October 21, 2019, 2:06 am

কেরানীগঞ্জে নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী তৈরি হয় বিভিন্ন কারখানায়

Spread the love
শাহিন আহম্মেদ, কেরানীগঞ্জ ( ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী তৈরি হয় কেরানীগঞ্জের কারখানায়। এরপর এগুলো চকবাজারে এনে গুদামজাত করা হয়।এরপর সুযোগ বুঝে তা ছড়িয়ে দেয়া হয় নগরীরর বিভিন্ন বিপণিবিতান, সুপারশপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহর ও মফস্বলের দোকানে।গত মঙ্গলবার চকবাজারের এমন তিনটি গুদামে এবং বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের দায়ে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।সিলগালা করে দেয়া হয় গুদাম ও দোকানগুলো। জব্দ করা হয়েছে দুই কোটি টাকার নকল প্রসাধনী। অভিযানে নকল প্রসাধনী ছাড়াও গুদামে শিশু ও বয়স্কদের ডায়াপার, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ এমন কিছু পণ্য পাওয়া গেছে, যার কোনোটিরই মেয়াদ ছিল না। এসব পণ্যে নতুন করে মেয়াদ বসিয়ে বাজারজাত করা হয়।অভিযান শুরুর পর মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে চকবাজারের কামালবাগ এলাকায় একটি গুদামে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী খুঁজে পায় র‌্যাব। তাদের কাছে তথ্য ছিল, এগুলো নকল প্রসাধনী।তবে গুদামের মালিক ফারুক আহমেদ দাবি করেন, এগুলো নকল নয়। এগুলো তিনি ভারত থেকে আমদানি করেছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল ইউনিলিভারের পন্ডস ক্রিম, জনসন অ্যান্ড জনসনের ফেস ওয়াসসহ নারীদের নানা ধরনের প্রসাধনী।পরে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের অনুরোধে ঘটনাস্থলে আসেন ইউনিলিভারের একজন কর্মকর্তা। পণ্য দেখে তিনি বলেন, সব পণ্যই নকল। ভারতীয় ইউনিলিভারের পণ্যের মোড়কের সঙ্গে জব্দ করা পণ্যের মোড়কের অসঙ্গতি আছে।পরে নকল প্রসাধনী গুদামজাত করা ও বিক্রির অপরাধে সাপুয়ান এন্টারপ্রাইজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের ছয়জনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।এরপর কামালবাগ এলাকার আরেকটি গুদামে গিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন খুঁজে পায় র‌্যাব। এসব ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সাদা প্লাস্টিক মুড়িয়ে মাটিতে ফেলে রাখা ছিল। সেখানে নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক পাওয়া যায়।এছাড়া অন্তত ৩০ কার্টন ডায়াপার পাওয়া যায়, যেগুলোর মেয়াদ গত বছরই শেষ। মোড়কে নতুন করে তারিখ বসানোর যন্ত্র ও রাসায়নিক ওই গুদামে পাওয়া যায়। পরে আজিম ট্রেডিং নামের এই প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আজিমকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।বিকালে চকবাজারের সোয়ারীঘাট এলাকায় বিআর প্লাজায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। সেখানে তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে নকল প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়। নিউ মা ইমিটেশন জুয়েলারি নামের দুটি দোকানে অভিযান শুরু হয়।অভিযানে থাকা র‌্যাব সদস্যরা বলছেন, দুটি দোকানের সব প্রসাধনীই নকল। দীর্ঘদিন ধরে দোকানগুলোর মালিক সুশান্ত দেবনাথকে তারা খুঁজছেন। অভিযানে দোকানে মালিককে খুঁজে পান তারা।দোকানের মালিক এসব প্রসাধনী কেরানীগঞ্জ থেকে এনেছেন বলে স্বীকারও করেন। পরে দোকানিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক দোকানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও মো. রায়েল নামের একজনকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।ওই দুই দোকানের সব মালামাল জব্দ করার পাশাপাশি সিলগালা করে দেয়া হয়। এরপর বিআর প্লাজায় রফিক ব্রাদার্স ও সালমান এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেও নকল প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়।এসব দোকানে বিদেশি ব্র্যান্ডের ৪৪টি নকল পণ্য খুঁজে পায় র‌্যাব। পরে প্রসাধনী জব্দ করে রফিক ব্রাদার্সের মালিককে ১ বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং সালমান এন্টারপ্রাইজকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।দোকানগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম বলেন, কেরানীগঞ্জের বড়িসুর এলাকার কারখানায় তৈরি করে এসব নকল প্রসাধনী চকবাজারের গুদামে আনা হয়।গত মঙ্গলবারের অভিযানে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাতজনকে ২ বছর, দু’জনকে ১ বছর এবং একজনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১১জুলাই ২০১৯/ইকবাল
Facebook Comments
Share Button

      এ ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ