেকে বায়সা মোড় পর্যন্ত সড়কটি শক্ত, মজবুত ও তুলনামূলক ভাল থাকার পরও তা খুড়ে সংস্কার করা হচ্ছে। কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড় থেকে বায়সা মোড় পর্যন্ত অত্যান্ত শক্ত ও মজবুত সড়ক খুড়ে সংস্কার করায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, কেশবপুর ভায়া চিংড়া সড়কের শ্রীরামপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং ওঠে যাওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হাসপাতাল সংলগ্ন কালাবাসার মোড় এবং সড়কে পানি বেধে থাকার কারণে বায়সা মোড় থেকে শ্রীরামপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং ওঠে যাওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়ে। ফলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত নয়শ মিটার ড্রেন এবং কেশবপুর ত্রিমোহিনী মোড় থেকে চিংড়া পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের টেন্ডার আহবান করে। আর এ কাজের ঠিকাদারি পায় মেসার্স মোজাহার এন্টার প্রাইজ। চলতি বছরের ১৬ মার্চ ড্রেন নির্মাণ ও কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড় থেকে শ্রীরামপুর বাজার পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ উদ্ভোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান। ১৬ মার্চ ড্রেন নির্মাণ ও মার্চের শেষ সপ্তাহে শহরের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ সড়কটি খুড়া শুরু করে। মাটি কাটা ম্যাশিন দিয়ে সড়কটি দু’ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। খননকৃত কার্পেটিং এর পাথর, খোয়া, বালি, মাটি, ইট এক সাথে গাড়িতে করে ভোগতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে রাখা হচ্ছে। আর এগুলো থেকে ইট আলাদা করে ভেঙ্গে খোয়া বানানো হচ্ছে। খনন করা দু’ফুট জায়গা প্রথমে ৮/১০ ইঞ্চি বালি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এরপর বাকিটুকু রাস্তা খুড়ে সংগ্রহ করা পুরাতন পাথর, খোয়া, বালি, মাটি মিশ্রন (ওয়েস্টেস) দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি কাটা ম্যাশিন দিয়ে খুড়া হয়। এরপর ইটের খোয়া, বালি, সিমেন্টের মিশ্রন দিয়ে ড্রেনের তলা ঢালাই দেয়া হয়। এরপর ৮ ইঞ্চি অন্তর ১০ মিলি রড বুনে পাথর, সাদা বালি, সামান্য কিছু সিলেকশন বালি, সিমেন্টের মিকছার তৈরি করে ড্রেনের দুপাশ ঢালাই দেয়া হয়। ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি চিংড়া থেকে শ্রীরামপুর বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে। ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়া সড়কের শ্রীরামপুর রিশি পাড়া নামক স্থানসহ বেশ কয়েক জায়গার কার্পেটিং উঠে গেছে ।এদিকে ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হামপাতাল পর্যন্ত নয়’শ মিটার সড়ক অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম। এ সড়কের দু’পাশে একটি সরকারী হাসপাতাল, প্রাণী সম্পাদ অফিস, পোষ্ট অফিস, বীজ অফিস, খাদ্য গুদাম, ব্যাংক বিমা অফিস, চার শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্টান, সরকারী হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ১০/১৫ টি ক্লিনিক/প্যাথলজি, অর্ধশত ঔষধের দোকান। এছাড়া কেশবপুর উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী মনিরামপুর, কলারোয়া, তালা উপজেলা একাংশের হাজার হাজার মানুষকে প্রচন্ড গরমে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগারিার শিকার হয়েছে। প্রধান সড়ক বন্ধ থাকায় বাইপাস সড়কে বাস ট্রাক, ইজ্ঞিন চালিত যানবাহন চলাচলের কারণে ঔ সব সড়কে ব্যাপক যান জটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ঠিকাদারদের গড়িমসিতে সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বাজারের ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। দুই মাসেও হাসপাতাল পর্যন্ত মেকাডামের কাজ শেষ করতে পারেনি।কেশবপুর শহরের সবচেয়ে ব্যবস্থতম এ সড়ক সংস্কারের কাজ গত মার্চে শুরু হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা জেছে। ফলে হাসপাতাল, ক্লিনিকে আসা রোগিসহ এ সড়কে চলাচলকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। এতে ব্যবসায়ি, ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ কারণে সড়কের দুপাশের ব্যবসায়ি, ক্রেতা রোগি ও পথচারিদের মারাত্বক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টার প্রাইজের এ কাজের দায়িত্বরত ম্যানেজার রামপ্রসাদ সরকার জানান, কাজের টাইম লাইনের এখনো আট মাস সময় আছে। রাস্তাটি খুড়ার সময় পিচের নিচে তিনটি স্তর পাওয়া যাওয়ায় কাজের অগ্রগতি কম হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাচ সম্পন্ন করতে। এ ছাড়া কোরবানির ঈদের আগে হাসপাতাল পর্যন্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে । সড়কের ব্যবসায়ি শহিদ হাসান জানান, ঠিকাদারদের গাফিলতির কারনে সড়ক সংস্কার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে বাজারের ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। তিনি জানান. সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরী।যশোর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ও ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হাপাতাল পর্যন্ত নয়শ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। অগ্রগতি হয়েছে ৩০ শতাংশ। কেশবপুর শহরের সবচেয়ে ব্যবস্ততম সড়কটির সংস্কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৭জুলাই ২০১৯/ইকবাল

Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ